Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ :: ৮ আশ্বিন ১৪২৬ :: সময়- ৭ : ১৮ অপরাহ্ন
Home / নীলফামারী / উৎসবে ভাসলো বসুন্ধরা॥মোহামেডানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ান হলো কিংস

উৎসবে ভাসলো বসুন্ধরা॥মোহামেডানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিপিএলে চ্যাম্পিয়ান হলো কিংস

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ২৫ জুলাই॥ আর দুইটি খেলা বাকী রেখে মোহামেডানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ২০১৮-১৯ চলতি মৌসুমে বিপিএলের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ান কাপটি নিশ্চিত করেছে বসুন্ধরা কিংস। এর সাথে নতুন রাজা পেয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ।
খেলার শেষ বাঁশী বেজে উঠতেই চ্যাম্পিয়ান হবার উৎসবে ভেসে উঠে কিংস সমর্থকদের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারী। গ্যালারী ছেড়ে মাঠ চারিদিকে উল্লাস। ফাটছে বাজি। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত বসুন্ধরা-বসুন্ধরা।
গতকাল বুধবার(২৪ জুলাই) ঝুম বৃষ্টির কারনে নীলফামারীর মাঠে খেলা শুরু হবার তিন মিনিটের মধ্যেই স্থগিত হয়েছিল। সেই পরিত্যাক্ত খেলাটি গড়ায় আজ বৃহস্পতিবার(২৫ জুলাই) বিকাল ৪টায় কিংসের নিজ ভেন্যু এই নীলফামারীতেই। খেলার ৮ মিনিটে ফের বৃস্টি শুরু হলেও তা বেশীক্ষন স্থায়ী হয়নি। খেলায় এক গোলে এগিয়ে থাকলেও তা ধরে রাখতে পারেনি মোহামেডাম। বেশ কিছু জোড়ালো আক্রমন চালিয়ে বসুন্ধরা গোল পরিশোধ করেই ফেলে।
এই ম্যাচটি ছিল নিজ ভেন্যুর মাঠে কিংসের অস্তিত্বের লড়াই। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে টান টান উত্তেজনা। মাঠে খেলছে বসুন্ধরা কিংস ও ১০ বারের চ্যাম্পিয়ান ঐতিহ্যে লালিত মোহামেডান। আর গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ। কিংসের হোম ভেন্যুর গ্যালারীতে লাল জার্সিতে মুখর।
তবে আজকের খেলায় এক নতুন ইতিহাস গড়ে দিলো বসুন্ধরা কিংসরা। আজকের খেলা সহ কিংসরা হোম ভেন্যুতে ১২টি ম্যাচে একটিতেও হারেনি।
এদিকে হঠাৎ জ্বলে উঠা মোহামেডান ১৬ জুলাই ঢাকার মাঠে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ান ঢাকা আবাহনীকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পরের ম্যাচে নোফেলকে হারিয়ে দিয়েছিল ৩-১ গোলে। কিন্তু এই লিগে প্রথম টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া সাদা-কালোরা নীলফামারীতে চমক দেখাতে পারলোনা। মোহামেডান ঐতিহ্যে লালিত আর ঘরোয়া ফুটবলে নবশক্তি বসুন্ধরা কিংস। বসুন্ধরা কিংস কোচ অস্কার ব্রুজোন বলেছিলেন মোহামেডানকে ঠেকিয়ে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ান কাপটি আগাম নিশ্চিত করারই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য আমরা পুরন করেছি। বৃস্টি কাঁদা মাঠে সেরা খেলাটি হয়তো দেয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে এই লীগের প্রথম পর্বে গত ২৯ অক্টোবর(২০১৮) মোহামেডানকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষ আসরে রাজসিক অভিষেক করেছিল বসুন্ধরা কিংস। আজ বৃহস্পতিবারের ম্যাচে এই ড্র এর মধ্যেই বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে কোনো কাবই নিজেদের অভিষেক আসরেই দুই শিরোপা জেতার স্বাদ পায়নি। কিন্তু এবার বিপিএলের নবাগত বসুন্ধরা কিংস সেটি করে দেখালো।
প্রথমে (২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর) স্বাধীনতা কাপ জয়, আর এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার হাতছানি। এক মৌসুমেই জোড়া শিরোপা বসুন্ধরার। নিজেদের হোমভেন্যু নীলফামারীর আগেই গত ২০ জুলাই সিলেটের মাঠেই হতো বিপিএলের চ্যাম্পিয়ানের হাতছানীটি ছিল। কিন্তু ওই খেলায় শেখ রাসেলে কাছে ১-০ গোলে কিংসরা হেরে মাঠ ছাড়তে হয়। এটি ছিল কিংসের প্রথম হার। হয়তো এই লেগের চ্যাম্পিয়ানের হাত ছানিটি নিজেদের হোম ভেন্যু নীলফামারীতেই উৎসের জন্যই রেখেছিল।
কিংসের ২২ খেলায় ১৯টিতে জয়, দুইটিতে ড্র ও একটিতে হেরে পয়েন্ট টেবিলে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে লীগ পর্ব শেষ করার আগেই তারা বিপিএলের চ্যাম্পিয়ানশীপটা নিশ্চিত করলো। বাকী দুই ম্যাচে কিংস মুখোমুখি হবে চিটাগং আবাহনী ও সাইফ স্পোটিং কাবের সঙ্গে।
কিংসের পক্ষে গোল করে ব্রাজিলের মার্কস ও মোহামেডানের পক্ষে মালির খেলোয়ার সোলেমান ডায়াবেট।
তবে খেলা শুরুর আগে মোহামেডানের টিম ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু বড়ই আশা করে বলেছিলেন আমরা এর আগে আবাহনীকে ৪ ও নোফেলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছি। আমাদের খেলোয়াররা এখন ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। আশা করি কিংসে হারিয়ে জয় ঘরে তুলতে পারবো।
খেলা শেষে বাবু আরো বলেন আমরা ভাল খেলেছি। আগামীতে মোহামেডান আগের ফর্মে ফিরে আসবে।
শ্রাবনের বৃস্টি ভেজা মাঠ, আকাশে মেঘের ঘনঘটা। কি হবে আজ এমন ভাবনায় বর্ষার কাঁদা পানির মধ্যেই খেলা শুরু হয়।
শ্রাবনের বৃস্টি ভেজা মাঠ, আকাশে মেঘের ঘনঘটা। বর্ষার কাঁদা পানির মাঠ। খেলাটি হাই ভোল্টেজে চলতে থাকে। আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধেই উত্তেজনা চলতে থাকে। খেলার ৫ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো মোহামেডাম। ১০ মিনিটে কিংস গোলের সুযোগ পেলেও হাত ছাড়া হয়ে যায়। তবে ১৬ মিনিটে মোহামেডান আক্রমন আর লক্ষভ্রস্ট হয়নি। মালির খেলোয়ার সোলেমান ডায়াবেট একটি দর্শনীয় গোল করে বসে। কিংসের গোলরক্ষক জিকো প্রথম শর্টের বল ঘুষি মেরে সামনে ঠেলে দিলেও সেই বল পুনরায় পায়ে পেয়ে কিংসের জালে জড়িয়ে দেয় সোলেমান । এগিয়ে যায় মোহামেডান ১-০।
২১,২৪ ও ২৯ মিনিটে কিংসের গোলর সুযোগ নস্ট হয়ে যায়। ৩১ মিনিটে মোহামেডানের গোলের আরেকটি সুযোগ হাত ছাড়া হয়। ৩৩ মিনিটে কিংস কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ৩৭ মিনিটে কিংসের বখতিয়ারকে ফাউল করায় ডি বক্স এর অদুরে ফ্রি কিক পায় কিংস। শর্ট নেয় ডেনিয়েল। গোলপোস্টের সেকেন্ডবার বরাবর বল এলেও তা মাঠের বাহিরে চলে যায়।
তবে একের পর এক আক্রমনে কিংসের গোল পেতে সময় নিতে হয় ৩৭ মিনিট পর্যন্ত । এই সময় একটি আক্রমনে কর্নার পেয়ে যায় কিংস।কর্ণার নেয় ডেনিয়েল। বল সোজা চলে আসে ব্রাজিলের মার্কসের কাছে। এই সুযোগ আর হাত ছাড়া হয়নি। সরাসরি হেডে মোহামেডানের জালে বল জড়িয়ে দেন মার্কস। ১-১ গোলে খেলা ড্র হলে খেলায় উত্তেজনা চলে আসে আরো বেশী। আক্রমন পাল্টা আক্রমন আর টান টান উত্তেজনায় ভরে উঠে খেলা।
৪৫ মিনিটে কিংসের আরেকটি সুযোগ ছিল গোলের। ডেনিয়েলের কাছে বল পেয়ে মার্কস ঠিকই কিক নিয়েছিল। কিন্তু কাদা পানিতে মোহামেডানের গোলপোস্টের সামনে বল আটকে গেলে গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেন সহজেই বল ধরে ফেলে।
প্রথম হাফের অতিরিক্ত ৩ মিনিটের সময়ে কিংসের কর্নার প্রতিহত করে বল টোকা দিয়ে মোহামেডানের গোলরক্ষক মাঠের বাহিরে বল পাঠালে এখানেও আরেকটি গোলের সুযোগ হাত ছাড়া হয় কিংসের। ।
প্রথম পর্বে ১-১ গোলে ড্র নিয়ে দ্বিতীয় হাফে খেলা শুরু হলেও সেই খেলায় ছিলনা কোন প্রাণ। ৫০ মিনিটে সময় কিংসের ডেনিয়েলকে ফাউল করে মোহামেডানের তকলিশ আহমেদ। ফ্রি কিক নেয় বখতিয়ার। সরাসরি গোলবারে কিক। না- বল অনেক উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাহিরে।
আবারো পায়ে বল পেয়ে কিংস আক্রমন চালায়। ৫৩ মিনিটে ডেনিয়ালের কাছে বল পেয়ে গোলবারের কিক নেয়ার আগেই অপসাইড হয়ে যায় মতিন মিয়া।
বিগত খেলায় মতিন মিয়ার যে গতি ছিল তা যেন এই খেলায় ঝিমিয়ে যায়। তাই মতিন মিয়াকে মাঠ থেকে উঠিয়ে সবুজকে মাঠে নামায় কিংস।
৬৪ মিনিটে মার্কসকে ফাউলের ফ্রি কিক কাজে লাগাতে পারেনি কিংস। ৬৬ মিনিটে মোহামেডানের শেখ গালিব দুর হতে সরাসরি কিক নেয় কিংসের গোলবারে। না গোল পোস্টের অনেক উপর দিয়ে মাঠের বাহিরে বল। ঠিক একই ভাবে আরেকটি সুযোগ হাত ছাড়া করে মোহামেডানের গালিব।
৬৮ মিনিটে ফ্রি কিক পেয়ে মোহামেডানের ক্যাপ্টেম জাহিদ হাসান এমেলি। সেটিও কিংসের গোলবারের বাহিরে চলে যায়। এক পর্যায়ে মোহামেডান চাপিয়ে খেলতে থাকলেও গোলের জোড়ালো কোন সুযোগ সৃস্টি করতে পারেনি ।
কিংসের মার্কসকে চরম ফাউল করায় মোহামেডানের জাপানি খেলোয়ার নাগাতা হলুদ কার্ড পেয়ে বসে।
৭০ মিনিটে মোহামেডানের সোলেমান একাই বল নিয়ে ঢুকে পড়ে কিংসের গোলপোস্টের কাছে। না লক্ষ্যভ্রস্ট হয়ে গোলবার ঘেষেই বল মাঠের বাহিরে চলে যায়। ৭২ মিনিটে কিংস আক্রমন চালালে গোলের সুযোগ নস্ট করে যা মোহামেডানের গোলরক্ষক সহজেই ধরে ফেলে বল। ৭৪ মিনিটে কিংস পায় কর্নার। কিক নেয় ডেনিয়েল। সেই বল মোহামেডান ঠেকিয়ে দিলেও বেশ কিছুক্ষন চলে ডি বক্স এ খেলা। না কিংসরা গোলের মুখ দেখতে ব্যর্থ হয়। ৮০ মিনিটে মোহামেডানের আতিকুরকে ফাউল করায় কিংসের নুরুল ফায়সাল হলুদ কার্ড পেয়ে বসে। মধ্যমাঠ থেকে ফ্রি কিক নেয় মোহামেডানের জামানী নাগাতা। বল পেয়ে মালির খেলোয়ার সোলেমান ডায়াবেট কিংসের বলপোস্টে ঠেলে দিলে ধরে ফেলে গোলরক্ষক জিকো।
৮৩ মিনিটে মোহামেডানের তকলিছের পায়ে টান ধরলে সে মাঠে পড়ে যায়। তার বদলে মাঠে নামে ইউসুফ।
এক পর্যায়ে দুই দলই যেন খেলার খৈ হারিয়ে ফেলে। গোলের টার্গেট করে দুই দলই যেন আর এগিয়ে যেতে চায়না। আর এ ভাবেই শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারী নাহিদ। মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করেই দুই খেলা বাকি থাকতেই বিপিএলের চ্যাম্পিয়ানের শিরোপাটি ছিনিয়ে নিল বসুন্ধরা কিংস। উল্লাস মাঠ জুড়ে। আনন্দে কিংসের খেলোয়ার সহ সমর্থকরা পরিধান করে বসে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ান লিখা টি সার্ট। এরপর চলতে থাকে আনন্দ উল্লাসের খেলা। কাঁদাপানিতে গড়াগড়ি আর আতশবাজিতে ভরে উঠে শেখ কামাল স্টেডিয়াম।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful