Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ :: ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ :: সময়- ৭ : ৪৬ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / রংপুরকে প্রাণঘাতি বায়ুদূষণের হাত থেকে বাঁচাতে হবে

রংপুরকে প্রাণঘাতি বায়ুদূষণের হাত থেকে বাঁচাতে হবে

নজরুল মৃধা
 বায়ু দূষণকারী শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকার চেয়ে রংপুরের অবস্থা খারাপ। সম্প্রতি আতঙ্কিত হওয়ার মত এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

ঢাকা শহরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (বায়ুমান মানমাত্রা) ১১৫ হলেও সাভারে এর পরিমাণ ১৩৫ এবং রংপুরের বায়ুমান মানমাত্রা ১২৮। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও এটাই বাস্তব সত্য বলে মেনে নিতে হবে। বায়ু দূষণের হাত থেকে নিজেকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে ঘুমন্ত রংপুরবাসিকে জেগে উঠতে হবে। আসন্ন পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে সচেতন করতে রাজনৈতিক, সামাজিকসহ সকল-স্তরের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের মতভেদ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে কঠিন ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে রংপুরবাসিকে।

বায়ু দূষণ সম্পর্কে যেটুকু জানাগেছে তা হল,বায়ুদূষণের ঘটনা দুইভাবে ঘটছে। একটি হলো ক্ষুদ্র কণিকার কারণে। আরেকটি হলো নানা কেমিকেল ও দূষিত পদার্থের কারণে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, লেড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও প্রলম্বিত বস্তু কণার কারণে বায়ু দূষিত হয়ে মানবদেহে হানা দিচ্ছে। বর্জ্য, ধুলাবালি, অপরিচ্ছন্নতা, কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদিতে বায়ু দূষিত হয়। বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে বর্জ্যের পাশাপাশি ইটভাটা এবং যানবাহনের জ্বালানি তেলকে দায়ী করা হয়েছে। নির্মাণকাজের কারণে বাতাসে প্রচুর ধুলো যুক্ত হয়ে মানুষের ক্ষতি করছে। এছাড়া নতুন একটি কারণে বাতাস দূষিত হচ্ছে তা হলো বর্জ্য পোড়ানো। একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে রংপুরের বায়ু দূষিত হওয়ার প্রায় সবকটি উপাদানই রয়েছে। তবে বায়ু সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণ। সাধারণ বর্জ্যরে পাশাপাশি মেডিকেল এবং কেমিক্যাল বর্জ্যও রংপুরকে কলঙ্কিত করছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বায়ুদূষণের ফলে মানুষের শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণ হয়। হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া বায়ুদূষণ মাতৃগর্ভে ভ্রæণের ক্ষতিসাধনসহ শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকাশ ব্যাহত করে। এছাড়া আরও অন্যান্য রোগ আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যেতে পারে।
রংপুর নগরীতে লক্ষ্য করা যায় রাস্তার পাশে মানুষ ময়লা আবর্জনা ফেলছে। বায়ু দূষণের হাত থেকে বাঁচতে রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নগরীর ডাস্টবিন গুলো উন্মুক্ত রাখা যাবেনা। যে গাড়িতে করে এই ময়লা আবর্জনা নেয়া হচ্ছে সেগুলোও দিনের বেলায় উন্মুক্ত অবস্থায় নেয়া যাবেনা। কারণ উন্মুক্ত অবস্থায় নেয়া মানে মানুষের মাঝে রোগ জীবাণু সংক্রামিত করা। রংপুরের মানুষকে সুন্দর ও সুস্থ জীবন দিতে হলে বর্জ্যের সুন্দর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। কারণ বর্জ্যের মধ্যে দূষিত বাতাসের মধ্যে যে রোগ সংক্রমণের উপাদান থাকা দরকার তার সবগুলোই সেখানে রয়েছে। তাই নগরীর ময়লা আবর্জনা খোলা অবস্থায় ফেলা যাবে না এই প্রতিজ্ঞা করতে হবে রংপুরবাসিকে।

নগরীর প্রাণ কেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরি খাল দ্রুত সংস্কার করে নগরীর পরিবেশকে সজীব করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অথবা সিটি কর্পোরেশন ব্যর্থ হলে নগরবাসীকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। এমন হতে পারে মাসের যে কোন দিন মাইকিং করে নগরবাসীকে একত্রিত করে একযোগে শ্যামাসুন্দরির অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন করা যেতে পারে। যে শ্যামাসুন্দরি খাল এক সময় রাজা জানকি বল্লভ সংস্কার করেছিল শহরের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য। সেটি এখন হয়েছে নগরীর মানুষের স্বাস্থ্যহানির প্রধান কারণ। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য নগরীর নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে পরিবেশ দূষণে বিশ্বে মৃত্যু হারের শীর্ষে বাংলাদেশ ও সোমালিয়া । অপর এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ভারতে প্রতিবছর বায়ু দূষণে এক লাখ শিশু মারা যায়। বাংলাদেশে বায়ু দূষণে মৃত্যুর সংখ্যা কত এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বায়ু দূষণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে বলা চলে। তাই বায়ু দূষণ রোধে আর দেরি না করে এখনই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারলে আগামীতে হয়তবা আমরা মানুষের মৃত্যুর হার কিছুটা কমাতে পারব।

প্রথমেই বায়ু দূষণ রোধে রংপুরের সুধি মহলের নিকট আহবান জানাচ্ছি। এই বায়ু দূষণকে আপনাদের মনে করতে হবে এটি একটি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ। এই দুর্যোগে হাত থেকে বাচতে হলে রংপুর নগরীকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। করি, করছি, করব এসব ভেবে সময় নষ্ট না করে নগরীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুধী মহলকে এক কাতারে দাঁড়ানো আহবান জানাচ্ছি।

সুধীমহল আপনারা প্রথমে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিন। সিটি মেয়রকে চাপ না দিয়ে সেই চাপ আপনারা নিজে গ্রহণ করুন। আপনার বাড়ির আশপাশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আপনারাই মনিটরিং করুন। সপ্তাহে যে কোন একদিন নির্দিষ্ট করে সিটি কর্পোরেশনের মুখাপেক্ষী না হয়ে নগরবাসীকে একত্রিত করে প্রয়োজন হলে রাস্তার পাশে ধূলা অপসারণে আপনারাই মাঠে নামুন। মনে রাখতে হবে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়। এই দায়িত্ব নগরীর প্রতিটি নাগরিকের। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতা হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য। নগরীর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন প্রচুর মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে এসব বর্জ্য ধ্বংস করা হয় না। ফলে রংপুর নগরীর মেডিকেল বর্জ্যও একটি বড় সদস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বর্জ্য অপসারণ ও ধ্বংসে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া ছোট ছোট শিল্প কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্যও রংপুরের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। এটিও রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এছাড়া নগরীতে ইটভাটা না থাকলেও আশপাশের ইট ভাটাগুলো আমাদের চারিপাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এ থেকেও পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। যান্ত্রিক বাহন বিশেষ করে অটো রিক্সাও পরিবেশের ক্ষতি করছে। এটিরও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা করা খুব দ্রæত দরকার।

একটি কথা না বললেই নয়। তা হল রংপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়েছে ২০১২ সালে। প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নগর উন্নয়নে কোন মাস্টার প্লান চূড়ান্ত হয়নি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নগরীর উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু ৭ বছরেও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে রংপুর নগরীকে ঘিরে কোন পরিকল্পিত পরিকল্পনা গড়ে উঠেনি। ২০০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এই সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন পরিকল্পনা কি তা জানে না সিটির বাসিন্দারা। আসলে কি রংপুর নগরীকে ঘিরে কোন পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্ন এখন অনেকের। তাই বায়ু দূষণ যেমন একদিকে নগরবাসীর প্রাণহানির আশঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেমনি এই নগরকে ঘিরে কোন মাস্টার প্লান না থাকায় নগরেরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

সবমিলিয়ে দেখলে মনে হবে পরিবেশগত দিক থেকে খুব একটা ভাল নেই রংপুরের নগরবাসী। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য যারা রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের দল ও মত পার্থক্য ভুলে যেতে হবে। সবাই মিলে বসে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। প্রাণঘাতি বায়ু দূষণ কিভাবে রোধ করা যায় তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। তাই রংপুরের মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুধী মহল ও প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ রাখছি মন থেকে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক মঞ্চে দাঁড়ান। সকলে মিলে ঠিক করুন কিভাবে রংপুরকে সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful