Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৯ :: ৪ ভাদ্র ১৪২৬ :: সময়- ৩ : ০২ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / একটি ককটেলের আত্মকাহিনী

একটি ককটেলের আত্মকাহিনী

koktelআমি ককটেল… হ্যাঁ যা ভাবছেন তাই আমি একটি ককটেল… অনেকেই হয়তো ভাবছেন আমি 7Up এবং CocaCola মিশ্রিত খাবার বিশেষ, আমি তাদের বলছি আমি কিন্তু তা নই বরং আমি গানপাঊদার এর সাথে আলপিন, কাচের টুকরা আর মার্বেল মিশ্রিত জর্দার ডিব্বায় ভরা লাল টেপে মোড়ানো শান্ত নিরীহ এক ককটেল… উপর দিয়ে শান্ত আর নিরীহ হলেও আমার কাজ মোটেও নিরীহ নয় বরং ভয়াবহ। আমার মুলনীতি হচ্ছে জন্ম থেকে জ্বলছি… জ্বালিয়ে যাব চিরকাল… আমার কাজ হচ্ছে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে মানুষ কে হত্যা করা। কমপক্ষে মানুষ কে আহত করে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়া। আমি এখনো নিজেকে বিলিয়ে দিইনি তবে শুনেছি আমার অনেক পূর্ব পুরুষ তাদের বিলিয়ে দিয়ে এদেশে হত্যা করেছে শত শত মানুষ কে…

আমার জন্ম সে এক ইতিহাস… তার আগে আমার পূর্ব পুরুষদের কথা বলে নেই। সুইডেনের জন আলফ্রেড নোবেল সর্বপ্রথম ডিনামাইট দাদু কে বানিয়েছিল ঠিক কত আগে তা গোগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন… আমাদের সেই নির্মাতার নামে আজও পৃথিবীতে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়… যদিও নোবেল সাহেব ই অশান্তির সুচনা করেছিলেন সেটা আমিও স্বীকার করি… এটাও স্বীকার করি যাদের নোবেল দেয়া হয় তারাও অশান্তি সৃষ্টিকারী ণোবেলের চেলা চামুণ্ডা…

পুরোনো ইতিহাস ঘেটে লাভ নেই তার চেয়ে বরং আমার কথাই বলি। নোবেল সাহেবের বানানো বোমা পরবতী তে আরও উন্নত হয়েছে… দেশে দেশে নানা জাতের বোমা তৈরি হয়েছে… সেগুলো আপনারাও জানেন… ককটেল অর্থাৎ আমি হচ্ছি বোমার বাংলা সংস্করণ… এই দেশে আমার পূর্ব পুরুষ কে সর্ব প্রথম কে বানিয়েছিল তা আজও কেউ জানে না… তবে আমাদের পূর্ব পুরুষদের অনেক বীরত্ব গাথা আছে… দাদা ক্ষুদিরামের কথা না বললেই নয়… ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সুচনা হয়েছিল আমাদের পূর্ব পুরুষদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে… সোনালী অতীতের দিন গুলো আর নেই… আগে একটি ককটেল ছিল একটি মুক্তির প্রতীক কিংবা প্রতিবাদের হাতিয়ার… ককটেল মানেই ছিল শত্রুর জীবন নাশ… আর এখন…!

আমার জন্ম হয় কোন এক ফ্ল্যাটে… পাইকারী ভাবে হাজার হাজার ককটেলের ভীরে দম বন্ধ করা পরিস্থিতিতে… যারা আমাদের বানাচ্ছিল তাদের মধ্যে ছিল না কোন দেশ প্রেম ছিল না কোন ভালবাসা… তাদের স্পর্শ লাগলেই মনে হতো খুনির স্পর্শে আমার জাত বুজি গেল… তারা সারাক্ষন তড়িঘড়ি করত… মনে হতো হত্যা করার জন্য উঠে পরে লেগেছে… তারাহুরো করতে গিয়ে একদিন নিজেরাই মরতে বসেছিল… ভাগ্যিস কৌটা টা পানিতে ফেলে দিতে পেরেছিল তাই কিছু ঘটেনি… আমাদের বানিয়ে সাজিয়ে রাখল এক আলমারিতে ইতিমধ্যে আরও অনেকেই এসে জায়গা করে নিয়েছে আমার পাশে… মনে ভিতরে আমার জলে ওঠার বাসনা… অপেক্ষায় আছি কবে নিজে কে বিলীন করে দিতে পারব… তবেই আমার জন্ম সার্থক হবে…

গতকাল বলতে শুনেছি আজ রাতে নাকি আমাদের নিয়ে যাওয়া হবে আগামী রবিবারের হরতালে ব্যাবহারের জন্য… তাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি… সন্ধ্যার দিকে #মুরগী কালু আর #বোমা_ফারুক আসল এই বাড়িতে… টাকার ব্যাগ দিয়ে বুজে নিল আমাকে… দামী মারসিডিজ গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো কোন এক নেতার বাড়িতে যিনি এক কথায় মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত… কিন্তু আমি জানি তিনি আগামী রবিবার আমাকে দিয়েই কারও না কারও জান হরন করবে… শুনবেন সেই নেতার নাম… শুনে কি করবেন কিছুই করতে পারবেন না… তবে না জানাই থাক…

নেতার গোপন ড্রয়িং রুমে বসে সেই রাতেই ভাগাভাগী হয়ে গেলাম আমার ভাই বোন আত্মীয়স্বজন… আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল ভাইবোন দের ছেড়ে একা হয়ে যেতে… কিন্তু কিচ্ছু করার নেই… যে দেশে মানুষের আত্মীয় হারানোর কষ্টের মুল্য নেই সেখানে নগন্য ককটেল এর মায়া বলতে কিছু থাকতে নেই… যাইহোক চোখ নেই তাই জল ও ফেলতে পারলাম না… বুকের কষ্ট বুকে নিয়ে বল্টু মাস্তান এর সাথে চললাম… বাব বার মনে হচ্ছিল ব্যাগের ভিতর ফেটে যাই… কিন্তু কেন যেন বাঁচতে বড় ইচ্ছা করছিল…

রবিবার সকাল দশটা… হরতাল তাই গাড়ি ঘোড়া তেমন নেই… বল্টু ব্যাগে করে আমাকে নিয়ে বের হয়েছে। রাস্তায় পথচারী বলতে স্কুল কলেজের কিছু ছাত্র ছাত্রি সাথে তাদের অভিভাবক। হয়তো পরীক্ষা তাই বের হয়েছে… কিছু মানুষের ভিরে হেঁটে যাচ্ছিল বল্টু… হটাৎ সে দাঁড়িয়ে গেল..

#হরতাল… #হরতাল শ্লোগান দিয়ে ব্যাগ থেকে আমার দুই ভাই কে বের করে মেরে দিল মানুষের ভীরে… বড় ভাই বিকট শব্দে ফাঁটল কিন্তু ছোট ভাই ফাঁটল না… বড় ভাই ফাঁটার সাথে সাথে শুরু হয়ে গেল ভীত সন্ত্রস্ত মানুষের চিৎকার… এবার আমাকে হাতে নিয়ে মেরে দিল… মাটিতে পরে ফুটার আগে আমি অনেক চেষ্টা করেছি বাঁচতে যত তা না নিজের জন্য তার চাইতে বেশি #কণার জন্য…

ভাবছেন কণা কে?… কণা হচ্ছে সেই মেয়েটি যার কথা হয়তো আপনারা পেপারে পড়েছেন, টিভিতে শুনেছেন… আমি ঠিক কণার মায়ের পাশে পরেছিলাম… দৌড়ানোর সময় পরে গিয়েছিলেন… তারপর উনার চোখ পরে আমার উপর… ধাক্কা মেড়ে কণা কে দূরে ঠেলেছিলেন… কিন্তু নিজে বাঁচতে পারেননি…

আমি এখন ককটেলের টুকরা, থানায় জমা পরে আছি… হয়তো কোন দিন বের হতে পারব না এখান থেকে… বের হবার সাধও নেই… কারণ আমি অনুতপ্ত… আমি আজও কণার মায়ের সেই চিৎকার শুনতে পাই… শুনতে পাই কণার মা মা বলে কান্নার আওয়াজ… তখন নিজেকে বড় ছোট মনে হয়… মাথা হেট হয়ে আসে…

কারণ…

#আমি_এক_হতভাগা_লালটেপ_মোড়ানো_ককটেল

লেখকঃ মোঃ ফান্তাহীল আলীম (তামিম), বনানী, ঢাকা

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful