Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯ :: ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ :: সময়- ১ : ৪১ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / নয়ন বন্ড তৈরির উপাদানগুলো বিনাশের দায়িত্ব কার?

নয়ন বন্ড তৈরির উপাদানগুলো বিনাশের দায়িত্ব কার?

হেদায়েতুল ইসলাম বাবু
এক নয়ন বন্ড শেষ হয়ে গেল, মানে কেল্লা খতম । এখন অন্তত আর তা ভাববার সুযোগ আছে বলে মনে হয়না। প্রতিনিয়ত অন্ধকার গলিতে রক্ত মাংসের শরীরে অমানুষ হয়ে বেড়ে উঠছে শতশত নয়ন। যাদের চোখ জুড়ে কেবলই মানুষ শিকারের বাসনা। কখনো পথচারী শিশু, কখনো কিশোরী, আবার কখনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণী কোন বয়সের মানুষ তাদের টার্গেটের বাইরে সেই খবর বলতে গেলে একেবারে অজানা।

আর যে পথে নয়নরা তৈরি হয়, বড় ভাই বা বস হিসেবে যারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তারাও কারোরই অচেনা নয়। জেনে শুনেও আমাদের সবই মুখ বুজে সয়ে যেতে হয়। ভয়ঙ্কর নয়নদের কাছ থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে গিয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে সমাজটাকে অনিরাপদ করে তুলছি এই আমরাই। সড়কের মাথায়, পাড়ার গলিতে, চায়ের দোকানে ছেড়া-ফাটা স্টাইলের প্যান্ট পড়া নয়নরা যখন মুখ থেকে জ্বলন্ত সিগারেটের ধোয়া উড়ায় তখনও নিজের সম্মানটুকু নিয়ে মাথা নিচু করে পাশ কাটানো ভদ্র লোকের দলে তো এই আমরাই।

সবাই ভয় পাই। আর ভয় পাবার যথেষ্ট কারণও যে আছে। বাবা-জেঠাদের মুখে গল্প শুনেছি, নিকট অতিতেও এমন ছিলনা। ছোটরা বড়দের সম্মান করতো, শ্রদ্ধা করতো। বড়রাও তাদের স্নেহ করতো, ভালোবাসতো। শাসন-বারণের মধ্যদিয়ে গড়ে উঠতো একেক জন সত্যিকারের মানুষ। আর এক্ষেত্রে পরিবারের পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশীর ভূমিকাও কম ছিলনা। কিন্তু এখনকার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পার হবার পর হাইস্কুলের বারান্দায় পা রাখতে না রাখতেই নানা রকম অধঃ:পতন সন্তানদের গ্রাস করে। শুরুটা হয় সঙ্গ দোষ থেকে। এরপর ধূমপানের মধ্য দিয়ে মাদকের রাজ্যে প্রবেশের পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ধীরে ধীরে পরিবার-পরিজন সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এরই মধ্যে হতাশার আক্রমণ প্রতিহত করতে না পেরে ভারী হয় নয়নদের দল।

ততক্ষণে বড় ভাই আর বসদের টার্গেটে পরিণত হয় এরা । ধীরে ধীরে নিজেদের অন্ধকার জগতের ডন হিসেবে তৈরি করে নয়নরা। তখন তাদের দৃষ্টিতে মানুষ আর মানুষ থাকে না। রিফাতের মানুষদের প্রাণ দিতে হয় নয়নদের হাতে। আমরা ক্ষণিকের জন্য চোখের জল ফেলি, রাস্তায় দাড়াই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম্পন তুলি। কিছুদিন পর আবার সব ভুলে যাই। আর যখন নিজে বা পরিবারের কোন সদস্য নয়নদের দারা আক্রান্ত হয় তখনই আমাদের ঘুম ভাঙ্গে। আমরাও যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ভুলে ক্রমাগত স্বার্থপরতার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছি তা কি অস্বীকার করতে পারবো।
ক্রসফায়ারে নয়নের মৃত্যু নিয়ে অনেকেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। তারা কি একটিবারও ভেবেছেন এই নয়নরা রাতারাতি তৈরি হয়নি। নয়নদের বেড়ে ওঠার খবর পুলিশ প্রশাসন কারোরই অজানা নয়। তাহলে কেন রিফাতের জীবনের বদলে নয়নের ঠিকানা আবিষ্কার করতে হলো। এক নয়ন না হয় ফাইনাল হলো- অন্ধকারের চোরাগলিতে জন্ম নেয়া বাকী নয়নদের কি হবে? আমাদের তৈরি জমিনে যে নয়নদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, ওদের শক্তিসামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করছি, নয়ন তৈরির জন্য চারিদিকে যে উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছি, সেই উপাদান বিনাশের দায়িত্বটা কার?

পরিবারের অভাবের সুযোগ নিয়ে উঠতি বয়সের তরুণদের হাতে যারা অস্ত্র তুলে দেয়, সন্ত্রাসী বানায়, জঙ্গি বানায় সেই বড়ভাইরা আড়াল থেকে বের হবে তো? যারা আমাদের খেলার মাঠ গিলে খেল, পুকুর, জলাশয়, নদী-নালা পেটে পুড়ে দুরন্ত শৈশব কেড়ে নিয়ে সমাজটাকে ছিন্নভিন্ন করছে তাদের মুখোশ খুলতে পারবো তো? ভালো হবার সকল দরজা বন্ধ করে খারাপ হবার সকল পথ খুলে রেখে যেমন ভালো মানুষ সৃষ্টি হবেনা, তেমনি শৈশব ধ্বংস করে আকাশ সংস্কৃতির নগ্ন ছোবল, পথে-ঘাটে মুড়ি মোয়ার মতো মোবাইলে মোবাইলে পর্ণ ছবি বিক্রি করে আর যাই হোক নয়ন ছাড়া ভালো মানুষ তৈরি করা অকল্পনীয় বটে।

যার ফলে তৃষা, নুসরাত, বিশ্বজিৎ, অভিজিৎ রায়, হুমায়ুন আজাদ, সাগর-রুনি, তনুদের তালিকায় রিফাতকেও নাম লেখাতে হলো। নয়ন তৈরির উপাদানগুলো বিনাশ করতে না পারলে আগামীকাল এই তালিকায় আপনার বা আমার নাম যুক্ত হবে না – তার গ্যারান্টি কে দেবে? সময় এসেছে ইট-কাঠ পাথরের উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের চেতনা, আদর্শ আর মনুষ্যত্ব উন্নয়নের। অন্যথায় ইট-কাঠ পাথরের উন্নয়নের নগরীতে নয়নদের মতো অমানুষরাই নাগরিকত্ব পাবে।

লেখক

এতো কিছুর পরও হতাশার বদলে সামনে আলোর মশাল জ্বালতে চাই। আর এই মশাল জ্বালানোর দায়িত্বটা নিতে হবে একালের প্রীতিলতা আর ক্ষুদিরামদের। সেদিন যারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হয়। যারা দেখিয়ে দিলো হাজার হাজার যানবাহনের ভীরে কিভাবে মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করতে হয়। দায়িত্বটা তাদেরই নিতে হবে যারা কর্তাদের সামনে দাড়িয়ে আঙুল তুলে বলতে পারে আপনার চালকের লাইসেন্স নেই, গাড়ীর ফিটনেস নেই। ওদের হাত ধরেই আমার সমাজের ফিটনেস ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়।
লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, সময় টেলিভিশন, রংপুর অফিস।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful