Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ৫৫ অপরাহ্ন
Home / রকমারি / উচ্চতর ডিগ্রি নিতে এসে ককটেল কারিগর!

উচ্চতর ডিগ্রি নিতে এসে ককটেল কারিগর!

koktelডেস্ক; আলতাফ হোসেন চৌধুরী। উচ্চতর ডিগ্রি নিতে ফেনী থেকে চট্টগ্রামে আসে। ভর্তি হয় চট্টগ্রাম কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। জড়িয়ে পড়ে শিবিরের রাজনীতিতে। এখন সে চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের বোমা কারিগরদের তত্ত্বাবধায়ক। বিস্টেম্ফারক, পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর, নাশকতাসহ ৭ মামলার আসামি সে। আলতাফের সঙ্গে ককটেল তৈরির দলে আছে আরও ১০ সদস্য। তারাও সবাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

পুলিশ ককটেল তৈরির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছে যাদের তাদের মধ্যে আছেথ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ের অনার্স সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র দিদারুল মোস্তফা ওরফে ককটেল দিদার, চট্টগ্রাম কলেজের ভূগোলের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আজগর হোসেন ওরফে ককটেল আজগর, রুবায়েত আলভী চৌধুরী, ফয়সাল আহমদ, শেখ নসুরল্লাহ, মহসিন, আলাউদ্দিন, আবু বক্কর ও বোমা মানিক। ককটেল তৈরি করতে এদের অর্থ দিচ্ছে কাউন্সিলর মাহফুজুল আলম ও শামসুজ্জামান হেলালী।

চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বনজ কুমার মজুমদার  বলেন, জামায়াত-শিবিরের বোমা কারিগর আজগর, দিদার, আলতাফ, মানিকসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের পুরো গ্র“পটি ধরতে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘কাউন্সিলর হেলালী ও মাহফুজের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের বোমা তৈরির কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, গ্রেফতারও করেছি।’ খুলশী থানার ওসি মাঈনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘বোমা মানিককে বোমা, ককটেল তৈরিতে কাউন্সিলর মাহফুজ অর্থ দিয়ে সহায়তা করত বলে তথ্য রয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নগরীর পাঁচলাইশ থানা জামায়াতের আমির ও কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মারামারিই পছন্দ করি না। বোমা তৈরি, ককটেল হামলাসহ এ জগতের সঙ্গে মানসিক সর্ম্পকও নেই। তাই শিবিরের অনেক ছেলে আমাকে ভুল বুঝছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশ্নই ওঠে না।’ একই প্রসঙ্গে শিবিরের আজগর হোসেন ওরফে ককটেল আজগর বলে, ‘আমি ককটেল কারিগর নই। শুধু শিবির করি। তাই রাজনৈতিক কারণে আমাকে পুলিশ ককটেল কারিগর বানিয়ে দিয়েছে।’

সাধারণ ছাত্র থেকে তারা যেভাবে অন্ধকার জগতে :চট্টগ্রাম কলেজে ভূগোল বিভাগে পড়াশোনার সময় আজগর হোসেনের পরিচয় হয় শিবির কর্মী আলতাফ হোসেনের। আলতাফ তাকে দলে ভেড়ান। সাহসী ছেলে হিসেবে পরিচিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের ছাত্র দিদারুল মোস্তফাকেও দলে যুক্ত করে। ২০ আগস্ট সকালে নগরীর আসকার দীঘির পাড়ে ককটেল বিস্টেম্ফারণের মহড়া দিয়ে প্রকাশ্যে আসে আলতাফ, আজগর ও দিদার। ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর বের হয়ে আসতে থাকে শিবিরের বোমা-ককটেল কারিগরদের চাঞ্চল্যকর তথ্য। নগরীর আতুরার ডিপো থেকে ককটেল ছুড়ে মারার সময় আইইউবির বিবিএর ছাত্র ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান বায়েজিদ থানার ওসি সাইরুল ইসলাম।

কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আজগর ও দিদার বোমা বানায়, সে বোমা নাশকতার জন্য জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের সরবরাহ করে। পুলিশের কাছে তাদের বোমা মারার অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ ও ছবি আছে।

মাদ্রাসার ছাত্র থেকে বোমা কারিগর : ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল লতিফ আদর্শবান ছেলে তৈরিতে শেখ নসরুল্লাহকে ভর্তি করেন নগরীর দারুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসায়। পাস করেন দাখিল, আলিম ও ফাজিল। তবে শিবিরের সাথী হয়ে নেতাদের প্ররোচনায় বোমা তৈরির পাঠ নেয়। এরপর দলের জন্য বোমা-ককটেল তৈরিও করে। ২৩ অক্টোবর রাতে বাকলিয়ার রসুলবাগ আবাসিক এলাকার নসরুল্লাহর বাড়িতে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গান পাউডারসহ প্রচুর বিস্টেম্ফারক জব্দ করে। বাকলিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘নসরুল্লাহ মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় থেকেই শিবিরের নাশকতার সঙ্গে যুক্ত। সে শিবিরের ককটেল তৈরির কারিগর।

আবাসিক ফ্ল্যাটে কারখানা, মেসে বোমা বানায় বক্কর :নগরীর পশ্চিম মোহরার কুলাপাড়ার আজিজ টাওয়ারের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে শিক্ষার্থী পরিচয়ে থাকতেন রুবায়েত আলভী চৌধুরী, জয়নাল, এহসানসহ ছয় শিবির ক্যাডার। ৩ জুলাই পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে চারটি ককটেল, ৩টি চকোলেট বোমা, বিস্টেম্ফারকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে বোমা কারিগর চকরিয়ার ডেমুশিয়া গ্রামের রুবায়েত আলভী চৌধুরীকে। অন্যদিকে মুরাদপুরে চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি মেসে বোমা তৈরি করতেন আবু বক্কর। ২০ ফেব্র“য়ারি আটটি চকোলেট বোমা, ছয় কার্টন বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১০ লিটার অকটেনসহ মেস থেকে বক্করকে গ্রেফতার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

ককটেলের ঘাঁটি বাদুরতলা :৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী বসবাস করেন বাদুরতলার আরাকান সোসাইটিতে। এ এলাকার বাসা ও ফ্ল্যাট বাড়িতে রয়েছে শিবিরের মেস। জামায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা হলেই এ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিকা-, নাশকতা করে ত্রাস সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবির।

১১ এপ্রিল একটি মেস থেকে ককটেল তৈরির সময় শিবিরের বোমা কারিগর মহসিন ও আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে মাত্র পাঁচ মিনিটে হাতবোমা ও ককটেল তৈরি করে জামায়াত ক্যাডার ‘বোমা মানিক’। ফ্ল্যাক্সিলোডের ব্যবসা ছেড়ে তাই হয়ে যায় জামায়াতের বোমা কারিগর। বোমা মানিক জানায়, ‘মাহফুজের হাত ধরে জামায়াতের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি।’

এ ছাড়া জামায়াতের দুই কাউন্সিলর মাহফুজুল আলম ও শামসুজ্জামান হেলালীর বিরুদ্ধে বোমা তৈরির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। নাশকতা, পুলিশের ওপর হামলাসহ উভয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। সমকাল

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful