Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৪০ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে খালেদা

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে খালেদা

khaledaডেস্ক: চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঘরে-বাইরের নানা চাপের মধ্যে রয়েছেন তিনি। সরকার যাতে দল ও জোট থেকে কোনো নেতাকে বাগিয়ে নিতে না পারে সে চেষ্টা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। একদিকে দল ও জোট নেতাদের ধরে রাখা অন্যদিকে নির্দলীয় সরকারের দাবি বেগবান করার আন্দোলন চূড়ান্ত অবস্থায় নিয়ে যেতে খালেদা জিয়া সতর্ক অবস্থায় পা ফেলছেন।
খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠজনরা মনে করেন, সরকারের কৌশলের কাছে ন্যূনতম ভুল করলে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ভবিষ্যত্ রাজনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের নতুন মন্ত্রীদের শপথ নেয়ার পরদিন মঙ্গলবার খালেদা জিয়া চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জোটের অবস্থান তুলে ধরতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। সেখানেও খালেদা জিয়া নির্দলীয় সরকার প্রশ্নে অনড় অবস্থানের কথা জানান। রাষ্ট্রপতির কাছে খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে সংলাপে বসতে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই চিঠির কোনো উত্তর পায়নি বিএনপি। এর জবাবে রাষ্ট্রপতি বেগম জিয়াকে এ বিষয়ে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনো চিঠি আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একজন হোস্ট, সবার মতো তার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময় হয়েছে। এখানে সংলাপ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীনরা বিএনপি এবং জোটের কিছু নেতা ও দলকে বাগিয়ে নিতে নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টা এবং আগামী নির্বাচনে চাহিদামাফিক আসনে প্রার্থী করার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, খালেদা জিয়া বিভিন্ন সূত্রে এমন খবর জানার পর বঙ্গভবন থেকে ফিরেই ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে খালেদা জিয়া জোট নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন সরকারের নানা মহল থেকে আপনাদের কাছে নানা অফার আসবে। আপনারা সে অফার গ্রহণ করবেন কি না সেটা একদমই আপনাদের বিষয়। তবে এই অল্প সময়ের জন্য সরকারের সুযোগ গ্রহণ করে জাতীয় বেইমান না হওয়াই ভালো।

জোট নেতাদের খালেদা জিয়া আশ্বস্ত করেছেন, ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। জবাবে জোট নেতারা খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করেছেন, তারা কেউই তাকে ছেড়ে যাবেন না। তবে বৈঠকে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব) অলি আহমেদ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান খালেদা জিয়ার কাছে স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন অফার দিয়ে সরকারের বিভিন্ন মহল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এলডিপি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুর রহমান চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে এলডিপির এই প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়াকে জানান, সরকার তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে যাওয়ার জন্য অফার করেছে। এলডিপি যদি বর্তমান নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেয়, তাহলে একজন মন্ত্রী, একজন উপদেষ্টা পাবেন। আর আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক হিসেবে ১২টি আসনে তাদের প্রার্থী থাকবে। এই অবস্থায়, তার দল ১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে থাকতে চায়; সে ক্ষেত্রে তারা বিএনপির কাছে ১৫টি আসনের নিশ্চয়তা চায়। এ ছাড়া যেসব স্থানে বিএনপির সঙ্গে এলডিপির বিরোধ আছে, তা সমাধানে খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলডিপির নেতারা। এ বিষয়ে শাহাদত হোসেন সেলিম বলেন, নানা চাপেও আমরা বিএনপির সঙ্গে আছি। সে ক্ষেত্রে ১৫টি আসন দাবি করা অযৌক্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার আশ্বাসে এই তালিকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সামাল দিতে নিজেদের মধ্যে সব ধরনের মতভেদ দূর করে দলের কথিত সংস্কারপন্থীদের আরও কাছে টানার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার বাসায় সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে যোগ দেন জহিরউদ্দিন স্বপন, জিয়াউল হক জিয়া, রেজাউল বারী ডিনা, শহিদুজ্জামান, নজির হোসেন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শামিম কায়সার লিংকন। জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের ফলে দলের মধ্যে সম্ভাব্য যে কোনো ধরনের ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি এই দুঃসময়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে সংস্কারপন্থীদের দলে আরও সক্রিয় করতে চায় বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতাদের এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন। নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন এবং সংস্কারপন্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে আমরা মহাসচিবের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছি। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে সংস্কার বিষয়টিকে মুছে দিয়েছেন, বিএনপিরও সে রকম পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, সঙ্কটময় সময়ে যারা দলে ভাঙন তৈরি করেছিল সেই সংস্কারপন্থীদের দলের মধ্যে এতটা গুরুত্ব দেয়ার কোনো মানে হয় না। বরং এটি দলের অন্য নেতাকর্মীদের কাছে একটি ভুল বার্তা পৌঁছাবে এবং এটা দলের জন্য সুখকর কোনো কিছু নাও হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে যারা এত দিন ধরে আন্দোলন করে জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা হয়তো নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এসব নেতাদের অনেক আগেই ক্ষমা করেছিলেন। তারপরও তাদের নিজের এলাকা এবং দলের কেন্দ্রীয় অফিসে আসতে দেখা যায়নি। বরং তারা দলের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থেকেছে।

জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ‘হস্তক্ষেপ’ চেয়েও আশান্বিত হতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া না পাওয়ায় লাগাতার কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। তবে পরিস্থিতি আরও দুএকদিন পর্যবেক্ষণ করে করণীয় নির্ধারণ করতে চায় তারা। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে বিরোধী জোট।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রবিবার হাইকোর্টে বিএনপি নেতাদের জামিন আবেদন করা হবে। তাই সোমবার থেকে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার হরতাল না দিয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

জানা গেছে, সারাদেশে আন্দোলন জোরদার হলেও ঢাকা মহানগর নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাই মহানগরকে আট ভাগ করে আটজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই আট নেতাকে অঞ্চল ভাগ করে দিয়ে চিঠি দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট ও গুলশান, মির্জা আব্বাস মতিঝিল, খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকার দায়িত্বে থাকবেন। মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুস সালামের দায়িত্ব পেয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তেজগাঁও এবং বনানীর দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। সাদেক হোসেন খোকাকে সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, বংশাল, গেন্ডারিয়া ও ওয়ারী এলাকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমানউল্লাহ আমান, লালবাগ, নবাবগঞ্জ ও হাজারীবাগ, বরকতউল্লাহ বুলু উত্তরা, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওইসব এলাকার ছাত্রদল, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গত নির্বাচনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের নিয়ে আন্দোলন সমন্বয় করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না। তফসিল ঘোষণা হলে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকবে, ওই সময় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আঘাত হানলে দ্রুত ‘ফল’ পাওয়া যাবে। দলটির কাছে তথ্য আছে, সোমবার তফসিল ঘোষণা করা হবে। তাই ওইদিন থেকে কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সোমবার রাতে খালেদা জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী রবিবার থেকে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি দেয়ার পরামর্শ দেন অনেকে। কেউ কেউ এবার হরতাল না দিয়ে অবরোধ দেয়ার পক্ষে মত দেন। বিএনপি সূত্র জানায়, তফসিল ঘোষণা করা হলে লাগাতার অবরোধ দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশ অচল করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

সূত্র জানায়, শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক গঠন ছিল অগোছালো। যার কারণে তাদের ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশ সফরে আসায় চলতি সপ্তাহে হরতাল কর্মসূচি দেয়নি ১৮ দল। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া শুধু জোট বা দলের নেতাদেরই নয়, সরকারের বাইরে যেসব দল রয়েছে তাদের আন্দোলনে পাওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখছেন।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রধান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিকল্পধারা সরকারের কোনো অফার গ্রহণ করবে না, এমনকি বিএনপির সঙ্গেও জোট করবে না। তবে হরতালের বাইরে কোনো কর্মসূচি দিলে তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করবে বিকল্পধারা।বর্তমান

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful