Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৫৩ অপরাহ্ন
Home / নীলফামারী / চিলাহাটি থেকে খুলনা-ঢাকা-রাজশাহী ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রী বহন চক্র সক্রিয়

চিলাহাটি থেকে খুলনা-ঢাকা-রাজশাহী ট্রেনে টিকিটবিহীন যাত্রী বহন চক্র সক্রিয়

বিশেষ প্রতিনিধি॥ বিদ্যুৎ নেই টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অথবা শেষ হয়ে গেছে সব আসনের টিকিট। এমন অজুহাত দেশের উত্তর সীমান্তের নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্টেশনের কর্মরতদের। অজুহাতের আড়ালে রয়েছে ওই স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে বিনা টিকিটে যাত্রী বহন চক্রকে সহযোগিতা।
ওই স্টেশন থেকে ট্রেনে চলাচলকারীদের অভিযোগ, টিকিটের জন্য স্টেশনের কাউন্টারে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে অপেক্ষায় রাখা হয়। এরপর সেখানে উপস্থিত থাকেন ট্রেনে কর্মরত টিকিট চেকার ও গার্ড। ট্রেন ছাড়ার সময় হলে বলা হয় ট্রেনে তাদের কাছ থেকে টিকিট কেটে নিবেন। এরপর ট্রেনে ওঠলে যাত্রীদের কাছ থেকে শুরু হয় বিনা রশিদে টাকা আদায়। রশিদ চাওয়া হলে নাজেহাল করা হয় সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে।
তারা বলেন, স্টেশনটি থেকে প্রতিদিন খুলনার উদ্দেশ্যে রূপসা, সীমান্ত, ঢাকার উদ্দেশ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস, রাজশাহীর উদ্দেশ্যে তিতুমীর এবং বরেন্দ্র এক্সপ্রেস নামে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনের কর্মরতদের সঙ্গে স্টেশন সংশ্লিষ্টদের একটি যোগসাযোস রয়েছে। এমন যোগসাযোগে বিভিন্ন অজুহাতে টিকিট প্রদানের অপারগতা দেখিয়ে চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়া হয় যাত্রিদের। ট্রেনে উঠার পর গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিনা রশিদে টাকা সংগ্রহ।
ওই চক্রের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন মো. আশরাফুল হক (৫১)। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশপাশি সাংবাদিকতা পেশায় থাকায় চিলাহাটি প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে স্টেশনে বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে ট্রেনে উঠেন তিনি। ভাড়া পরিশোধে রশিদ চাওয়ায় নাজেহাল করা হয় তাকে। এঘটনায় সেদিন সন্ধ্যায় চিলাহাটি স্টেশন মাস্টারের অভিযোগ বহিতে হেনস্তার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।
মো. আশরাফুল হক বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আটটা। খুলনাগামী রূপসা আন্তঃনগর ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে চিলাহাটি প্লাটফরমে। আমি সৈয়দপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনের কাউন্টারে টিকিটের জন্য আসি। এসময় কর্মরত বুকিং সহকারী নাসির উদ্দিন সাগর আমাকে(আশরাফুল) বলেন, ’বিদ্যুৎ নেই, টিকিট দেওয়ার সুযোগ নেই’ ট্রেনে গার্ডের কাছে বলে টিকিট কেটে নিবেন। এ সময় ট্রেনের ওই ট্রেনের গার্ড তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন সেখানে। আমি তাদের সামনেই বিষিয়টি রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় বানিজ্যক কর্মকর্তাকে ফোনে অবহিত করি। এতে বর্হিরপ্রকাশ না ঘটালে গার্ড তরিকুল ইসলাম আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। সেখানে আমার ন্যায় টিকিট না পাওয়া অনেক যাতীই উপস্থিত ছিলেন। তিনি ওই রাগের বর্হিপ্রকাশ ঘটান ট্রেনে উঠার পর।
তিনি বলেন, ট্রেনে উঠে গার্ড তরিকুল ইসলামের কাছে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলি। এসময় টাকা চাইলে আমি রশিদ লিখতে বলি। এতে তিনি উল্টো আমাকে বলেন, ‘বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তাকে ফোন করেছেন কেন ?’ তিনি আমার টিকিটের ব্যবস্থা না করে তর্কে জড়িয়ে সময় ক্ষেপন করছিলেন। এরপর সৈয়দপুর স্টেশনে পৌঁছলে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন আমাকে। পুলিশ আমাকে প্লাটফরমে ট্রেন টিকিট কালেক্টরের (টিটিসি) কাছে হাজির করে ৬৫ টাকা ভাড়ার বিপরীতে ৫২০ টাকার রশিদ (নম্বর ৪১৮৭২৮) কেটে দেন। অপরদিকে ট্রেনের গার্ড তরিকুল ইসলামের কাছে রশিদ ছাড়া ভাড়া পরিশোধ করা ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিনিয়ত ওই চক্রটি টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে যাত্রীদেরকে বিনা টিকিটে ভ্রমণে বাধ্য করছেন। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি। এর প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীকে। তাদের ওই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাকেও হেস্তার শিকার হতে হয়েছে।”
অপর যাত্রী সাজু ইসলাম (৪০) বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রায় দিন আমাকে ট্রেনে চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর যেতে হয়। বেশীরভাগ সময়েই কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ট্রেনে কর্তব্যরতদের কাছে টাকা দিতে হয়। এজন্য কোন ধরণের রশিদ প্রদান করেন না তারা।
চিলাহাটি এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫) বলেন, বিভিন্ন কাজে ঢাকা, সৈয়দপুর, নীলফামারী ট্রেনে যেতে হয়। আমার ধারণা স্টেশন এবং ট্রেনে কর্মরতদের সঙ্গে যোগসাযোসে কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। ফলে ওই চক্রের হাতে টাকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। একজন শিক্ষক হয়ে অনিয়ম করতে বিবেকে বাধে, কিন্তু বাধ্য হয়ে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়েছে একাধিকবার।
চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার আব্দুল মমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লকডাউন পরিস্থির পর গত ১২ তারিখ থেকে কাউন্টারে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। সেদিন ওই ট্রেনটির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর আশরাফুল হক সাহেবের সঙ্গে ট্রেনের সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণ করা উচিৎ হয়নি। আমি আশরাফুল সাহেবের অভিযোগটি পাওয়ার পর উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,“বিদ্যুতের অভাবে টিকিট প্রদানের জন্য জেনারেটর চালানোর কথা। স্টেশনে জেনারেটর থাকলে জ্বালানী সরবরাহ না করায় সেটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানী সরবরাহ পেলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
অভিযোগের বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার(১৭ সেপ্টেম্বর/২০২০) নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের কাছে তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে জরিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলপথ মন্ত্রী তিনি বলেন, এমন অনিয়ম দূর করতে ট্রেনের টিকিটিং ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যবস্থাটি গ্রহণে সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বাড়ার সাথে শতভাগ বাস্তবায় নির্ভর করছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful