Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ :: ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ১২ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / আজ ঐতিহাসিক রংপুর ‘ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও’ দিবস

আজ ঐতিহাসিক রংপুর ‘ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও’ দিবস

 মমিনুল ইসলাম রিপন: মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ। মুক্তিকামী ওরাও, সাওতাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ সাধারণ জনগণ ঢোল বাজিয়ে একত্রিত হয়েছিল নিসবেতগঞ্জের ঘাঘট নদীর পাড়ে। উদ্দেশ্য পাকিস্তানী সেনাবাহিনীদের ক্যান্টনমেন্ট দখলে নেয়া। দেশপ্রেমে উন্মত্ত বাঙালী জনগণ দা, বল­ম, তীর-ধনুক আর লাঠি-সোডাসহ হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই নিয়ে এসেছে বর্বর পাকিস্তানী হায়েনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।
ক্যান্টনমেন্ট এলাকার যখন চার’শ গজের মধ্যে বাঙালী মুক্তিকামী জনতা ঠিক তখনই বৃষ্টির মত ঝড়তে থাকে পাকিস্তানী হায়েনাদের ট্যাংক আর ব্রাউনিং মেশিন গানের গুলি। মূহুর্তের মধ্যেই পাখির মত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শত শত প্রতিবাদী তরতাজা সাহসী প্রাণ।
নিরস্ত্র সাহসী বাঙালীদের হত্যা করে ক্ষান্ত হয় পাক সেনারা। মটিতে পড়ে থাকা মৃত ও অর্ধমৃত প্রায় পাঁচ শতাধিক মুক্তিকামী জনগণকে নিসবেতগঞ্জ এলাকাতে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়ে ফেলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী।
৪৯ বছর আগে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎস্বর্গকারী বীর বাঙালীর সেই আতœত্যাগ আর সাহসিকতা আজও বিরল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই আক্রমণ নিরস্ত্র মানুষদের জোটবদ্ধ লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক উদাহরণ। এমন আক্রমণের ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসেও নজিরবিহীন। তাই আজকের এই দিনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রংপুরের মানুষের কাছে এক অনন্য দিন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে জানা গেছে, ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাকিস্তানী হায়েনাদেরা সারাদেশে বাঙালিদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে। কিন্তু এর এক দিন আগ থেকেই রংপুরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। ২৪ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ট্যাংক ডিভিশনের পাঞ্জাবী ক্যাপ্টেনসহ তিন জওয়ানকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধ আরম্ভ করে রংপুরের মানুষ। এ ঘটনার পর পাকিস্তানী হায়েনার দল রংপুরে জ্বালাও পোড়াও শুরু করে।
২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী সিরিজ হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। পুড়িয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। একই সাথে ৩২ জনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পরের দিন জুমার নামাজের সময় লাহিড়িরহাটের কাছে একটি মাঠে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মানুষ আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
সারাদেশে যুদ্ধ শুরু হলে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে অবাঙালি সৈন্যদের বন্দী করে ক্যান্টনমেন্ট দখল করার সিদ্ধান্ত নেন রংপুরের উত্তেজিত মুক্তিকামী বাঙালী। ওরাও, সাঁওতাল তীরন্দাজ বাহিনীসহ হাজার হাজার মানুষ তীর ধনুক-বল­ম, দা-কুড়াল আর বাঁশের লাঠি হাতে ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নিসবেতগঞ্জহাট ও তার আশপাশ এলাকাসহ ঘাঘট নদীর তীর ঘেষে জমায়েত হতে থাকে।
কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে ক্যান্টনমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেছিলো সবাই। হঠাৎ বৃষ্টির মত ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসতে থাকে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি। অসম সেই লড়াইয়ে সেদিন পাক বাহিনীর ছোঁড়া মেশিন গানের গুলিবিদ্ধ হয়ে শত শত মানুষের জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল নিসবেতগঞ্জ আর ঘাঘট নদীর পাড়।

ঐতিহাসিক সেই ২৮ মার্চের কথা আজও রংপুরের মানুষ স্মরণ করে। প্রতি বছর এই দিনটিতে নানান আয়োজন পালন করা হয় ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনার কারণে দিবসটি পালিত হচ্ছে না। সঙ্গরোধে থেকে করোনা মোকাবেলার সাথে শহীদ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকরা। ##

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful