Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৩ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ২০ পুর্বাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / চিলমারী নৌ-বন্দর এখন শুধুই গানে

চিলমারী নৌ-বন্দর এখন শুধুই গানে

Cilmariকুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: “ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও গাড়ী তুই চিলমারীর বন্দরে” সুর সম্রাট মরহুম আব্বাস উদ্দিনের এই গানটির সাথে জড়িয়ে আছে চিলমারী নৌবন্দরের প্রাচীন ঐতিহ্য। গানটির সুর এবং কথা কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকলেও হারিয়ে যেতে বসেছে চিলমারী নৌবন্দরের জৌলুস। নামে নৌ-বন্দর থাকলেও এখন নেই মানুষের প্রাণচঞ্চলতা ও কোলাহল।

জানাগেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় চিলমারী নৌ-বন্দরে ভারতের আসাম, মেঘালয়সহ বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজ পণ্য পরিবহনের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের এ চ্যানেলটি ব্যবহার করে আসছিল। নদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ডুবো চরে জাহাজ আটকে যাওয়ায় জাহাজের পাইলট মাষ্টারদের হয়রানীতে পড়তে হয়। ফলে এ চ্যানেল দিয়ে পণ্য পরিবহনে তেমন আগ্রহ দেখান না বলেই পণ্যবাহী জাহাজও তেমন একটা আসে না। ফলে অলস সময় পার করছেন বিআইডাবি¬উটিএ এর ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বন্দর এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এক সময় কয়লার রেলগাড়ির লম্বা শিস টানাহুইসেলের শব্দে চিলমারী তাদের ঘুম ভাঙ্গতো। কাঁক ডাকা ভোরেই শুরু হয়ে যেত মানুষের কর্মব্যস্ততা। নদীতে স্টিমারে হুইসেল, যাত্রীদের হুড়োহুড়ি, পাল তোলা নৌকার মাঝিদের যাত্রী সংগ্রহের আহ্বান, হকারদের চিৎকার, হোটেলগুলোতে চুলা ধরানোর ধুম। এভাবেই এক সময় পাখির কলতানে হারিয়ে যেত ব্যস্ত মানুষের হাঁকাহাকি আর ডাকাডাকির শব্দে। সূর্য্যরে আলোতে দূর থেকে চোখে পড়ত বড়-বড় পাটের গুদাম, ছোট বড় অনেক কারখার ধোয়া। বিস্তর্ণ মেঠোপথে নেমে আসতো পাটের গাইড ভর্তি গরনুর গাড়ীর বহর। বিট্রিশ আমলে নির্মিত কুড়িগ্রাম জেলার ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরটি আজ হারিয়ে ফেলেছে তার ঐতিহ্য জৌলুস আর গুরুত্ব।

১৯৫০ সালে চিলমারী উপজেলা আত্মপ্রকাশের পথ থেকেই ব্রহ্মপুদ্র নদীর পাড় ঘেষে গড়ে উঠে চিলমারী ন্যৌ-বন্দর। বিট্রিশ সরকারের আমলে এ বন্দরটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বন্দরটিকে ঘিরে চিলমারীতে গড়ে উঠেছিল বড় বড় পাটের, শরিষার, ধানে, গমের, বাদাম, তিষি, ভুট্টার গোডাউন। দেশের নামি দামি পাট কোম্পানী গুলো চিলমারীতে এসে অফিস খুলে পাট ক্রয় করতো। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বিভিন্ন ধরনের মালামাল ক্রয় করার জন্য দিনের পর দিন পড়ে থাকতো। ভারত থেকে আসা কয়লা, তেল সহ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্যাদি জাহাজে করে চিলমারী হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেত। প্রাচীন এ বন্দরটি ১৮৫৬ সালে প্রথম নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। এর পর ১৯২৬ ও ১৯৯৬ সালে ব্যাপক ভাবে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। চিলমারী নদী বন্দরটি বার বার নদী ভাঙ্গনের কারনে বন্দরটির প্রশাসনিক অবস্থা জনাজির্ণ হয়ে পড়ে।

বর্তমানে প্রায় ১৫০টি থেকে ২০০টি বড় বড় মালবাহী ৩০০টি থেকে ৩৫০টি যাত্রীবাহী নৌকা চিলমারী থেকে বাহাদুরের ঘাট নারায়নগঞ্জ, গাইবান্ধা, রৌমারী, রাজিবপুর, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। নৌকা গুলোকে কেন্দ্র করে এ বন্দরে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো। বিগত ৩০ বছর ধরে চিলমারী রমনা নদীঘাটটি অক্ষত থাকলেও সম্প্রতি এর উজানে ভাঙ্গন তীব্র হওয়ায় তা বিলীন হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, ১৯৮৯ সালে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে চিলমারীতে ভাসমান তেল ডিপো স্থাপন করা হয়। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাঅয়েল কোম্পানী ৩টি বার্জ থেকে একই সঙ্গে তেল সরবরাহ করা শুরু করে। পরে পদ্মাঅয়েল কোম্পানী বার্জটি মেরামতের কথা বলে চিলমারী থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এদিকে ২টি বার্জ এর মধ্যে মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানী থেকে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট জেলায় তেল সরবরাহ করে আসছে। প্রতিটি বার্জ ৫ লাখ লিটার করে তেল নিয়ে এসে এ অঞ্চলে সরবরাহ করছে। এ ঘাটতি বিআইডবি¬উটি এর পক্ষ থেকে ১টি জেটি রয়েছে। মূলত জেটিটি কোন কাজে লাগেনা।

ব্রহ্মপুত্র নদের খেয়া ঘাটের কয়েকজন নৌকার মাঝি জানান , ঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র চ্যানেলটিতে বর্ষা মৌসুমে পানির গভীরতা একটু বেশি থাকলেও শুকনো মৌসুমে পানির গভীরতা থাকে ৮ ফুট। সঙ্গত কারণে এ চ্যানেলটি বড় জাহাজ চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে ৫ নং চ্যানেল দিয়ে এখনো ভারতীয় জাহাজ চলাচল করে থাকে।

নৌ-বন্দরের প্রবীণ ব্যবসায়ী আয়নাল আলী জানান, ৪০ বছর ধরে এ বন্দরে ব্যবসা করছেন তিনি। বন্দরে আগের মতো জাহাজ না ভেড়ায় কোলাহল থেমে গেছে। আগে প্রায় প্রতিদিনই জাহাজ ভিড়তো এবং জাহাজের নাবিক-কর্মচারীরা এক সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে বিশ্রাম নিতো। এতে সব সময় কোলাহল ভরে থাকতো বন্দরে। সেই সময় ব্যবসা করে লাভবান হয়েছেন অনেকে। বর্তমানে সে অবস্থা না থাকায় অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন কৃষি কাজে। কিন্তু তিনি এ বয়সে ব্যবসা গুটিয়ে অন্য পেশায় যেতে চাননা বলেই কোন রকমে ধরে রেখেছেন।

চিলমারী বন্দরে ৫ নং চ্যানেলের প্রধান পাইলট আব্দুল করিম জানান, বর্তমানে ভারতে থেকে প্রতি মাসে দু-একটি করে পণ্যবাহী জাহাজ আসে। জাহাজ আমাদের চ্যানেলে ঢুকলে আমরা শুধু তাদের পথ দেখানোর কাজটি করে থাকি। এখন নদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজও কম আসছে বলে তিনি জানান।

চিলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে অব্যাহত ভাঙ্গনে নদের তলদেশ পুড়ে উঠেছে। আর এ জন্য বড় কোন জাহাজ এ চ্যানেল দিয়ে সহজ ভাবে চলতে পারেনা। ফলে এ বন্দরে আর আগের মতো জাহাজ ও ভিড়ছে না। তবে এ বন্দরটি পুনরায় সচল করতে নদী খনন জরুরী। নদী খননের জন্য আমরা বারবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করেছি। নদী খনন হলে বন্দরটি আবারো পূর্বাবস্থায় আবারো পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবো বলে আশা করি।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful