Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ :: ৩ কার্তিক ১৪২৬ :: সময়- ৩ : ৪৭ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / তিস্তায় ভয়াবহ রূপ, বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকছে পানি

তিস্তায় ভয়াবহ রূপ, বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকছে পানি

 স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বন্যায়। পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে শহরে ঢুকছে প্রবল স্রোত।

শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ০৪ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সে.মি.) বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী তালেব মোড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে হাতীবান্ধা উপজেলা শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। বন্যায় প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানিববন্দির সংখ্যা।

ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় ওই ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ডালিয়া ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে উঠেছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যাও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি ভয়াবহ এ বন্যায় জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ২৫/৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী এলাকার ব্রিজ কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। আদিতমারীর তিস্তার তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি কুটিরপাড়, রজবপাড়া, অংশে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই এলাকার কুটিরপাড় বালুর বাঁধটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যার বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলীন হয়েছে। হাতীবান্ধার গড্ডিমারী তালেব মোড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চরম ঝুঁকিতে। যেকোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে বলে শ্বঙ্কিত স্থানীয়রা। বন্যায় ভেসে যাচ্ছে শত শত পুকুরের মাছ। নষ্ট হয়েছে চাষিদের বাদাম, ভুট্টা ও সবজিসহ নানান ফসল। পানি প্রবাহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর সিন্দুর্না গ্রামের আলতাব উদ্দিন ও আবু তালেব বলেন, এমন বন্যা তো দেখিনি। পানি শুধু বেড়েই চলেছে। ঘর বাড়ি রাস্তা ঘাট সর্বত্রই পানি আর পানি। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় বাড়ির অনেকেই জ্বর শর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বাজারে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বা শিশুদের সিরাপও পাওয়া যাচ্ছে না। সংকট দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ইউনিয়নের সাড়ে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হলেও বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ১২ মেট্রিকটন জিআর চাল। যা মাথাপিছু ১০ কেজি হারে মাত্র এক হাজার দুইশত পরিবারের মধ্যে শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মফিজুল হক বলেন, বন্যার্তদের জন্য ১২ মেট্রিকটন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকেলে তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে শুকনো খাবারের প্রয়োজন থাকলেও বরাদ্দ না থাকায় দেওয়া হচ্ছে না।

জেলা ত্রাণ ও পুনবাসন অফিসার আলী হায়দার জানান, জেলার ৫টি উপজেলার বন্যা কবলিতদের ত্রাণ দিতে জেলা প্রশাসন থেকে ১১০ মেট্রিকটন জিআর চাল ও আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার বিতরণও শুরু হয়েছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট পর্যাপ্ত না থাকা দেওয়া যাচ্ছে না বলেও জানেন তিনি।

দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজে পানি প্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করায় ক্রমেই বাড়েছে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ। বন্যার অবনতি থেকে চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে নদী তীরবর্তীদের সাবধানতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানান তিনি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful