Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ :: ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ :: সময়- ১ : ১৯ অপরাহ্ন
Home / ক্যাম্পাস / রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ; তাবিউর রহমানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ; তাবিউর রহমানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

মহানগর প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মচারীরা।

বুধবার (২৬ জুন) সকাল থেকে আন্দোলনকারীদের হামলার বিচারের দাবিতে অনড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মচারী। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ড। এদিকে শিক্ষার্থী দিয়ে অভিযুক্ত হামলার নেতৃত্বকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র পদে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে কর্মচারীরা।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীবান্ধব পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন, ৪৪ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ, ২৫ কর্মকর্তার পদমর্যাদা প্রদানসহ মাস্টার রোল কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে কর্মচারীদের ডাকে চলমান আন্দোলনে গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন মঞ্চ তৈরি করে প্রশাসন ভবন গেটে তালা দেয় কর্মচারীরা। কর্মবিরতির পালনের মাঝপথে কর্মচারীদের উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৩০/৪০ জন শিক্ষার্থী হামলা চালায়। এ হামলায় ওই বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধান নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ করে কর্মচারীরা । এতে কমপক্ষে ১০ জন কর্মচারী আহত হয়েছেন। হামলার সময় প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের লাগানো তালা ভেঙ্গে ফেলে প্রশাসনের আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষকের ‘পেটোয়া বাহিনী’নামে পরিচিত কিছু শিক্ষার্থী। হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ আস্থাভাজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির তিন সহকারি প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৩০/৩৫ জন শিক্ষক এবং সর্বোচ্চ পুলিশের উপস্থিতিতে কর্মচারীদের উপর হামলা চালিয়ে তালা ভেঙ্গে দেয় ওই শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন ও তালা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সাবেক প্রক্টর ড. ফরিদ কিছুই জানতেন না। প্রক্টরের অনুমতি না নিয়েই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও প্রশাসনের আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষক তালা ভেঙ্গে প্রশাসন ভবনে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে যায়।

এদিকে গতকাল হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করায় গভীর রাতে প্রক্টর প্রফেসর ড. একে এম ফরিদ-উল ইসলামকে প্রত্যাহার করে প্রক্টরিয়াল বডির সহকারি প্রক্টর আতিউর রহমানকে প্রক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয় । এভাবে হুট করে প্রক্টরকে অপসারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. গাজি মাযহারুল আনোয়ার জানান, কোনও কারণ ছাড়াই একজন প্রক্টরকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া শিক্ষকদের প্রতি চরম অসম্মান। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

এদিকে নতুন প্রক্টরের দায়িত্ব পাওয়ার পরেই গভীর রাতে ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনসমূহে সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিংসহ সকল কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে প্রক্টর অফিস থেকে এক অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে যা আরও সমালোচিত করেছে প্রশাসনের কর্মকান্ডে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা জারির মত পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকারের পর সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. একে এম ফরিদ-উল ইসলামকে জানান কর্মচারীরা। পরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন প্রক্টর। এঘটনায় প্রশাসনের পক্ষকে সমর্থন না দিয়ে বরং হামলার শিকার ও যৌক্তিক দাবি দাওয়ার বিষয়কে সমর্থন দেওয়ার কারণে সাবেকপ্রক্টর প্রফেসর ড. একে এম ফরিদ-উল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

এবিষয়ে কর্মচারী নেতারা চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রশাসনকে জানান, বর্তমান প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা ও কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি দাওয়া পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এসব কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেছে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই ক্ষমতার অপব্যাবহার করা শুরু করেছে। প্রশাসনের এটা নতুন নোংরামি। আমরা আবারও হামলার শিকারের জন্য প্রস্তুত।

কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, গত ৬ বছর ধরে অধিকার বঞ্চিত। এসব দাবি নিয়ে মাঠে নামলে আমাদের উপর পেটোয়া বাহিনী দিয়ে হামলা করা হয়। যেটা প্রশাসনের সবচেয়ে নোংরামির পরিচয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিকষ্টে চাকরি করছি। রহস্যজনক কারণে কয়েকজনকে ৪৪ মাস যাবৎ বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। ২৮৮ জনকে বকেয়া পরিশোধ করলেও ৫৮ জন কর্মচারীর বকেয়া পাওনা আছে। তাই, আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫৮ জনের বকেয়া আটকে রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ না দিয়ে বাহিরের প্রার্থীদের মোটা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছেন যা কর্মচারীদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবার রহমান বাবু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ এসব দাবিদাওয়া নিয়ে ভিসিকে বলে আসছি কিন্তু তিনি আমাদের এসব দাবিদাওয়া এড়িয়ে চলছেন। গতকাল আমাদের উপর হামলা করানো হলো। হামলার বিচার চাইতে ভিসির কাছে গেলে কোন পাত্তা দেয়নি। সাবেক প্রক্টর আশ্বাস দিলে তাকেও অপসারণ করেছে যা শোভনীয় নয়।

এ বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম বলেন, হামলার বিচারের দাবিসহ আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো।

এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও হামলার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টরিয়াল বডির কেউ আসেননি।

এবিষয়ে প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) আতিউর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful