Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ :: ৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ৫১ পুর্বাহ্ন
Home / দিনাজপুর / দূর্ণীতির তদন্ত ধামাচাপা দিতে হিলি শুল্ক গুদামের নিলামের আয়োজন !

দূর্ণীতির তদন্ত ধামাচাপা দিতে হিলি শুল্ক গুদামের নিলামের আয়োজন !

hiliমোরশেদ মানিক, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি স্থলবন্দর সহকারী কমিশনার (এসি) ও হিলি শুল্ক গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। হিলি শুল্ক গুদামের ৭টি লট/ক্যাটালগ (৫টি নতুন ও ২টি পূর্বের স্থগিতকৃত) বিধিবহির্ভুত উপায়ে নিলাম দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সচেতন মহলের পক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। দূর্ণীতির তদন্ত  ধামাচাপা ও আলামত সরাতে  ৩০ নভেম্বর হিলি শুল্ক গুদামের কর্মকর্তরা নিলামের আয়োজন করেছে, অভিযোগ সচেতন এলাকাবাসী ও বঞ্চিত নিলাম ডাককারীদের !

 অভিযোগে প্রকাশ, কোন শুল্ক গুদামে জমাকৃত পণ্য সাধারণ নিলামে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এর পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে শুল্ক গুদামে নিয়োগকৃত সরকারি নিলামকারী অথবা কোন কারণে সেখানে ‘পদ’টি যদি শুন্য থাকে সেক্ষেত্রে অন্য কোন শুল্ক গুদামে নিয়োজিত সরকারি নিলামকারীর মাধ্যমে পণ্যগুলির লট/ক্যাটালগ (একই শ্রেণির পণ্যগুলিকে একত্রে করাকে বুঝায়) প্রস্তুত করার বিধান রয়েছে। হিলি শুল্ক গুদামে সাধারণ নিলাম দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করা হলেও হিলি শুল্ক গুদামে সরকারি নিলামকারীর পদটি শুন্য রয়েছে। অন্য শুল্ক গুদামের সরকারি নিলাম কারীর মাধ্যমে লটগুলি প্রস্তুত না করেই হিলি স্থলবন্দর এসি মাজেদুল হক অধিন্যস্ত কর্মকর্তাকে নিলামের নির্দেশ দেয়। হিলি শুল্ক গুদাম কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম হিলি শুল্ক গুদামে জমাকৃত কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার পণ্যগুলি লট আকারে নিলামে বিক্রয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। যাহা কাষ্টমস্রে স্থায়ী আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এসি মাজেদুল হক আগামী ৩০ নভেম্বর (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ৭টি লট নিলাম অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষনা করেছেন। হিলি শুল্ক গুদামে ইতোপূর্বে কোনদিনও সরকারি ছুটির দিন কোন সাধারন নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। নিলামে অংশ গ্রহনের নিমিত্তে ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার জমা দেয়ার জন্য ব্যাংক খোলা থাকা আবশ্যক। রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্নস্থানের ইচ্ছুক নিলাম ডাককারীগণ ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার ব্যতিরেখে নিলাম ডাকে অংশ নিতে না পারে, এ আয়োজন বাস্তবায়নে সচেষ্ঠ হিলি শুল্ক গুদামের কর্মকর্তারা এমনই অভিযোগ ইতিপূর্বে অংশ নেয়া কয়েক নিলাম ডাককারীর।

অধিক হারে রাজস্ব আহরণের লক্ষে নিলাম অনুষ্ঠানের অন্তত ৭/১০ দিন পূর্ব থেকে নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি সারা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারের বিধান থাকলেও এসি মাজেদুল হক ও গুদাম কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামের যোগসাজশে নিলাম সিন্ডিকেটের নিকট গোপনে ম্যানেজ হয়ে মাত্র ২টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করে তিনি যেন দায়সারা গোছের প্রচারণা সম্পন্ন করেছেন। মাইকযোগে নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার হয়নি। সাবেক এসি ও গুদাম কর্মকর্তাগণের দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে হিল শুল্ক গুদামের নিলাম দেয়ার প্রাক্কালে নিলাম বিজ্ঞপ্তি হাকিমপুরসহ দিনাজপুরে ক্যাবল টিভিতে প্রচার করাসহ বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকাগুলিতে প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও এবার সেগুলিও করা হয়নি। এতে করে অনেক ইচ্ছুক নিলাম ডাককারীগণের নিকট নিলামের বিষয়টি অজানাই রয়ে যাবার অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে দেশের বিভিন্নস্থানের নিলামে অংশ গ্রহনকারীগণের মধ্য হইতে (১) মেসার্স এলাহী কন্সট্রাকশন, প্রো: মোঃ তুহিন, সাং-ষষ্টীতলা, রাজশাহী, (২) মেসার্স হাবিবুল হক ট্রেডার্স, প্রো: মোঃ হাবিবুর রহমান, সাং-রানীনগর, রাজশাহী,  (৩) মেসার্স রিহাব কন্সট্রাকশন, প্রো: মোঃ কবির হোসেন, সাং-তাঁতীবাজার, ঢাকা, (৪) মেসার্স সুজন ক্লোথ স্টোর, প্রো: মোঃ সাইফুল ইসলাম, বড় মগবাজার, ঢাকা, (৫) মেসার্স সাব্বির এন্টারপ্রাইজ, প্রো: মোঃ শহীদুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়, (৬) মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজ, প্রো: আবুল খায়ের, সাং-সাতমাথা, বগুড়াগণ সহ আরও অনেকে হিলি শুল্ক গুদামের সাধারণ নিলামে ব্যাপক প্রচারে অনিয়মের কারণে বিষয়টি জানতে না পারায় ও দেশের চলমান হরতাল-অবরোধ চলাই সিডিউল ক্রয় করাসহ উক্ত নিলাম ডাকে অংশগ্রহণ করা থেকে  বঞ্চিত হয়েছেন। সাধারণ নিলাম দেয়ার ক্ষেত্রে গঠিত নিলাম কমিটি কর্তৃক প্রতিটি লট/ক্যাটালগ’র পণ্যের গোপন বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কাষ্টমস্রে পরিভাষায় এটিকে ‘শুল্ক নিরোপিত’ মূল্য বলা হয়। শুল্ক নিরোপিত মূল্যের নুন্যতম ৬০% মূল্যে লট বিক্রয় করার বিধান রয়েছে। তবে প্রথম বার যদি ৬০% মূল্যে ডাকা না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পরপর ৩ বার নিলাম ডাক দেয়ার বিধান রয়েছে। স্থগিতকৃত লট দুটির মধ্য ১টি লটের নম্বর হচ্ছে ৮/১২।এই লটটিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী ও ইমিটেশন জুয়েলারী সামগ্রী রয়েছে। লটটির  শুল্ক নিরোপিত গোপন মূল্য নির্ধারন করা হয়েছিল ১ কোটি টাকার উর্দ্ধে । লটটির নিলাম ডাকে সর্বোচ্চ ডাককারী প্রথম ডাকেই তাঁর ডাক মূল্য ছিল ৬০ লক্ষ টাকা। এরপরও লটটি তাঁকে না দিয়ে রহস্য জনক কারণে নিলামটি বাতিল করা হয় এবং এরপর আরও পরপর ২ বার নিলাম দেয়ার বিধান থাকলেও সেটি করা হয়নি। এছাড়াও তৎকালীন গুদাম কর্মকর্তা অনিল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে শুল্ক নিরোপিত মূল্যটি কতিপয় নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মালিকগণের নিকট ফাঁস করে দেয়ার এবং লটটিতে কম মূল্যের প্রসাধনী সামগ্রী ও জুয়েলারী সামগ্রী রেখে দিয়ে মূল্যবান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রসাধনী ও জয়েলারী সামগ্রী আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে লটটির পণ্যগুলির গুনগত মান অক্ষুন্ন রয়েছে কি না তা নিলাম কমিটি কর্তৃক যাচাই বাচাই করে মন্তব্য প্রতিবেদন পেশ করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এতে লটটি নিলামে বিক্রয়ে সরকারের মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাবার আশঙ্কা রয়েছে।

হিলি চন্ডিপুর মহল্লার রমেশ চন্দ্র বসাকের পুত্র সাংবাদিক রমেন বসাকসহ অপর ২ ব্যক্তি হিলি শুল্ক গুদামের কোটি কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক গুদাম কর্মকর্তা অনিল চন্দ্ররায় ও বর্তমান গুদাম কর্মকর্তা আমিরুল ইসলামকে  অভিযুক্ত করে রংপুর কাষ্টমস্ কমিশনার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর অভিযোগটির বিষয়ে একই কার্যালয়ে তৎকালীন এসি মাজেদুল হককে (বর্তমানে তিনি হিলি স্থলবন্দরের এসি’র দায়িত্বে রয়েছেন) আহবায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এর শুরুতেই রহস্যজনক কারণে কমিশনার এনামূল হক তদন্ত কাজটি ধামাচাপা দেন এবং এসি মাজেদুল হককে হিলি স্থলবন্দরে বদলী করেন। এসি মাজেদুল হক হিলি স্থল বন্দরে যোগদান করার পরেই সাধারণ নিলামটি দেয়ার জন্য একেবারে উঠেপড়ে লেগেছেন। এমতাবস্থায় অভিযোগকারীরা গত ১৩ নভেম্বর পূনরায় রংপুর কাষ্টমস্ কমিশনারের নিকট ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবার আশঙ্কায় এর সুবিচারের আশায় প্রধান মন্ত্রী, এনবিআর’র সদস্য (প্রশাসন) সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের গোয়েন্দা দপ্তরের ৪ জন উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পৃথক পৃথক ভাবে অভিযোগ দেন। এছাড়াও গত ২৭নভেম্বর তারা উপ-পরিচালক, দুদক, দিনাজপুর বরাবরেও একই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 এব্যাপারে জানতে চাইলে রমেন বসাক বলেন, দুর্নীতিটির সুষ্ঠু তদন্ত হলে অনীল চন্দ্র রায়সহ আরো অনেক রাঘব বোয়ালরাই ফেঁসে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় তারা পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলতেই তদন্তটি সমাপ্ত করার চেয়ে তদন্তের আলামতগুলি (নিলামযোগ্য ও অভিযুক্ত মালামালগুলি) নষ্ট করতেই এই নিলাম দেয়ার প্রতি অধিক আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি দেশের স্বার্থে রাজস্ব আহরণের স্বার্থে নিলাম দেয়ার পূর্বেই অভিযোগের তদন্তের জোর দাবী জানিয়েছেন। এছাড়াও অভিযোগটিতে ধ্বংসযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য যেমন ঃ পাট বীজ, পোস্তদানা, ফেন্সিডিল, মদ, বিভিন্ন প্রকার ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ইত্যাদি কাগজে কলমে কোটি কোটি টাকা মূল্যের পণ্যের হিসাব থাকলেও এর সিংহ ভাগই তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মসাত করার অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া স্বত্ত্বেও এগুলি তদন্তের পূবেই ধ্বংস করে অভিযোগের আলামতগুলি নষ্ট করে ফেলারও পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যেন, এসি মাজেদুল হক ও আমিরুল ইসলাম হিলি শুল্ক গুদামে দুর্নীতিই যেন মূলনীতিতে পরিণত করেছেন।

এব্যাপারে ২৮ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এসি মাজেদুল হকের ব্যবহৃত ০১৭১৪৮৭৬৭৭৬ নম্বর মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তাঁর অফিসের ০৫৩২৯-৭৫৩৫৮নম্বর টেলিফোনে বার বার ফোন করলে আনছার আলী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কাস্টমস সিপাহী বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, স্যার অফিসে নেই।

গোপন নিলাম ডাকের মাধ্যমে দুর্নীতিটির তদন্তটি ধরা ছোঁয়ার বাহিরেই রয়ে যাবে ? নাকি তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সচেতন এলাকাবাসী এই পাঁতানো নিলাম অনুষ্ঠানটি স্থগিত করে, অভিযোগের তদন্ত শেষে পরবর্তীতে বিধি মোতাবেক সুষ্ঠু নিলাম ডাকের আয়োজন করতে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful