Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ০৪ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / রেলপথে নাশকতা : নেপথ্যে রেলকর্মীরাই?

রেলপথে নাশকতা : নেপথ্যে রেলকর্মীরাই?

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইসমাইল আলী: ১৮ দলীয় জোটের গত সপ্তাহের ৭১ ঘণ্টা অবরোধে রেলপথ ঘিরে ধারাবাহিক নাশকতা চালানো হয়। এ সময় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফিশপ্লেট ও লাইন খুলে ফেলায় ২০ জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসব নাশকতার নেপথ্যে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরাই জড়িত বলে মনে করছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে গোয়েন্দা শাখার পৃথক প্রতিবেদনেও এ ধরনের আভাস দেয়া হয়।

রেলওয়ের তথ্যমতে, গত সপ্তাহের অবরোধে অন্তত ১০০ স্থানে ছোট-বড় নাশকতা চালানো হয়। তবে বড় আঘাত আসে রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। এ পথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর ও কুমিল্লায় তিন দফা ফিশপ্লেট ও লাইন খুলে ফেলা হয়। এর মধ্যে অবরোধ শুরুর আগে সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কসবা ও ইমামবাড়ী স্টেশনের মধ্যে ৬৬৮ ফুট লাইন (এক কিলোমিটারের বেশি) তুলে পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মাত্র ৪০ মিনিটে কসবা ও ইমামবাড়ী স্টেশনের মধ্যে এক কিলোমিটারের বেশি রেললাইন তুলে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দ্রুত রেললাইন তুলে ফেলা সম্ভব নয়। এছাড়া লাইনটি তোলার জন্য ফিশপ্লেট ও রেলক্লিপ খোলা হয়। এজন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্র দরকার; যা সাধারণ মানুষের কাছে থাকার কথা নয়। এছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে অবরোধ শুরু হলেও সোমবার রাতেই লাইন উঠিয়ে ফেলা অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা।

এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পথেই আটকা পড়ে ছয়টি ট্রেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সাধারণ মানুষের পক্ষে চিহ্নিত করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা। আখাউড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত লাইনটি মেরামত করে ট্রেন চলাচল শুরু হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে জয়দেবপুরে ফিশপ্লেট খুলে ফেলায় আবার তা বন্ধ করা হয়।

জানা গেছে, রাত ৯টা ২০ মিনিটে একটি ট্রেন জয়দেবপুর অতিক্রম করে। সে সময় পথটি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ১০টায় আরেকটি ট্রেন অতিক্রম করার সময় ফিশপ্লেট খোলা থাকায় তা লাইনচ্যুত হয়। মাত্র ৪০ মিনিটে ফিশপ্লেট খুলে ফেলা হয়। বুধবার দুপুরের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে রাতে কুমিল্লায় আবার ফিশপ্লেট খুলে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এসব ঘটনায় তিন দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়।

গত সপ্তাহের অবরোধে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে, বগুড়া, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রেললাইন তুলে ফেলা হয়। এছাড়া গতকাল কুমিল্লার রেললাইন তুলে ফেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজবাড়ীতে ফিশপ্লেট তুলে ফেলায় ছয়টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (ট্রাফিক) সৈয়দ জহুরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনের নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের কর্মীরা যুক্ত থাকতে পারেন। কারণ রেলে ট্রেড ইউনিয়ন আছে। এসব ইউনিয়নে বিভিন্ন মতাদর্শের শ্রমিক রয়েছেন। তারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। অবরোধের সময় বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে, ঢিল ছুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধের চেষ্টা করা হয়। সাধারণ মানুষ ফিশপ্লেট বা লাইন খুলতে পারলে সব স্থানে এ চেষ্টাই করা হতো। রেলপথ আটকে অবরোধ করার প্রয়োজন হতো না। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা উচিত।

এদিকে রেলপথে চলমান নাশকতায় রেলওয়েরই শ্রমিক সংগঠনভিত্তিক একশ্রেণীর কর্মচারী জড়িত বলে ইঙ্গিত পেয়েছে গোয়েন্দা শাখা। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দিনে রেলপথে নাশকতাকারীদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা রেলওয়ের লোক বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা ইমামবাড়ী এলাকায় যেভাবে এক কিলোমিটার রেললাইন সরিয়ে ফেলা হয়, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

রেলওয়ের এক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবরোধে চলমান নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরা জড়িত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তারা সরাসরি এ কাজ না করলেও নাশকতাকারীদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, রেলওয়ের লোকবলের বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এদের নাম কেটে দিলেই চাকরিচ্যুত। তাই নাশকতার সঙ্গে অস্থায়ী লোকজন জড়িত থাকলে রেলওয়ের কিছু করার নেই। এছাড়া নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের কর্মী জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের ৭১ ঘণ্টার অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতায় রেলের ক্ষতি হয় ৯ কোটি টাকা। এছাড়া ধারাবাহিক নাশকতায় রেলের যাত্রী অনেক কমে যায়। এ সময় যাত্রা বাতিল করা হয় বেশকিছু ট্রেনের। এছাড়া চলমান প্রতিটি ট্রেনেই টিকিট ফেরত আসে। এতে রেলওয়ের রাজস্ব ক্ষতি হয় প্রায় কোটি টাকা। -বি.বা.

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful