Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ :: ৮ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ০৭ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / কথা হচ্ছে ফেরেশতার মতো, কাজ হচ্ছে শয়তানের মতো; জরুরী অবস্থার দিকে দেশ

কথা হচ্ছে ফেরেশতার মতো, কাজ হচ্ছে শয়তানের মতো; জরুরী অবস্থার দিকে দেশ

politrixওয়াদুদ আলী: শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই ২ ডিসেম্বর ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন অতিবাহিত হয়েছে। ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৭২ ঘন্টার অবরোধ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। সরকার হার্ড লাইনে এবং বিরোধী দলও কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে। বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ১৮ দলীয় জোটের আন্দোলনের নামে উদ্ভূত পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, দেশ খুব শিগগির জরুরী অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জরুরী অবস্থা জারির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এবারও সেই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বিরোধী দলের প্রধান নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে গ্রেফতার অভিযান শেষ পর্যন্ত ১৮ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই অবস্থায় নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়-সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ বিশেষ শক্তির সহযোগিতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অথবা, ভোর বেলা কেউ টেলিভিশন বা বেতার ভাষণে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ঘোষণাও দিতে পারে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ এই জাতীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এই জাতীয় সরকারের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। তবে রাজনৈতিক দল ও নেতা-নেত্রীদের ব্যর্থতা এবং দায়িত্বহীন কর্মকান্ড যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার পথ প্রশস্থ করে থাকে। যা গণতান্ত্রে বিশ্বাসী কোন মানুষের কাম্য নয়।

প্রয়াত জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ ১০ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ১০ জন ফেরেশতা কি ৩’শ জন শয়তান নির্বাচনের দায়িত্ব নেয়? হুমায়ুন আহমেদ ৩’শ জন এমপিকে শয়তান বললেও তারা আসলে শয়তান নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১০ উপদেষ্টা কখনও ফেরেশতা হতে পারে না। যদিও দুষ্টু প্রকৃতির রাজনৈতিক নেতারা বলে থাকেন, ‘কথা হবে ফেরেশতার মতো, কাজ হবে শয়তানের মতো।’ বর্তমানে নেতা-নেত্রীরা জনগণের মঙ্গল ও কল্যাণের নামে ফেরেশতার মতো কথা বললেও বাস্তবে তার উল্টো কাজ করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

১৯৮২ সালে সেনাবাহিনীর প্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর তাকে উৎখাত করার জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল তা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৯০ সালে শেষ হয়। তখনকার বাস্তবতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হলেও পরে এই ব্যবস্থা বিতর্কিত হয়ে পড়ে। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে যারা জয়ী হয়েছিল তারা অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য দাবি করলেও হেরে যাওয়ার দল স্থুল, সুক্ষ্ম কারচুপিসহ ভোট চুরি ও ডাকাতির অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল। এ কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারও দল-মত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরের প্রতি সন্দেহ-অবিশ্বাস এবং ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকার জন্য এই পদ্ধতি তাদের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এ কারণে শুধুমাত্র হুমায়ুন আহমেদ নয়, দেশের শুভ বুদ্ধির মানুষরা এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। বর্তমানে ১৮ দলীয় জোট নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যদি তারা হেরে যায় তখন তারা নিশ্চিত ভাবে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। অর্থাৎ ভোটে জয়লাভ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য দাবি করা হয়। কিন্তু হেরে গেলেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এ কারণেই, ব্যবস্থা নয়। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সংস্কৃতির আওতায় মিমাংসা হওয়া প্রয়োজন। যদিও বর্তমানে রাজনৈতিক সংস্কৃতি সহিংসতার কালিমায় কলংকিত হয়ে পড়েছে। ফলে সমঝোতার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে দেশের মানুষকে জিম্মি করে যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে তা শান্তিকামী যে কোন মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। এ অবস্থা থেকে মানুষ পরিত্রাণ চাইলেও জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের ঠিকাদারী নেওয়া নেতা-নেত্রীরা কর্ণপাত করছে না। দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে সহিংস ঘটনায় আগুনে অগিদগ্ধ হওয়াসহ অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ১ জানুয়ারী থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৩’শ ৪৭ জন। এর মধ্যে ১ মাসে নিহত হয়েছে ৫৭ জন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ৬৩ জন। এদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষ। দিনমজুর, গাড়িচালক, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমিক এমনকি নারী-শিশুরাও রক্ষা পায়নি। তবে এদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ। যারা কোন দলের সঙ্গে যুক্ত না। হরতালের আগুন, পেট্রোল বোমা, ককটেল বিস্ফোরণে ১৫ শিশুসহ ১’শ ৯ জন আহত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিল ৪৯ জন। অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছে। জেএসসি ও জেডিসিসহ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বার বার পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। ঢাকা চেম্বারের মতে, একদিনের হরতালে আর্থিক ক্ষতি ১ হাজার ৬’শ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি হিসাব মতে, এই ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকা। গত এক মাসে গার্মেন্টেসের ক্ষতি সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। ট্রেন, বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে নিরূপন করা যায়নি।

রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে হরতাল-ধর্মঘট ও অবরোধ চললে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় দিনমজুর ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে যারা শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলন করেছিল তাদের মাথায় এখন হাত পড়েছে। পাশাপাশি চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন তারা। শীতকালীন শাক-সবজী উৎপাদন এবং ঢাকাসহ সারাদেশের চাহিদা পুরণের দিক থেকে রংপুর শীর্ষে অবস্থান করলেও একের পর এক হরতাল ও অবরোধের কারণে বর্তমানে এ খাতে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুস্করীনি ইউনিয়ন থেকে যেখানে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে সবজী রাজধানী ঢাকা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা শহরে যেতো হরতাল-অবরোধের কারণে সেই সবজী পাঠাতে না পারায় পঁচে যাচ্ছে। নতুন উৎপাদিত পিঁয়াজও পঁচতে শুরু করেছে। শীতকালের উপর ভিত্তি করে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ সবজী চাষি তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু এবার শীতের শুরু হতে না হতেই হরতাল-অবরোধের কারণে তারা সবজী চাষ করে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকেই তাদের উৎপাদিত শাক-সবজীর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গরু-ছাগলকে খাওয়াচ্ছে। রংপুরের সর্ববৃহৎ কাঁচা বাজার রংপুর সিটি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও রংপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মুসলিম উদ্দিন ছোট জানান, রংপুরে কমপক্ষে ৫ হাজার সবজী ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চালায়। হরতাল-অবরোধের কারণে সবজী পাঠাতে না পারা, পঁচে যাওয়াসহ বাজার নিম্নমুখীর ফলে তারা এখন চোখে সরষে ফুল দেখছে। তিনি জানান, যে বেগুন সাধারণ দিনে ২০/২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো তা এখন ১২ টাকাতেও কেউ নিচ্ছে না। লাল শাক, পুইশাক, শশাসহ বিভিন্ন সবজী ১০/১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৭/৮ টাকাতেও কেউ নিচ্ছে না। হরতাল-অবরোধের কারণে ক্রেতা শূণ্য হয়ে পড়েছে বাজার।

রেল লাইন উপড়ে ফেলা, রেলের বগিতে আগুন দেয়া, চলন্ত বাস ও ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার বিভৎস ও নারকীয়-জঘন্য ঘটনা প্রতিকারে অনেকেই পরিস্থিতির উন্নয়নে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তবে ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতায় যাওয়ার অসুস্থ্য রাজনীতির ডামাডোলে দেশ ভয়াবহ সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশ কালো মেঘের ছাঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। সংকট থেকে উত্তোরনের পথ হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই নেতা-নেত্রীরা জনগণের কল্যাণ ও ভাগ্যের পরিবর্তনের নামে ফেরেশতার মতো কথা বলে আবার সেই জনগণকে জিম্মি করে বাংলাদেশ অচল করছে। নির্দয় ও নিষ্ঠুরের মতো মানুষকে পুড়িয়ে মারছে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে গত ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন নিয়ে জরুরী বৈঠক করে। বৈঠকে নির্বাচনের অনেক আগেই মাঠ পর্যায়ে স্বশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তাব রাখে। কিন্তু স্বশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, আজ ১ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া শুরু হবে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এই মহড়া শেষ হবে। এরপর মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। ভোট গ্রহণের পরবর্তী ২ দিন পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন। গত সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও প্রতিটি জেলায় ১ ব্যাটালিয়ন সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় টহল দিবে ২ থেকে ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য।
নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, একদিনে নির্বাচন হবে, তাই নিয়মিত বাহিনীর পক্ষে পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই অতীতের মতো সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। একতরফা নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে সেনাবাহিনী বির্তকিত হবে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার জানান, এখানে বির্তকের কিছু নাই। সেনাবাহিনী বলেছে, কমিশন যেভাবে চাইবে তারা সেভাবে সহায়তা দেবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমঝোতা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, নির্বাচন স্বচ্ছ হবে। কিন্তু গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা সময় বলে দিবে।

ওই বৈঠকে কবে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে তা কমিশন সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি। কমিশন থেকে বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারদের সাথে কথা বলে সময় জানানো হবে। স্বশস্ত্র বাহিনী যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে সেনাবাহিনীকে ১০/১২দিনের বেশি মাঠে পাওয়া যাবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১২ দিনের জন্য সেনা মোতায়েন হয়েছিল। বৈঠক সূত্র জানায়, একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে জানানো হয়েছে ‘নির্বাচন প্রতিরোধে বিএনপি জোরালো ভাবে মাঠে নামবে না। তবে জামায়াত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নাশকতা চালাতে পারে। রাজনৈতিক হত্যাকান্ড চালাতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য স্থানীয় নির্বাচন অফিস, নির্বাচনী মালামাল ও নির্বাচনী কর্মকর্তা। এরই অংশ হিসেবে তারা ২ হাজার ৫’শটির মতো কেন্দ্রে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে।’ র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন বিরোধীরা সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আক্রমণ করে তা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে আতংক ছড়াতে চায়। সেজন্য শুধুমাত্র রাস্তাঘাট নয়, পাড়া-মহল্লায় টহল বাড়াতে হবে। বিজিবি জানিয়েছে, এবার তাদের ১০ হাজার সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। গতবার সাড়ে ৭ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছিল। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষে সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বশস্ত্র বাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর স্বশস্ত্র বাহিনীর দেশ প্রেমিক বীর সন্তানরা দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণ রচনা করে। ফলে দখলদার বাহিনী ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্থণ করতে বাধ্য হয়। এভাবেই স্বশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতার সূচনা লগ্ন থেকেই আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাটি ও মানুষের প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় সকল ধরনের কাজে এগিয়ে এসেছে আমাদের স্বশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি মানবতার প্রয়োজনে দূর্গতদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে সতঃর্স্ফূতভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।

ইতিপূর্বে দেশের অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে উত্তরণে সেনাবাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ মানুষকে স্বস্তি দিয়েছিল। সন্ত্রাসি নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ উদ্ধার এবং দুর্নীতিবাজ ও গডফাদারদের গ্রেফতারে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান বাংলাদেশের মানুষ গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে। দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং দুষ্টের দমনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রত্যাশিত ভূমিকা কামনা করছেন অনেকেই।

wadud ali photo.....04-12-13

লেখক: সাংবাদিক ও সমাজ কর্মী,
সাধারণ সম্পাদক, রংপুর প্রেসক্লাব,
আহ্বায়ক, রংপুর বিভাগ উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful