Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ :: ৮ আশ্বিন ১৪২৬ :: সময়- ১১ : ৫৫ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / চা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন পঞ্চগড়ের চাষিরা

চা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন পঞ্চগড়ের চাষিরা

স্টাফ রির্পোটার: উত্তরের জেলার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার চা শিল্পের বিপ্লব শুরু হয়। অল্প সময়েই ঘুরে গিয়েছিল অর্থনীতির চাকা। গত বছরও ছিল চা পাতার বেশ দাম। কিন্তু এক বছরেই হঠাৎ কচি চা পাতার দরপতনে ব্যাপক লোকসানে নীরবে কাঁদছে চা চাষিরা। চলমান লোকসানের জের ধরে চা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষুদ্র চাষি। এতে করে চরম হুমকির মুখে পড়েছে তেঁতুলিয়া উপজেলার সবুজ চা শিল্প।

চা শিল্পকে ঘিরে নতুন নতুন চা কারখানা গড়ে উঠলেও মিলছে না পাতার ন্যায্য দাম। অর্থ বিপ্লবের এই চা শিল্পকে নিয়ে চলছে কারখানা মালিক ও চা চাষিদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। চাষিদের অভিযোগ, কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চা পাতার দাম কমিয়ে দেয়ার কারণে তারা তাদের উৎপাদিত পাতার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বাজারে এখন চা পাতার দামের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি।

কিন্তু চা কারখানা মালিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, ক্ষুদ্র চাষিরা কাঁচাপাতা তুলতে সঠিক নিয়ম না মানায় কমে গেছে চায়ের মান। তাই অকশন মার্কেটে প্রস্তুতকৃত চা যাওয়ার কারণে কমেছে কাঁচা চা পাতার দামও। কাঁচা চা পাতার দাম বাড়ানোর জন্য চাষিদের নিয়ম মেনে তা সংগ্রহ ও ভালো চারা রোপণের পরামর্শ দিচ্ছে টি-বোর্ড।

চা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে চা কারখানাগুলো ১০-১২ টাকা কেজি দরে পাতা কিনছে। এখান থেকে আবার বিভিন্ন অজুহাতে শতকরা ২০/৩০ ভাগ পাতা কেটে নিচ্ছে চা কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিকেজি চা উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ছে ১৪-১৫ টাকা। এতে করে ক্ষুদ্র চা চাষিদের মজুরি এবং সার-কীটনাশকের খরচ জোগাতে ঘর থেকে টাকা ঢালতে হচ্ছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত এখন লোকশান গুণতে হচ্ছে চাষিদের। এসব কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন নতুন চাষিরা। আর যারা চা চারা উৎপাদন করছেন, তারাও বিক্রি করতে পারছেন না।

চা পাতার ন্যায্যমূল্যের দাবিতে চাষিরা বিভিন্ন সময় রাজপথে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ করলেও কোনো সুফল মিলেনি। সরকারিভাবে মূল্য নির্ধারণ করলেও সেটা বহাল থাকেনি। সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ কমিটি ২৪.৫০ পয়সা থেকে ১৬.৮০ পয়সা মূল্য নির্ধারণ করলেও সেটি বহাল থাকেনি শেষ পর্যন্ত। এক কুঁড়িতে ৪/৫ পাতার চা পাতা সরবরাহের জন্য চাষিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কারখানা মালিকদের প্রতি বৃন্তে ৪/৫ পাতার বেশি কাঁচা চা পাতা না নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও তারা এই নির্দেশনা মানছেন না।

সরেজমিনে উপজেলার দর্জিপাড়ার অর্ধশতাধিক চা চাষির সঙ্গে কথা বললে তারা উত্তরবাংলাকে জানান, চা চাষে ব্যাপক লোকসানে আছি। এমনিতে চা পাতার দাম কম, তার মধ্যে অনেক সময় কারখানাগুলো চা পাতা নিচ্ছে না। নিলেও ৩০-৩৫% পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। আবার চা পাতা যাতে সময় মতো না দিতে পারে পরিকল্পিতভাবে অনেক সময় হুট করে চা কারখানা বন্ধ রাখা হয়।

পেদিয়াগজ এলাকার ক্ষুদ্র চা-চাষি ফারুক হোসেন উত্তরবাংলাকে বলেন, এক হাজার কেজি কাঁচা চা উৎপাদনে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। কারখানায় নিয়ে গেলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কেটে নিয়ে দাম পাই সাত হাজার টাকা।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলুও প্রশাসন ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চেষ্টা করেছেন চা চাষিদের উৎপাদিত চা পাতার ন্যায্যমূল্য পেতে। জেলা প্রশাসন, চা কারখানা মালিকদের নিয়ে মূল্য নির্ধারণ কাগজে-কলমে করা হলেও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি।

স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি হবিবুর রহমান হবি উত্তরবাংলাকে বলেন, ‘পঞ্চগড়ে সরকারিভাবে একটি চা কারখানা স্থাপন করার কথা ছিল, সেটি দ্রুত স্থাপন করা হোক। সেই সঙ্গে পঞ্চগড়ের সব চাষিকে চা একটি বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। সেখান থেকে কারখানা মালিকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী চা কিনে নিয়ে যাবেন।’

চলমান চা পাতার দরপতনের অচলাবস্থা দূর হবে কি না এমন আশঙ্কায় প্রহর পোহাচ্ছেন চাষিরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের নর্দান প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শামীম আল মামুন উত্তরবাংলাকে জানান, নিলাম বাজারে এখানকার চায়ের দাম কমায় কাঁচা পাতার দামে প্রভাব পড়েছে। চা উৎপাদনে গুণগত মান রক্ষা করতে পারলে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful