Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ :: ১৯ আষাঢ় ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ৪৯ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / পুলিশের সুরক্ষায় জাতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

পুলিশের সুরক্ষায় জাতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

তপন কুমার রায়
মহামারী করোনার থাবায় বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডাক্তার স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যাংকার কেউ বাদ যায়নি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে সামিল হওয়া থেকে। তবে সাধারণ মানুষের পর একক পেশা হিসেবে পুলিশের আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা রীতিমতো ভাবণা আর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমে খবর শনিবার (২মে) পর্যন্ত করোনার থাবায় পুলিশের মোট ৭৪১ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫ জন। দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির পর থেকে জরুরী সেবা পুলিশ বিভাগের সকল ধরণের ছুটি বাতিল করা হয়। এরপর থেকে দেশের ক্রান্তিকালে পুলিশের কর্মযজ্ঞ কমবেশি সকলের জানা। তবে যাদের এত কর্মযজ্ঞ, সেই যোদ্ধাদের করোনার থাবা থেকে রক্ষা পেতে নিজের নিরাপত্তামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমের খবরে এখন পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সাথে পুলিশ সদস্যদের অপ্রতুল নিরাপত্তামূলক সুরক্ষা সামগ্রীর কথাও ফুটে উঠছে এই গণমাধ্যমগুলোতে।

একটি আলোচনার অবতারণা করা যাক। সম্প্রতি পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বেসরকারি একটি টেলিভিশনে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহন করেন। তিনি স্পষ্টভাবে একটি বিষয় তুলে ধরেন যে, সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে ডাক্তারের ন্যায় পুলিশও কোন অংশেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কম ঝুঁকিতে নেই। বরংচ পুলিশের ঝুঁকির মাত্রা একটু বেশিই বলা চলে। কেননা, সম্মুখ সারির যোদ্ধা ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরা যেসব করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তা শতভাগ জেনেশুনে ঝুঁকির মাত্রা বুঝেই দিচ্ছেন। এই জন্য তারা নিজেদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে রোগীর কাছে যেতে পারে। কিন্তু পুলিশের পক্ষে সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়না। কেননা, পুলিশ কাজ করছে ১৬ কোটির অধিক অজ্ঞাত শত্রুর বিরুদ্ধে। পুলিশ সদস্যরা নিশ্চিত নয়, কোন মানুষটির শরীরে করোনা ভাইরাস আছে আর কার শরীরে নেই। বাজারে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেই অজ্ঞাত শত্রুর মুখোমুখি হচ্ছে। ট্রাফিকে কিংবা নিয়মিত চেকপোস্টে কত অজ্ঞাত লোক কাছে আসে। কারণ হিসেবে তিনি যে যুক্তিটি দাঁড় করিয়েছেন তা যে নিছক নিজ কর্ম আর বিভাগের কর্তৃত্বকে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমান দাবি করা তা কিন্তু নয়। তার প্রমাণ সাত শতাধিক পুলিশ সদস্যদের আক্রান্তে সংখ্যায়। তাই করোনার ভাইরাস সংক্রমণের থাবা থেকে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত বলে এখন সময়ে দাবি।

মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন পুলিশ সদস্যদের নাম। নিজ বিভাগের সহকর্মীদের হারিয়েও থেমে নেই পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা। দেশমাতৃকার ক্রান্তিলগ্নে পিছুটান দেয়ার সময় যে নেই তা আজ জাতিও বুঝে গেছে। তাই ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থার অযুহাত পুলিশের কোনো সদস্যকে দমাতে পারেনি। ডিসিপ্লিন বাহিনী হিসেবেও কোনো অযুহাত দাঁড় করানোর সুযোগ নেই পুলিশ সদস্যদের। ফলে দেশের ক্রান্তিলগ্নে পুলিশের ভূমিকা জাতির বাহবা কিংবা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এই প্রশংসা নিঃসন্দেহে পুলিশের কর্মযজ্ঞকে উৎসাহিত করবে। কিন্তু তারপরও জাতিকেই এই পুলিশের ভবিষ্যৎকে নিয়ে ভাবতে হবে। পুলিশের ব্যক্তি জীবনেও যে পরিবার নামক একটি গন্ডি আছে। জাতির প্রতি পুলিশের যেমন দায়বদ্ধতা, তেমনি পুলিশের সুরক্ষায় জাতিরও দায়বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই পুলিশের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই জাতির হাতেই দায়বদ্ধ বটে।

অন্যদিকে, দেশের ক্রান্তিকালে পুলিশের অগ্নিপরীক্ষাও বটে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকে রাখার লড়াই। পুলিশের যেমন ইতিহাস-ঐতিহ্য সুনাম আছে, তেমনি নানা কারণে এই বিভাগের সদস্যদের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস-দীর্ঘশ্বাসও আছে। জাতির নিদানকালে মানুষের সেই অবিশ্বাসের দ্রাঘিমা অতিক্রান্ত করে বিশ্বাস অর্জন করার মোক্ষম সুযোগ ও সময়। সহকর্মী হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে পুলিশের দুই লক্ষাধিক সদস্যকে। ধৈর্য আর মনোবল হারানোর সময় এখন নয়। এগিয়ে যেতে হবে অভীষ্ট লক্ষ্যে, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “গীতাঞ্জলি” র চরণাশ্রিত হয়ে –

“বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা-
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে
নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।”

লেখক: শিক্ষানবিশ উপ পুলিশ পরিদর্শক
ই-মেইল: [email protected]

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful