Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ :: ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ :: সময়- ৪ : ৪০ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / ক্যাসিনো ইস্যু খুব দ্রুত চাপা পড়ে যাবে না তো।। নজরুল মৃধা

ক্যাসিনো ইস্যু খুব দ্রুত চাপা পড়ে যাবে না তো।। নজরুল মৃধা

সম্প্রতি দেশে একটি শব্দ বহুল প্রচলিত হয়েছে তা হল ক্যাসিনো। ক্যাসিনো বাণিজ্যে হাতে গোনা যে দু’চারজন আটক হয়েছে তার চেয়ে শতগুন বেশি হয়েছে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা। পত্রপত্রিকার সূত্রমতে এ পর্যন্ত যারা আটক হয়েছে তাদের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ এর বেশি হবেনা। অথচ এ নিয়ে কতই না হইচই। এই ক্যাসিনো বাণিজ্যও রয়ে যেত দৃষ্টির অন্তরালে যদি না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন না করতেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে হাতে গোনা দুচারজনকে ধরে জুয়ার এই রমরমা ব্যবসা বন্ধ করা যাবে কি। এর শেকড় পর্যন্ত কি যেতে পারবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। না পারারই কথা। কারণ মদ, জুয়ার ভাগ তারাও পায়। বেশি ঘাটাঘাটি করলে তাদেরও আইনের আওতায় আসতে হবে। তাই অতিতের অন্যান্য ইস্যুগুলোর মত ক্যাসিনো ইস্যুও খুব দ্রুততম সময়ে চাপা পড়ে যেতে বাধ্য হবে। তবে স্বল্প সময় কিংবা স্বল্প সংখ্যক মানুষকে আটক করে জুয়া বন্ধে যে মহতি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এ জন্য দেশবাসির ধন্যবাদ পেতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার পরেও কিছু কথা রয়ে যায় তা হল পর্দার অন্তরালের অভিনেতাদের কথা। তারা অন্যান্য ঘটনার মত এই ইস্যুটিতেও পর্দার আড়ালে থেকে যাবেন না তো।
এবার ক্যাসিনোর উৎপত্তি সম্পর্কে কিছু ধারণা নিতে পারি। ক্যাসিনো ইটালী শব্দ। এর মূল অর্থ হচ্ছে ঘর। ক্যাসিনো বলতে ছোট ভিলা, গ্রীষ্মকালীন ঘর কিংবা সামাজিক ক্লাবকে বোঝানো হতো। তবে ১৯ শতকের দিকে ক্যাসিনো বলতে এমনসব ভবনকে বোঝানো হত যা আনন্দ-বিনোদনের নিরাপদস্থল বলে বিবেচিত হত। যেমন নাচ, গান, জুয়া ও ক্রীড়া ইত্যাদি। আধুনিক দিনে ইটালীতে আরেকধাপ এগিয়ে ক্যাসিনোকে ব্যবহার করছে জুয়ার পাশাপাশি পতিতালয় হিসেবে।

তবে সব ক্যাসিনোতে কিন্তু জুয়াা খেলা হয়না। ক্যালিফোর্নিয়াার শান্তা কাতালিনা দ্বীপের কাতালিনা ক্যাসিনোতে কখনো জুয়া খেলা হয়নি। এটা যখন নির্মাণ করা হয় তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ছিল। তেমনি কোপেনহেগেন ক্যাসিনো একটি থিয়েটার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৮৪৮ সালের আন্দোলনের সময় এখনকার গণজমায়াতের কারণে এই ক্যাসিনোটি পরিচিত লাভ করে। এই আন্দোলন ডেনমার্ককে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত করে। ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ডেনিশ থিয়েটার নামে সুপরিচিত ছিল ক্যাসিনোটি। ফিনল্যান্ডের হাংকো ক্যাসিনোতেও কখনো জুয়া খেলা হয়নি। জার্মান এবং স্প্যানিশ ভাষায় ক্যাসিনোকে বলে অফিসার মেস।

জুয়ার উৎসটা পরিস্কার না হলেও ১৬৩৮ সালে ক্যাসিনো ইউরোপের ভেনিসে শুরু হয়। তবে ১৭৭৪ সালে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। আমেরিকায় স্যালুন নামে প্রথম জুয়ার বাড়ি অর্থাৎ ক্যাসিনো চালু হয়। আমেরিকার শহর নিউ অরেলিন্স, সেন্ট লুইস, শিকাগো এবং স্যানফ্রান্সিস্কোয় জুয়ার জন্য স্যালুন নির্মিত হয়। এসব স্যালুনে যারা আসতেন তারা পান করতো, আড্ডা দিতো এবং জুয়া খেলতো। ১৯৩১ সালে নেভাদায় জুয়া খেলাকে বৈধ করা হলে সেখানে প্রথম বৈধ আমেরিকান ক্যাসিনো নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালে নিউ জার্সি আটলান্টিক শহরে জুয়া খেলার অনুমোদন দেয়া হয়। এটা বর্তমানে আমেরিকার বৃহৎ জুয়ার শহর। জার্মানিতে নির্দিষ্ট লাইসেন্সের অধীনে মেশিন ভিত্তিক জুয়া খেলার ক্যাসিনো, রেস্তোরা ,বার চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। খরিদ্দারেরা ক্যাসিনো গেমস দ্বারা জুয়া খেলে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা দক্ষতারও প্রয়োজন হয় কারণ এই খেলার অধিকাংশ গেমস গাণিতিকভাবে বিন্যাস করা থাকে । ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় সব সমাজেই কোন না কোন ভাবে জুয়ার প্রচলন ছিলো। প্রাচীন গ্রীক-রোমান থেকে নেপোলিয়নের ফ্রান্স থেকে বর্তমান বাংলাদেশে আসন গেড়েছে এই ক্যাসিনো জুয়ার আড্ডা। অনেকের মতে ৮০ দশকের পরপরই বাংলাদেশে ক্যাসিনোর যাত্রা শুরু হয়। তবে এটির ব্যপকতা কতবড় তা প্রকাশ পেয়েছে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর জুয়া বিরোধী অভিযানে।
মনোবিজ্ঞানিদের মতে জুয়া খেলা বহু পুরনো এবং প্রচলিত একপ্রকার অবসর-বিনোদনের মাধ্যম। তবে জুয়া খেলতে খেলতে অনেক মানুষই নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। জুয়ায় হেরে গিয়ে জীবনটাকে সমস্যাবহুল করে তোলেন তারা। যারা জুয়ায় আশক্ত তারা জীবনযাত্রার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে জুয়ার মাধ্যমে আর্থিক উন্নতির পথ খোঁজেন। নিয়মিত জুয়ারুরা শেষ পর্যন্ত টাকা পয়সা হারিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েও এই নেশা থেকে বের হতে পারছেনা। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি লেগেই থাকে। এটা তাদের কাছ মাদকের চেয়ে বড় নেশা। প্রথম দিকে মানুষ নিজের আনন্দের জন্য জুয়া খেলে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যেও জুয়ার নেশা মানসিক রোগে পরিণত হয়ে যায়। জুয়ার নেশার মতো মনের অসুখকে প্রথম প্রথম মানুষের হঠকারি মনোভাব বা আচরণ বলে মনে করা হত। কিন্তু এখন এ মাদকাসক্তির মতোই একপ্রকার আসক্তি হিসেবে চিহিৃত হয়েছে জুয়াকে।

এই জুয়া বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও কোন কোন রাজনীতিবিদ আমাদের দেশে এই জুয়ার উৎপত্তি সম্পর্কে একে অন্যকে দোষারুপ করছে। যা অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু বলে মনে হচ্ছে। কে ক্যাসিনো বাংলাদেশে এনেছে এটা বড় কথা নয়। এই জুয়ার মাধ্যমে অনেকেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিন্তু সম্পদের এই পাথাড় গড়ার বিষয়টি ক্যাসিনো মালিকদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এই অবৈধ কাজকে দিনের পর দিন অলিখিত বৈধতা যারা দিয়েছে তাদের নাম এখনো মিডিয়ায় আসেনি। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করছেন এই জুয়ার ভাগ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ অনেকেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে হাতে গোনা ১০/১৫ জনকে আটক করে বিচারের আওতায় আনলেও প্রকৃত সমস্যরা সমাধান হবে না। যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই জুয়া খেলায় সহযোগিতা করে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তাদেরকেও পর্দার অন্তরাল থেকে টেনে বের করে আইনের আওতায় আনতে পারলে হয়ত এই জুয়ার লাগাম টেনে ধরা কিছুটা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

অনেক আগের একটি ইরানি ছায়াছবি দেখেছিলাম। ছবিটির সারমর্ম ছিল। এক পুলিশ কর্মকর্তা তার সন্তান মাদক ও জুয়ায় আশক্ত হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এক সময় তিনি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে অভিযানে নামেন। অভিযানে নেমে তিনি দেখতে পান এই মাদক জুয়ার টাকার ভাগ রাষ্টযন্ত্রের সর্বনি¤œ ব্যক্তি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিটি পাচ্ছেন। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তার মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান ব্যর্থতায় পরিনত হয়।

৮০ দশকের আগে আগে আমাদের দেশে ভিসিআর এর ব্যবসা শুরু হয়। অবৈধভাবে এই ভিসিআর দেখানো হত কোন গোডাউনে অথবা কারো বাড়ির বড় রুমে। টাকার বিনিময়ে টিকিট কেটে ভিসিআরে আমরা হিন্দি ও ইংরেজি ছবি দেখতাম। সে সময়ের একটি ঘটনা বলি। আমাদের বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত গোডাউন ছিল। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে এখানে ভিডিও চালানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। ভিডিও ভাড়া নিয়ে প্রদর্শনের খবরটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় দেখি সন্ধ্যা না হতেই দর্শক আসতে শুরু করেছে। ৫ টাকা করে টিকিট। দেখতে দেখেতে গোডাউন ভরে গেল দর্শকে। পরপর ৩ বার একই ছবি প্রদর্শন করা হল। এর পরের কাহিনীটি অন্য রকম। গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য এসে বলল আপনারা বেআইনিভাবে ভিডিও চালাচ্ছেন। এটা বন্ধ করেন। তাদের ম্যানেজ করতে ৫ টাকা করে টিকিট বিক্রির অর্ধেক টাকাই তাদের হাতে ধরিয়ে দিতে হল। এর পর এল পাড়ার বড় ও ছোট ভাইদের গ্রæপ। তাদের আবদার ভাই আমরা কিছু পাব না। তাদেরকেও টিকিট বিক্রির কিছু টাকা দিতে হল। সব শেষে দেখা যায় সবাইকে দিয়ে আমাদের কিছুই থাকেনি। ওই একদিনেই ভিডিও প্রর্দশনের ইচ্ছেটা আমাদের হাওয়ায় মিলিয়ে গেলও অভিজ্ঞতাটা আজও মনের পর্দায় স্থীর হয়ে রয়েছে। ওই একদিনে অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বলতে চাই অবৈধভাবে ক্যাসিনো অর্থৎ জুয়া চলছে ঠিকই। কিন্তু যাদের প্রশ্রয়,¯েœহ-মমতায় ক্যাসিনো মালিকরা হাইব্রিড প্রাণির মত ফুলে ফেপে তরতাজা হয়েছেন। তারা কোথায়। তাদের কি বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে। প্রচার মাধ্যমগুলোতেও শুধু যারা ধরা খেয়েছে তাদের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু কোন কর্মকর্তা ,কোন রাজনীতিবিদ, কোন বড়ভাই এবং কোন ছোটভাই প্রতিমাসে কোন ক্যাসিনো থেকে কত টাকা নিত তা কিন্তু প্রচার মাধ্যমে আসেনি। না আসার কারণে হিসেবে ভয় শঙ্কা থাকতেই পারে। তবে কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিয়ে পর্দার পিছেনের মানুষগুলোকে লোকচক্ষুর সামনে আনতে হবে। (লেখক কবি ও সাংবাদিক) ১

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful