Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ২ : ০৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / এক রক্ত, এক বংশ তবু কেন আমরা আলাদা?

এক রক্ত, এক বংশ তবু কেন আমরা আলাদা?

Thakurgaon milon mala pic-4রবিউল এহসান রিপন, ঠাকুরগাঁও : ভারত সীমান্তে দাদা আব্দুল কাদের আর বাংলাদেশ সীমান্তে নাতনি মারুফা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে দু’জন দু’জনের সঙ্গে কথা বলছেন, একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে থাকলেও পারছেন না, বাধা হয়ে দাড়িয়েছে মাঝের কাঁটাতারের বেড়াটি। 

‘‘ইচ্ছে হচ্ছিল, দাদাকে ছুঁয়ে দেখি। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে অনেক চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ছুঁতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, দাদাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করি। তাহলে হয়তো দীর্ঘদিনের জমে থাকা কষ্টগুলো থেকে রেহাই পেতাম। এক রক্ত, এক বংশ তবু কেন আমরা আলাদা? নিজের মানুষকে দেখবো, কেন এতো জটিলতা? এটা কেন সহজ করা হয় না? এভাবে কথা বলে যে আমি শান্তি পেলাম না।’’ ওপারের সীমান্তে আসা দাদাকে দেখতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নাতনি মারুফা।
ভারতের নদীয়া জেলার মুরুঠিয়া থানার রশিকপুর থেকে বাংলাদেশি নাতনী মারুফাকে দেখতে ছুটে আসেন আসেন দাদা আফসার শেখ। আর নাতনি মারুফা বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলা থেকে স্কুলশিক্ষক বাবাকে নিয়ে ছুটে যান দাদাকে দেখতে।
শুধু দাদা আফসার আর নাতনি মারুফিই নন। শুক্রবার তাদের মতো হাজার হাজার মানুষ তাদের স্বজনদের এক পলক দেখতে ছুটে যান ওই সীমান্তে।
এই দিনের উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তে নাগর নদীর পাড়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বসে দুই বংলার মানুষের মিলনমেলা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বসে এ মেলা।
উষা ও নিরলার ভাই বিশ্বনাথ থাকেন শিলিগুড়িতে। ভাইয়ের জন্য পিঠা এনেছেন। কথা হলেও নিজ হাতের তৈরি পিঠা দিতে পারেননি। তবুও দেখার আনন্দ নিয়ে বিদায় নিলেন তারা।
রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর থেকে মাধবী রানী এসেছেন ভারতের কাকরমনি গ্রামে থাকা মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। মায়ের সাথে দেখা করার অনুভূতি করতে গিয়ে মাধবী বলেন, বিয়ের পর এই প্রথম মাকে দেখলাম। তবে তেমন কথা হয়নি। অসুস্থ মাকে একনজর দেখে এলাম। এখন একটু ভালো লাগছে।
হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন ফেরদৌস টগর বলেন, হরিপুর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। এ কারণে দেশ বিভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর এদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারেনা। অপেক্ষা করে থাকে এই দিনের।
দুই দেশের ভৌগলিক সীমারেখা আলাদা করা হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে। কিন্তু সে কাঁটাতার আলাদা করতে পারেনি দুই দেশের মানুষের ভালবাসার টান। সুযোগ পেলেই এ টানেই তারা ছুটে যায় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে, মিশে যান একে অন্যের সঙ্গে।
অনেকদিন পর আপনজনের দেখা পেয়ে আবেগে কেঁদেকেটে বুক ভাসান আর বুক হালকা করেন অনেকে। বিনিময় করেন মনের জমানো হাজারো কথা।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful