Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৪ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৩৪ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / ছেলেধরা: গুজব না অন্য কিছু

ছেলেধরা: গুজব না অন্য কিছু

ডেস্ক: ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে’- গোয়েবলসীয় অপপ্রচারও হার মেনেছে সাম্প্রতিক এই গুজবের কাছে। এমন গুজবে বিশ্বাসী উত্তেজিত ও আতঙ্কিত মানুষের গণপিটুনিতে গত ৯ জুলাই থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। প্রাণে বাঁচলেও আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। ছেলেধরা- এমন সন্দেহের বশে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তারা।

ভাইরাসের মতো এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। এতে নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। প্রিয় সন্তানটি ছেলেধরার খপ্পরে পড়তে পারে- অনেকে সন্ত্রস্ত এই কারণে; কেউ সন্ত্রস্ত ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ভয়ে। গুজবকে কাজে লাগিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তিগত শত্রুদের টার্গেট করতে পারে- এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। অনেকের ধারণা, সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে ও সেটিকে ব্যবহার করে এবং মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার অপচেষ্টা  থাকা অস্বাভাবিক নয়। কেউ গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে কি-না, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেদিকেও নজর রাখছে।

গতকাল একদিনেই দেশের কয়েকটি জেলায় গণপিটুনিতে আহত হয়েছে ২৪ জন। যাদের কয়েকজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া আদর্শ স্কুলের সামনে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে গতকাল রাত সোয়া ৮টায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গণপিটুনির শিকার কেউ ‘ছেলেধরা’, এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

এমন বাস্তবতায় গতকাল এক বিবৃতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে সংগঠনটি। এর আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরও এক বিজ্ঞপ্তিতে সবাইকে সতর্ক করেছে। অনুরোধ করেছে, গুজব শুনে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণপিটুনিতে জড়ানো রাষ্ট্রবিরোধী কাজের শামিল। গুজবের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বিশিষ্টজন যা বলছেন : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, এক শ্রেণির মানুষ অসৎ উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণকে বিঘ্নিত করতে সরকারের উন্নয়ন বা অগ্রযাত্রাকে বানচালের লক্ষ্যে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। এদের খুঁজে বের করতে হবে। বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। কাউকে অপরাধী মনে হলে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়া যেতে পারে।

শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, সমাজে নৈতিকতার মানদণ্ড নিম্নমুখী। রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ অসহিষুষ্ণতা ও দুর্নীতি ঢুকে গেছে। সুস্থ চিন্তা করার শক্তিও মানুষের যেন লোপ পাচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা এখানে জীবনমুখী নয়। আবার বিজ্ঞানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় এখানে চিকিৎসক ও প্রকৌশলী তৈরিই মুখ্য হয়ে উঠছে। গণপিটুনিতে জড়িয়ে মানুষ যে হিংস্রতার পরিচয় রাখছে, তা কোনো সুস্থ সমাজব্যবস্থার লক্ষণ নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, গুজবের পেছনে সমাজ এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র থাকে। সমাজের কোনো একটি শ্রেণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব প্রচার করে। সেটি তারা বাস্তবায়ন করতেও মরিয়া থাকে। তাদের শনাক্ত করতে না পারলে এটা মহামারি আকার ধারণ করবে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। এজন্য গুজব রটনাকারীদের শক্তভাবে দমন করতে হবে। গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, ছেলেধরা গুজব মানুষকে আতঙ্কিত করে; আবেগকে আক্রান্ত করে। মানুষ যখন আতঙ্কিত হয়, তখন ছোটখাটো ইস্যুতেও সন্দেহ বাড়ে। কারণ মনস্তাত্ত্বিকভাবে সে সন্দেহপ্রবণ হয়ে মনগড়া ধারণায় আক্রান্ত হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছে- ছেলেধরা, বাচ্চা ধরার জন্য আসছে, মাথা নিতে আসছে। ব্রিজ তৈরিতে মাথা লাগে- এমন কুসংস্কার থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হতে হবে।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, যারা গণপিটুনিতে জড়াচ্ছে, তারা ভয়ঙ্কর সামাজিক অপরাধ করছে। দেশের প্রচলিত আইনে তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। সভ্য সমাজে এ ধরনের বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না।

পুলিশের ভাষ্য : পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আবার যারা গুজবে বিশ্বাস করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ফৌজদারি অপরাধে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলে ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

গুজবের সূত্রপাত : পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে জড়িত চীনের এক কর্মকর্তা আলোচনার সময় প্রসঙ্গক্রমে বলেছিলেন, ‘উই নিড মোর হেড।’ এটি বলে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, দ্রুত পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য তাদের আরও জনবল দরকার। কিন্তু গুজব রটনাকারীরা জনবলের পরিবর্তে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে অপপ্রচার চালাতে শুরু করে। অবশ্য এই গুজব যারা প্রথম ছড়িয়েছে, তাদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ও র‌্যাব এ পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করেছে, তারা মূলত পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব-সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful