Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ২ : ২২ পুর্বাহ্ন
Home / ক্যাম্পাস / রংপুর সরকারী কলেজ এবং কিছু কথা

রংপুর সরকারী কলেজ এবং কিছু কথা

rangpur gov.আহনাফ আবিদ বসুনীয়া : রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য কলেজ । এগুলোর মাঝে যেগুলো প্রধানতম তাদের মাঝেই রংপুর সরকারী কলেজ অন্যতম ।

১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি নিজ দ্যুতিতে সারা বাংলাদেশে পরিচিত। রংপুর এবং আশেপাশের জেলাগুলোর সেরা স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখনো রংপুর সরকারী কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে এই কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা কি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে সক্ষম? পারিপার্শ্বিকতার কথাই প্রথমে বলা যাক । রংপুরের রাধাবল্লভ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ । ছায়া ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। কিন্তু তারপর ? ক্যাম্পাসে যতগুলো বৃক্ষ আছে বোধকরি তারচেয়েও অধিক আছে ছাত্রনেতা আর ক্যাডার । শিক্ষার্থীরা, বিশেষত শহরের বাইরে থেকে জারা আশে তারা ছাত্রনেতা আর ক্যাডারদের উপদ্রবে অস্থির হয়ে পড়ে। কলেজে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন অথবা নগদ অর্থ খোয়া যাওয়া এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। যারা বাইরে থেকে আশে তারা অনেক সময় প্রতিবাদ করার সুযোগটাও পায় না । কেননা সেই মুহূর্তে মুঠোফোন, হাতঘড়ি কিংবা টাকা পয়সার চেয়েও হাত, পা অথবা মাথা রক্ষা করা হয়ে ওঠে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের এইসব সমস্যা সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করলেও তারা থাকে আশ্চর্য রকম নীরব। ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলেছে । কাজেই খোলা চোখে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখা গেলেও তাদের কোমল মতি মনের কোণে সব সময় এক রকম আতঙ্ক থেকেই যায় । চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রংপুর সরকারী কলেজের ফলাফল আশ্চর্য রকম নীচে নেমে গেছে । গত বছর যেখানে দিনাজপুর বোর্ডে সর্বাধিক A+ পায় এই প্রতিষ্ঠান, সেখানে এবার পেয়েছে মাত্র ২৯৫ জন । যার মাঝে শুধুমাত্র ২৪৫ জনই পায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে (সুত্রঃ কলেজ অফিস) ! ২৯৫ সংখ্যাটা নেহাত কম নয় । কিন্তু পরীক্ষার্থী হাজার ছাড়িয়ে গেলে তাকে কমই বলতে হবে। খারাপ ফলের জন্য শিক্ষকেরা সব সময় শিক্ষার্থীদের দোষারোপ করে থাকেন। কিন্তু কলেজর পাঠদান পদ্ধতিও কি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত ?

বিজ্ঞানের সম্পূর্ণ ব্যাবহারিক বিষয়গুলি প্রতিটি শাখায় এক সাথে দুই শত শিক্ষার্থীকে শেখানো হয় । মানবিক বিভাগ তো আরও এক কাঠি সরেস। বিশাল একটা হলরুমে সাড়ে তিনশ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ান হয় ! শেষের দিকে বসলে শিক্ষককে ঠিকমতো দেখাই যায় না ।

কলেজ প্রশাসনের ব্যর্থতা যেখানে সবচেয়ে প্রকট হয়ে দেখা যায় তা হল ভর্তি বাণিজ্য । ভর্তি ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমন অবস্থায় চলে গেছে যে, যেখানে মাত্র একটা বিষয়ের জন্য গোল্ডেন না পাওয়া শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে না সেখানে GPA 4.50 এর নিচে পেয়েও অনেকে ভর্তি হয়ে যায় অনায়াসে আর অবশ্যম্ভাবী ভাবে তা প্রভাব ফেলে ফলাফলের উপর । ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি যে , ছাত্রনেতারা প্রতিজন শিক্ষার্থীকে বে-আইনি ভাবে ভর্তি করিয়ে কমপক্ষে বারো থেকে পনের হাজার টাকা নিয়ে থাকেন । যদি শিক্ষাবর্ষে একশত জন বে-আইনি ভাবে ভর্তি হয় তাহলে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয় তা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় । যদিও বে-আইনি ভাবে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি । ব্যাপারটা আরও বেশি দুঃখজনক হয় যখন দেখি সিলেটের মদন মোহন কলেজে মাত্র(!) সত্তর লক্ষ টাকার দুর্নীতি নিয়ে স্বয়ং অর্থমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন, অথচ তার দ্বিগুণের বেশি টাকার দুর্নীতি নিয়ে কেউ কিছু বলেনা । তাহলে কি রংপুরের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও কলেজের ছাত্রনেতাদের হাতে জিম্মি হয়ে পরেছেন? নাকি ভারি হয়ে উঠছে তাদের পকেটও ?

সব শেষে আমি রংপুর সরকারী কলেজ প্রশাসন এবং ছাত্রনেতাদের প্রতি অনুরোধ করে বলতে চাই, আসুন সবাই মিলে শিক্ষার উপযোগী একটা ক্যাম্পাস গড়ে তুলি। শিক্ষার্থীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেরাই এগিয়ে আসি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং দাবী দাওয়া বাস্তবায়নে ক্যাম্পাস ভিত্তিক সুস্থ, সুন্দর ও কল্যাণকর ছাত্র রাজনীতির চর্চা করি। এতে শুধু রংপুর অঞ্চল নয়, উপকৃত হবে গোটা দেশ এবং জাতি। রংপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা পাবে শুধু উত্তরবাংলারই নয় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful