Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ :: ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ১৯ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / নীলফামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন অব্যাহত

নীলফামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন অব্যাহত

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন নীলফামারীতে নিম্ন আয়ের মানুষজনের বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌছে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। এই কাজে পিছিয়ে নেই সচেতনমহল। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
সার্বিক তথ্য নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়’এর প্রতিবেদন।

নীলফামারীতে বিভিন্ন সংগঠন করোনা মোকাবিলায় কাজ করছে। গৃহবন্দি কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠনরা খাদ্য সামগ্রী প্রদান করছে। 

ক্ষুদ্র প্রয়াস সংগঠন- করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস সংগঠনের প্রধান রাসেল আমীন স্বপনের নেতৃত্বে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষকে ৩ কেজি চাল, ১ কেজি আলু, আধা কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, আধা কেজি লবন, ১টি সাবান, ১টি করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ব্লিসিং পাউডার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া অস্বচ্ছল মানুষদের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ফ্রিতে বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হচ্ছে। জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে এই উপকরণের পসরা বসিয়ে রাখা হচ্ছে ভ্রাম্যমান ভাবে। সেখানে টিস্যু, সাবান, পাউডার, স্যানিটাইজার, মাস্ক, টুথপেষ্ট বিভিন্ন উপকরণ শোভা পাচ্ছে। বিতরণের উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) সভাপতি তাহমিনুল হক ববী, নীলফামারী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ নুরুল করিম, এটিএননিউজের জেলা প্রতিনিধি মিল্লাদুর রহমান মামুন, দৈনিক মানবকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি নুর আলম, উত্তরবাংলাডটকমের জেলা প্রতিনিধি ইনজামাম-উল-হক নির্ণয় প্রমুখ।
সংগঠনের প্রধান রাসেল আমীন স্বপন বলেন, প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে এমন করে নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তাদেরকে সচেতনা করা হচ্ছে যেনো তারা বাড়িতে থাকে বাহিরে বের না হয়।

করোনা ব্রিগেড,নীলফামারী- করোনা ব্রিগেড,নীলফামারী নামের সংগঠন পক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে ১০ হাজার লিভলেট, এক হাজার মাস্ক ও দুই হাজার হান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী নবনিতা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খাদ্য সামগ্রী মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি করে চাল, ২ কেজি আলু, আধার কেজি মসুর ডাল, একটি করে সাবান, বিস্কিটের প্যাকেট ও মাস্ক। বিতরনের সময় ছিলেন সদস্য রেদোয়ান প্রামাণিক দৃষ্টি, সাব্বির হোসেন, রুকু, রবিউল ইসলাম সহ অন্যান্য সদস্যরা।
করোনা বিগ্রেড প্রধান নবনিতা চক্রবর্তী জানান, নীলফামারী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগ ও বিএনসিসির সহযোগিতায় এসব সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে সংগঠনের পক্ষে ৫০টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। ধাপে ধাপে আরো বিতরণ করা হবে।
সদস্য রেদোয়ান প্রামাণিক দৃষ্টি জানান, ২৫ জনের স্থানীয় ডাক্তারদের একটি জরুরী মেডিকেল টিম করা হয়েছে। যারা ২৪ ঘন্টা জরুরী হটলাইনে ফ্রি সেবা প্রদান করেন। হটলাইন নম্বরঃ-(০১৭২৩৫০৮৩০৮)। এর পাশাপাশি ফেসবুক অনলাইনেও তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে। তিনি জানান, ৬ হাজার সদস্য করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্নভাবে কাজ করছে। এছাড়াও ব্রিগেড বুলেট নামে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। যারা সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে। নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সার্বিক সহযোগীতায় এটুআই প্রকল্পে সাথে আমরা কাজ করছি। যার মাধ্যমে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবায় দেয়ার চেষ্টা করবো আমরা।

শাখামাছার হাট- জেলা সদরে ফেসবুক গ্রুপ শাখামাছাহাটের পক্ষে ১২৬ পরিবারকে ত্রানসামগ্রী দেয়া হয়েছে। রিক্সাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ৪ কেজি করে চাল, ২ কেজি আলু, আধা কেজি মসুর ডাল ও একটি করে সাবান প্রদান করা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ স্থান থেকে এই সামগ্রী বিতরণ করেন গ্রুপের সদস্য তাহমিনুল হক ববী, ফৌজিয়া ইয়াসমিন জলি, শিপন রায়, আহমেদুর রহমান শক্তি, কাজী জীবননাহার মিনু, সীমা পারভীন, অবসর অধ্যক্ষ খয়রাত হোসেন, হোসেল পারভেজ, নির্ণয়।
হাটের এডমিন ফজলুল হক খোকন জানান, ২০জন সদস্যের সহযোগীতায় এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অন্য সদস্যরা সহযোগীতা করলে পর্যয়েক্রমে আরো বিতরণ করা হবে।

ব্লাড ব্যাংক,নীলফামারী- ব্লাড ব্যাংক,নীলফামারী ফেসবুক গ্রুপের পক্ষে রাতে শহরের সওদাগর পাড়া, বাড়াই পাড়া, রেলস্টেশন, রিক্সাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০০জনের মাঝে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি মুসুর ডাল, ১ কেজি আলু ও ১টি সাবান বিতরণ করা হয়। বিতরন করেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ স¤পাদক নোহেল রানা, ব্লাড ব্যাংক নীলফামারীর এডমিন কাশেম খান, ব্লাড ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবক আল শাহরিয়ার শাকিল, হিমেল চন্দ্র রায় মোশাররফ হোসেন, আমিনুর ইসলাম, সবুজ ইসলাম, মোঃ সুজন, লিটন, সাজ্জাদ শাফিল, হুমায়ুন কবির, নাজমুস সাকিব সহ অন্যান্য সদস্যরা।
ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন ও নীলফামারী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ নুরুল করিম বলেন, এটি আমাদের ছোট্ট প্রয়াস। যেনো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিম্ন আয়ের ব্যক্তিরা বাড়িতে থাকে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কেউ যদি এই গরীব মানুষদের সহায়তা করতে চান তবে গ্রুপের এডমিন কাশেম খানের সাথে যোগাযোগ করবেন তার মোবাইল নম্বর ০১৭৭৪১২২৯৩১

নীলফেরী সাহিত্য পরিষদঃ- জেলার নীলফেরী সাহিত্য পরিষদের পক্ষে ১০০ পরিবারের মাঝে ৩ কেজি চাল, ২ কেজি আলূ, আধা কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল ও একটি করে সাবান বিতরণ করা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদ হাসান অয়নের নেতৃত্বে ওই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় সংগঠনের সদস্য শিবলি আহমেদ সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম, আবরার আবদুল্লাহ অর্পণ, আরিফ রশিদ, তানভির আহমেদ তপু সহ অন্যন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি মাহমুদ হাসান অয়ন জানান, নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আইজিদ আরাফাত অরূপের সহযোগীতায় ওই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কেউ যদি এই গরীব মানুষদের সহায়তা করতে চান তাহলে যোগাযোগ করুন ০১৭৭৪৮০৭৩৭৬

নীলসাগর গ্রুপ- নীলসাগর গ্রুপের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার পরিবারের মাঝে ১৫টি করে মোট ৭৫ হাজার মুরগীর ডিম বিতরণ করা হয়। নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবিব লেলিনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বসবাসরত অস্বচ্ছল পরিবারদের বাড়িতে গিয়ে এই ডিম বিতরণ করা হয়। এসময় নীলসাগর গ্রুপের সুজন পোলট্টি এন্ড ফিস কেয়ারের পরিচালক আওরঙ্গজেব সুজন, নীলসাগর গ্রুপের মার্কেটিং কর্মকর্তা ওয়াহেদ আলী তুফান, সহকারী মানব সম্পদ কর্মকর্তা অমিত চাকি ও নীলসাগরের মিডিয়া উইং মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নীলসাগরের মিডিয়া উইং মোশাররফ হোসেন বলেন, করোনা মোকাবেলায় ঘর বন্দি অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ডিম বিতরণের উদ্যোগ নেন নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারমান আহসান হাবিব লেলিন। ঘর বন্দি পাঁচ হাজার অস্বচ্ছল পরিবারের প্রত্যেক পরিবারকে ১৫টি করে ডিম বিতরণ করা হয়।

নীলফামারী টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন- নীলফামারী টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে ২৫০জনের মাঝে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হয়েছে। জেলা শহরের বাটার মোড়, চৌরঙ্গী মোড়, কালিবাড়ি ও বড় বাজার এলাকায় রিক্সা ও ভ্যান চালক, পথচারীদের মাঝে এই মাস্ক বিতরণ করা হয়। এসময় সংগঠনের সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, অর্থ সম্পাদক সোহেল রানা, দফতর সম্পাদক মিঠু মিয়া, সদস্য জুয়েল আহমেদ, আতিয়ার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ২৫০ জনের মাঝে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।

ব্রাক- নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের দুবাছরি গ্রামে ব্রাকের পক্ষে ২১৫ জনের মাঝে এক হাজার ৫০০ করে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা বিতরণ করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলিনা আকতার। এসময় টুপামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মছিরত আলী শাহ্ ফকির, ব্র্যাকের জোনাল ম্যানেজার আব্দুর রহিম, জেলা সমন্বয়ক লাইনুল নাহার, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নাবিউল ইসলাম ও নুর মোহাম্মদ, ডেপুটি ম্যানেজার (কৃষি) আমিনুল রহমান, রামগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক করিমন নেছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক লাইনুল নাহার জানান, আলট্রা-পোর গ্রাজুয়েশন কর্মসূচির অধীনে ওই সহযোগিতার নগত অর্থ বিতরণ করা হয়। সদররের ১৫টি ইউনিয়নের কর্মহীন মানুষের তালিকা করে নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিছিয়ে নেই সচেতনমহল।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদ হাসানের ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে শহরের রিক্সা চালক, দিনমজুর ৪০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে ৩ কেজি চাল, এক কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি আলু ও এক লিটার সয়াবিন তেল ছিল। এছাড়া ওএমএসএর আওতায় পরিচালিত স্বল্প মুল্যে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রয়ের সময় পরিবেশকদের দোকানে আগতদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন তারা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হাসান শাহ্ আপেল ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পাঁচশতাধিক মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও লিফলেট বিতরণ করেছে। পায়ে হেটে জেলা শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, পথচারী, রিক্সাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হোসেন রেজা শামীম, গোলাম মোস্তফা বুলেট, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিশির, দপ্তর সম্পাদক সংগীত দীপঙ্কর দিপু, উপ-প্রচার সম্পাদক হাসিব আহমেদ আকাশ, উপ-নাট্য ও বিতর্ক সম্পাদক ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, কার্যকরী সদস্য হাফিজুর রহমান জুয়েল প্রমুখ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনিরুল হাসান শাহ আপেল জানান, তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পায়ে হেটে খন্ড খন্ড ভাবে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে শহরের বিভিন্ন পাড়া,মহল্লা ও মোড়ে পাঁচশতাধিক মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও দুই হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। যতদিন ক্রান্তিকালীন সময় থাকবে ছাত্রলীগও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। একই ভাবে জেলা ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছি।

ডোমার উপজেলাঃ

ডোমার পৌরসভার শাহীপাড়া এলাকার কয়েক জন যুবক ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহবন্দিদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে। সামগ্রী মধ্যে চাল, আটা, তেল ও সাবান বিতরন করা হয়। এসময় ওই এলাকার আবু, স্বপন, মিজানুর, রায়হান, ডন, সাদিকুল, বরাত, সুমন, শামিমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্য সামগ্রী বিতরনকারী যুবকরা বলেন, আমরা এলাকার যুবকরা কিছু কিছু করে টাকা দিয়ে অর্ধশত পরিবারের মাঝে সামান্য খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছি। সমাজের বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে আরো অনেক অনাহারী মানুষ খাদ্য পাবে।

ডিমলা উপজেলাঃ

ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কেল্লাপাড়া অবস্থিত চরাঞ্চলের কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসীন রেজা রূপম জানান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সহযোগীতায় এই খাদ্য সামগ্রী চরাঞ্চলের কর্মহীন মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে চাল,ডাল,আলু, তেল ও সাবান।

জলঢাকা উপজেলাঃ

জলঢাকা উপজেলায় কর্মহীন চারশ অসহায় মানুষের মাঝে ব্যাক্তির উদ্যোগে উপজেলা স্কাউটসের পক্ষে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলার রেস্তোরা ও পরিবহন সেক্টরে কর্মরত তিনশ শ্রমিক ও একশ নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষের মাঝে এসব শুকনা খাবার তুলে দেন সহকারি কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্কাউটসের স¤পাদক মর্তুজা ইসলাম, কাব লিডার রমানাথ রায়, সহযোগী সদস্য মাহাতাব মাস্টার, ইউনিট লিডার শরিফুল ইসলাম লাবলু, এমএ হালিম ও হেবজো আরা প্রমুখ। তাদের মাঝে ৫ কেজি করে চাল, ৩ কেজি আলু হাফ কেজি মসুর ডাল, হাফ লিটার তেল ও হাফ কেজি লবন প্রদান করা হয়।
উপজেলা স্কাউটস স¤পাদক মর্তুজা ইসলাম বলেন, দেশে এমন দুর্যোগ মুহুর্তে উপজেলার দুস্থ অসহায় মানুষের পাশে যারা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এছাড়াও তিনি দেশ বিদেশে থাকা এই উপজেলার হৃদয়বান ব্যাক্তিদের করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগীতা করার আহবান জানান।

অন্যদিকে উপজেলার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ৬ জন শিক্ষার্থী শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষীমারী গ্রামের শ্রমজীবী ৫০টি পরিবারের মাঝে ঘুড্ডি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় খাদ্য চাল ৩ কেজি, আলু ২ কেজি, আধা কেজি মুসুর ডাল ও হাত ধোয়া সাবার একটি।
রাবির শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র বলেন, দেশের এ ক্রান্তিকালে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজ এলাকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমি কর্তব্য মনে করছি। মহামারিতে তাদের অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে সে অনুভূতি থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা চাই সমাজের সকল সামর্থ্যবান মানুষ নিজ নিজ এলাকায় এসব শ্রমজীবী প্রতিবেশীর পাশে দাড়াক। তাহলেই মহামারী মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন একই ইউনিয়নের রাবির শিক্ষার্থী রায়হান গোলাপ, মোজাফফর রহমান জয়, আনিসুর রহমান রাশেদ, গোলাম রাব্বানী ও ঢাবি’র মধু কুমার রায়।

সৈয়দপুর উপজেলাঃ

সৈয়দপুরে পৌরসভা চত্ত্বরে পৌরসভার উদ্যোগে উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক ও আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক দুই হাজার পরিবারকে এক হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিম আহমেদ, সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্য মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) পরিমল কুমার সরকার, ব্রাকের আরবান প্রকল্পের রংপুর রিজিওনাল কো অর্ডিনেটর অপূর্ব সাহা, ব্রাকের নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি লাইলুন নাহার প্রমূখ।

অনূর্ধ-২৩ বাংলাদেশ ক্রিকেটার রবিউল হক রুবেলের ত্রান বিতরনঃ- সৈয়দপুরে ঘরবন্দী, কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন অনূর্ধ-২৩ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় রবিউল হক রুবেল। উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার কয়েক এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় মানুষদের হাতে ওই সব খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন। বিতরণকৃত খাদ্য সামগ্রী মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু তেল ও সাবান। ক্রিকেট খেলোয়াড়ের স্ব উদ্যোগে ওই দিন প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক কাজী জাহিদ, এম আর আলম ঝন্টু, জসিম উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন লুতু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

“স্বপ্ন দিশারী” ও “ধলাগাছ সমাজকল্যাণ সংগঠন”এর সদস্যদের উদ্যোগে সৈয়দপুর উপজেলার ধলাগাছ এলাকা, কুন্দল, কামারপুকুর এলাকায় তিনশতাধীক পরিবারের মাঝে সাবান, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। তাদের কাজকর্মে উৎসাহ দিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক এর ম্যানেজার (সৈয়দপুর ব্রাঞ্চ) মোঃ মাহাদি হোসেন। তিনি এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে তুলে দেন একশত পরিবারের অন্ন যা তিনি স্বয়ং উপস্থিত থেকে অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
স্বপ্ন দিশারী এর সাধারণ স¤পাদক খন্দকার আবিদা সুলতানা বলেন, আমাদের কার্যক্রম চলমান। আমরা আরো বৃহৎ পরিসরে কাজ করবো বলে আশাবাদী। তাই সকলের সহযোগিতা কাম্য এবং আমাদের মতো মেয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের যেন যথেষ্ট নজরদারি প্রশাসন দেন সে বিষয়ে তিনি বলেন।
অপরদিকে ধলাগাছ সমাজকল্যাণ সংগঠন এর সভাপতি মিলন মোস্তাফিজ বলেন, সকল বিত্তবানরা যদি এগিয়ে এসে একত্রে কাজ করতেন তবে সকল সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দুবেলা খেতে পারতো।

অগ্রযাত্রা যুব সমাজসেবা সংঘের যুবকদের উদ্যোগে সৈয়দপুর শহরের কাজীপাড়া, কেদারপাড়া ও জফদ্দিপাড়ার ৩৫০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয় ওই সংঘের সদস্যরা।
অগ্রযাত্রা যুব সমাজসেবা সংঘের সভাপতি হেলাল প্রামানিক জানান, বিতরনকৃত প্যাকেটে চাল, আলু ও পেঁয়াজ ছিল। সংঘের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন মন্ডল জানান, দুঃস্থদের একত্রিত না করে আমরা তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া হয়েছে।
সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম জানান, শহরের এক হাজার দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে এ বিতরন কার্যকম চলবে।

ভুপেন হাজারিকার গাওয়া সেই গান “মানুষ মানুষের জন্যে -জীবন জীবনের জন্যে একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারেনা”— হ্যা পারে- এমন মন্তব্য করেন টিআইবি পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) নীলফামারীর সভাপতি তাহমিনুল হক ববি। তিনি বলেন, আমরা অনেক আগেই অন্ধকার যুগ পেরিয়ে এসেছি। আমরা এখন সভ্য সমাজের মানুষ। আমরা আলোকিত সমাজের বাসিন্দা। তবুও কেন আমরা নিজেদের অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছি? এর মূলে রয়েছে অন্ধ বিবেক। আমরা অন্ধ বিবেকের বদ্ধ ঘরে থাকতে চাই না। আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ সুন্দরভাবে সাজাতে চাই। সত্যের আলোয় ভরে উঠুক আমাদের সমাজ। সত্য, সুন্দর ও স্বচ্ছতায় জেগে উঠুক বিবেক। তিনি জানান করোনা ভাইরাসে বর্তমান সময় মানুষের পাশে দাড়াঁনোর বিশেষ করে অস্বচ্চল মানুষ যারা দিন আনে দিন খায় তাদের সব রকম সামর্থ থাকে না। তিন বেলা খাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোয় কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এখন আমরা যদি তাদের যদি পাশে দাঁড়াতে পারি তাহলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবো। ফ্রিতে উপকরণ বিতরণ নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্যোগ। এই মহৎ কাজে অস্বচ্ছল মানুষদের জন্য আজ অনেক সামাজিক সংগঠন ও ব্যাক্তি বিশেষ এগিয়ে এসেছে।

বিদ্রঃ(ছবি প্রকাশে সংগঠনগুলি অনিচ্ছুক তাই কোন ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না)

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful