Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ :: ৬ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ১২ পুর্বাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / ভারতের জেলে বন্দি কুড়িগ্রামের তিন শতাধিক মানুষ

ভারতের জেলে বন্দি কুড়িগ্রামের তিন শতাধিক মানুষ

Borderসাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম: ‘দুই বচ্চর দুই মাস হইল মোর বাবাক মুই দেখোংনা। এক হিন্দুস্থানি মানুষ বুদ্ধি দিয়া নিয়া গেইছে। বাড়িত না কয়া গেইছে। চিন্তায় চিন্তায় কিছুদিন পর উয়ার বাপও মরি গেইল। তাও দেইখপার পায় নাই। কাগজ গেইলে বোলে ছাড়ি দেয়। সেই কাগজ বোলে পোংছেনা। বাবার চিন্তায় মুইয়ো মরিম বাবা। মোর বাবাক তোমরা আনি দেও।’ এমন আকুতি ভারতের জেলে বন্দি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর গ্রামের মজনুর মা জমিলার।

কাজের সন্ধানে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে বা কাজ করে ফিরে আসার পথে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে ভারতের বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছেন কুড়িগ্রামের তিন শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে অনেকের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দেশে ফিরতে পারছে না।

সীমান্তবাসী জানান, আমন ও বোরো ফসলের মধ্যবর্তী কয়েক মাস হাতে কোনো কাজ থাকে না। তাই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীর কয়েক হাজার দিনমজুর প্রতিবছর দালালদের মাধ্যমে কাজের সন্ধানে ভারতে পাড়ি দেয়। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় বিএসএফ দিনমজুর অনেককেই ধরে পুলিশে দেয়।

সীমান্ত সূত্র জানায়, দালালদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পরিবার-পরিজনসহ অনেকেই ভারতে যেতে পারলেও কারো কারো বেলায় ঘটে বিপত্তি। ভারতে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে অনেকেই পরিবার-পরিজনসহ হাজতবাস করছেন। অনেকে দুই-এক বছর আয়-রোজগার করার পর টাকা-পয়সা নিয়ে দেশে ফেরার পথেও ধরা পড়ে সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে এসব দরিদ্র মানুষ ভারতে পাড়ি জমালেও অনেকেই স্ত্রী-সন্তানসহ জেলে দুঃসহ জীবন কাটচ্ছেন। বন্দির পরিবারের অনেকের অভিযোগ, দালাল ও লাইনম্যানরা টাকা-পয়সা কম পেলে বিএসএফকে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেয়। আবার পারাপারের জন্য টাকা নিয়ে ‘লাইন কিয়ার’ দিতে না পারায় বিএসএফের হাতে ধরা পড়তে হয়। নারীদের অনেকেই হারান সম্ভ্রম। ফেলানীর মতো কারো কারো ভাগ্যে জোটে সীমান্তরীদের নির্মম বুলেট।

জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, দিনহাটা, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, বহরমপুর ও বালুরঘাটসহ বিভিন্ন জেলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারীসহ বিভিন্ন উপজেলার তিন শতাধিক মানুষ বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেরই সর্বোচ্চ দুই বছর সাজা ভোগের পরও আইনি জটিলতায় দেশে ফিরতে পারছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি হাইকমিশন এ ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে ওঠায় পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ হাতে পেয়ে ভারতীয় কর্তৃপ কাউকে কাউকে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও এই প্রক্রিয়াও মন্থর বলে স্বজনদের উৎকণ্ঠা কমেনি।

গত এক বছরে সাজা শেষে ফিরে এসেছে বেশ কয়েকজন। এদের একজন অনন্তপুর সীমান্তের আলেফ আলী। দেড় মাস আগে মুক্তি পেয়ে তিনি স্বজনদের কাছে ফিরে এসেছেন। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও মুক্তি না পাওয়ায় অনশন পর্যন্ত করতে হয় তাকে। আলেফ জানান, ভূরুঙ্গামারীর খাটামারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ভারতীয় জনগণ তাকে ধরে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। ১০ মাস ধরে চলে তার বিচার কার্যক্রম। এরপর তাকে ২৫ মাসের সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু সাজার মেয়াদ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই- এমন অভিযোগে তাকে আটকে রাখা হয়। তার মতো আরো ৪১ জন ভাগ্যাহত বাংলাদেশি মুক্তির দাবিতে জেলে অনশন শুরু করলে তাকে মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।

কুড়িগ্রাম-১ সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, প্রতি বছর সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় অনেকে ধরা পড়ে জেলে যাচ্ছে। তবে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দিদের ভারতের জেল থেকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful