Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৩ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ০৮ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / জামায়াতের সংখ্যালঘু প্রীতি, পরিবর্তন না ভণ্ডামি?

জামায়াতের সংখ্যালঘু প্রীতি, পরিবর্তন না ভণ্ডামি?

ajoyঅজয় দাশগুপ্ত: রাজনীতির যে বারোটা বেজেছে তার প্রমাণ এখন ভুরি ভুরি।  নীতি বলে আসলেই আর কিছু নেই। গদী অর্থ আর হিসেবের জগতে ন্যায় অন্যায় মিলে মিশে একাকার। তারপর ও কথা থাকে। থাকতে হয়। কারণ মানুষ বাঁচে আশায়. আমাদের রাজনীতি যত  খারাপ হোক না কেন দেশের মানুষের বেশির ভাগ ই  সৎ ও ভালো।  তাঁরা আছেন বলেই  সূর্য ওঠে চাঁদ জাগে জোছনা কিরণ দেয়। এখনো মানুষের জীবন প্রবাহ চলছে নদীর স্রোতের মত।  এই যে স্বাভাবিকতা বা শুদ্ধ জীবন প্রবাহ তাও বোধকরি আর চলতে পারবে না। একটা গল্প দিয়েই ব্যাপার টা খোলসা করি। এক দেশে সত্য বলার প্রতিযোগিতা চলছিল,  তারা এমন একটা মেশিন পেয়েছিল যা সত্য নির্নয় করতে পারে। যার সত্য ক্লিক করবে বা সেরা হবে তার বেলায়  মেশিনের  দুটো কাঁটা ই  বারোটার ঘর স্পর্শ করবে। কেমন করে জানি সে মেশিনটা পৌঁছে গেছিল ঢাকায়। পাওয়া মাত্র লুফে নেয়ার ব্যাপারে আমাদের জুড়ি নাই। আমাদের রাজনীতিবিদরা ও এটিকে লুফে নিলেন। শুরু হল ফার্স্ট হবার প্রতিযোগিতা। এক নেত্রী মেশিনে উঠে বললেন “আমাদের মত শান্তি আর ভালোবাসা কেউ দিতে পারে নাই আমরা ধর্ম অধর্মের ককটেল ফাটিয়ে শান্তি আনি” কাঁটা লাফ দিয়ে পৌঁছে গেল নয়ের ঘরে।

আরেক নেত্রী বললেন : আমাদের আমল মানে সোনার আমল। আমরা ডিজিটাল ফুঁ দেই আর সোনা ঝরে পড়তে থাকে” শয়তান কাঁটা তাও ৯ য়েই আঁটকে ইল। এবারে মেশিনে উঠলেন সাবেক জেনারেল। মুখ গম্ভীর করে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে রাজনীতির দেবানন্দ বললেন “এ দেশের মানুষ জানে আমি ছাড়া কেউ সত্য বলে না। আমি কখনো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেই না  কসম খাই না এটাই আমার রাজনীতি” তড়াক করে কাঁটা উঠে গেল এগারর ঘরে। বান্দারা তো বেজায় খুশী। বললো দেখলেন তো স্যারই চ্যম্পিয়ন। বগল বাজাতে বাজাতে মিছিলে যাবার আগে মেশিনের সামনে এলো আরেক দল লোক।  কেউ এদের খুব একটা ভালো চোখে দেখেনা। একদল এদের নিশ্চিহ্ন করার নামে পলিটিক্সে  নিজের গদী ঠিক করার কাজে ব্যস্ত আরেক দল সুযোগ বুঝে কোলে নেয় সুযোগ বুঝে সটকে পড়ে। জেনারেল মাঝে মাঝে দোয়া খায়ের চাইলেও এদের সাথে ঠিক একাত্ম কিছু নয়। সবাই ভাবলো এরা আর কি বলবে? নির্ঘাৎ ফেল মারবে। কাঁটা হয়তো ঘুরবেই না। এদের একজন উঠেই বললো” আমরা জঙ্গী মিছিল করে দেখিয়ে দেব সংখ্যলঘুদের ওপর আক্রমনের ফল কি? আমরা আর এগুলো হতে ই দেব না”।

বলার সাথে সাথে বেচারী মাশিনের কাঁটা বারোটার ঘর পেরিয়ে দুম ফটাস, আমাদের অবস্হা এখন এই গল্পের মত। হঠাৎ করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বা নিজেদের অস্তিত্বের কথা ভুলে জামাত নেমেছে সংখ্যালঘু পাহারায়। এটা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ও বটে। জেলায় জেলায় মিছিলের কর্মসূচী আর প্রতিবাদ জানানোর কাজ ও শুরু হয়ে গেছে। ব্যাপারটা কি খুব হালকা ? না উড়িয়ে দেয়ার মত? ভুতের মুখে রাম নাম বা উন্মাদের শিন্নি খাওয়া যেটাই বলি না কেন এর পেছনে নিশ্চয় ই কিছু আছে। জামায়াতের রাজনীতি বা রাজনৈতিক দর্শনে এ জাতীয় কোন ব্যাপার কোন কালে প্রশ্রয় পায় নি। পাবার কথাও নয়। তা হলে আজ হঠাৎ কি এমন ঘটলো যে তাদের নীতি বদলাতে হচ্ছে? তা ছাড়া এই কিছুদিন আগেও রামুতে যখন সর্বনাশা সাম্প্রদায়িকতা ছোবল হানল, প্রথমবারের মত বৌদ্ধ সম্প্রদায় নির্যাতিত ও সাম্প্রদায়িকতার শিকার হলো, সারা বিশ্বে ঢি ঢি পড়লেও এরা মুখ খোলেনি। আমাদের জীবদ্দশায় আফগান স্টাইলে শান্তির দূত বুদ্ধের মূর্তি ভাঙ্গচুরে নীরব জামায়াত আজ কেন এমন দয়াপরবশ হয়ে উঠল?

তাছাড়া ইতিহাস বলে মওদুদী বাদে বিশ্বাসী এই রাজনৈতিক দলটির আদর্শই হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা। ৭১ এ হিন্দু নিধন লুণ্ঠন ধর্ষনের বিষয় ও অজানা কিছু নয়। ব্যক্তিগত ভাবে আমি সংখ্যালঘু কনসেপ্টে বিশ্বাসী নই।  আর যদি তা মানতেই হয় প্রগতিশীল মুসলমানরা ও আজ সংখ্যালঘু। যে কোন অমুসলিমের পাশাপাশি এঁদের জীবন সম্পদ বা বিশ্বাস ও আজ নিরাপদ কিছু নয়। বরং এদের ওপর ই জামায়াতের আক্রোশ বেশি। তাদের ধারণা এরাই তাদের রাজনীতির বড় দূশমন। সংখ্যালঘু দের পাশে দাঁড়াতে হলেতো মুনতাসীর মামুন শাহরিয়ার কবির আনিসুজ্জামানদের পাশে ও দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী মুসলমানদের পাশে , সেটা কি তারা করবেন? না করতে পারবেন? তারচেয়ে বরং এটা বিশ্বাস করাই ভালো রাজনীতির দাবার ছকে জামাতে ও পরিবর্তন আসছে। বিশ্ব মুরুব্বিদের চাপে বা আন্তর্জাতিক প্রেসারে এ বিষয়ে এখন আর মুখ বন্ধ করে রাখা চলবে না। আমেরিকান কংগ্রেসের শুনানীতেও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।  বিদেশে মুক্ত ও স্বাধীন বাঙ্গালি বা বাংলাদেশীরাও বসে নেই। যার যার সাধ্য ও পাওয়ার  অনুযায়ী কাজ করছে তারা। জামাতের লবিং বা টাকার জোরে বাঙ্গালি বদলালে ও বিদেশিরা বদলাবে না। তাদের বদলানোর জন্য যে পরিমাণ অর্থ বা শক্তি দরকার কোনটাই তাদের নেই। তা ছাড়া পাশের দেশ ভারতের সাথে পা্য়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করেও রাজনীতি করা যাবে না।
এ বাস্তবতা জামায়াত বুঝেছে অনেক দেরীতে। বিএনপি আর ধর্মান্ধ মানুষের সমর্থনে দেশে অপজোয়ার তুলতে পারলেও এখন সেটাই নিয়ামক কিছু নয়। নয়  বলেই তারা বহু চেষ্টা করেও বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারেনি। তাছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর একাত্তরের ভূমিকায় জামাতের রাজনীতি এখন এতিম ও সন্ত্রাস নির্ভর। এভাবে দীর্ঘকাল চলা যায় না।  নিন্দুকেরা বলে জামায়াতের তরুন প্রজন্ম নাকি বুড়োদের ওপর ভয়ানক চটে আছে, মুক্তিযুদ্ধের পর জন্ম নেয়া এই প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতো না। দিবালোকের মত প্রকাশ্য সত্যে তারা যা জেনেছে তা রুপকথার চেয়ে ও  রহস্যময় আর ভয়ংকর। ফলে তারা চায় নতুন নেতৃত্ব আর নতুন নির্দেশনা। জনশ্রুতি আছে সরকারী দলের টোপ ও কাজ করছে। টোপে ঘেরা বাংলাদেশে নীতি বলে যে কিছু নেই সেটাতো সব সময় সব ব্যাপারেই দেখা যাচ্ছে। সরকারি দলের টোপ টাকার টোপ বিচারের ভয় মামলা হামলা সব মিলিয়ে জামাতের অবস্হা ত্রিশংকু। এমন দূ;সময়ে সংখ্যালঘুদের জন্য মায়া কান্না বা মিছিল করা তাই খুব একটা আশ্চর্যের ঠেকছে না। কিন্তু জামায়াত এটা ভালোই জানে সব দলের সম্মতি  ডাইরেক্ট ইন ডাইরেক্ট কানেকশান ছাড়া বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা অসম্ভব।  এবার পূজা আর ঈদ ছিল পাশাপাশি সময়ে। দেশের পরিস্হিতি ছিল অশান্ত। সব মিলিয়ে একটা আগুন ঝরা পরিবেশ। অথচ কোথাও একটা পটকা পর্যন্ত ফাটেনি। আর এখন কিনা হঠাৎ করে দাঙ্গা হাঙ্গামার ধূম লেগে গেল।  যেখানে যেভাবেই যা করুক বা উস্কানি দিক না কেন দোষ বা দায় জামায়াতের ঘাড়েই পড়বে। কেন না জামায়াতের রাজনীতিই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক আর অ-মুসলিম বিদ্বেষী।  তারা হয়তো এ  নিয়ে ভাবতে চাইছে। তাছাড়া জামায়াত  রাজনীতি নিষিদ্ধ হবার চান্স ও বহাল। আন্তর্জাতিক ফোরামে এখন আর ধর্ম ভিত্তিক দল বা রাজনীতির গুরুত্ব নেই।

চাচা আপন বাঁচানোর ফরজে নতুন এই ধান্দা নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। আমাদের দেশ ও সমাজের যে পচন আর চারদিকে যত গয়েশ্বর বা খয়েশ্বর  তাতে দু চারজন জুটে ও যেতে পারে। যারা জামায়াতের রাজনীতির জন্য  আকূল হয়ে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের নামে বেচা যাবেন বা যেতে চাইবেন।  যেমন আমরা বিজেপিতে সিকান্দারদের দেখতে পাই। কিন্তু তাতে ও শিকে ছিঁড়বে না। অতীতের পাপ বর্তমানের সন্ত্রাস আর মৌলবাদী আবহে থাকা দলকে তারুন্য মেনে নেবে না।  ফলে আর যাই হোক এই গিমিক বা চমকে কাজ হবেনা। বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি ফার্স বা কৌতুকের জন্ম দিলো জামাতীরা। সংখ্যালঘুদের জান মাল ইজ্জত আর থাকা না থাকার ব্যাপারে সবচেয়ে আগ্রাসী দলটি যদি পাহারাদারের ভূমিকা নিতে চায় বুঝতে হবে মস্তিস্কে  গন্ডগোল বা কোথাও কোন বিভ্রম ঘটেছে।

তাই এই ঘোষণাকে পরিবর্তন প্রক্রিয়ার বদলে ভণ্ডামি বলাই যৌক্তিক. আর যদি তারা সত্যি বদলাতে চায় তবে সে প্রমাণ দেয়ার সময় ও এখন দোর গোড়ায়। অতীতের জন্য মাফ চেয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে সঠিক অবস্হানে এসে তাদের শাস্তি মেনে নিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও জীবনে ফেরার কাজ করতে পারলেই তাদের মুক্তি। অন্যথায় লোক হাসানো ছাড়া এর আর কোন মানে নাই।

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি থেকে

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful