Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২০ :: ৮ মাঘ ১৪২৬ :: সময়- ২ : ৫৮ অপরাহ্ন
Home / বিনোদন / কলকাতা সিনেমা পাড়ার এ বছরের সেরা পনেরো

কলকাতা সিনেমা পাড়ার এ বছরের সেরা পনেরো

tallywood1এখন বাংলা সিনেমার নাম শুনে কপাল কুঁচকানো বা নাক সিঁটকানোর দিন আর নেই। এখন বাংলা সিনেমা রীতিমতো ‘হট অ্যান্ড হ্যাপেনিং।’ স্ক্রিপ্ট থেকে শুরু করে স্ক্রিন প্লে কিংবা লোকেশন, দিব্যি পাল্লা দিতে পারে বলিউডের সঙ্গে। লক্ষ্মীর ঝাঁপি এখন টলিপাড়ার ওপর বেশ প্রসন্ন। মাল্টিপ্লেক্স মাতিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ব্যবসাও করছে চুটিয়ে।

এমনই পোয়াবারো পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালটাও মন্দ কাটল না কলকাতার বাংলা সিনেমার বক্স অফিস কাউন্টার। ২০১৩ সালে ঝুড়ি ভরে ছোট বড় সব মিলিয়ে প্রায় শ খানেক ছবি রিলিজ হয়েছে। তার মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়ছে সেরা ১৫টি, যা প্রযোজক এবং হল মালিকের পকেট ভরানোর পাশাপাশি দর্শককেও মাতিয়েছে শতভাগ! এখানে ছবির নাম ইচ্ছেমতো বেছে নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের নিরিখে মূল্যায়ণ করা হয়নি।

১. মাছ মিষ্টি & MORE
নিউ এজ ডিরেক্টর মৈনাক ভৌমিক পরিচালিত এই রোম্যান্টিক কমেডির ফ্রেমে ধরা পড়েছে আজকের জেনারেশনের প্রেম-পরকীয়া থেকে শুরু করে পেশাজীবনে হতাশা। বেশিটা জুড়েই টু বি অর নট টু বি দোলাচল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেন, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পার্নো মিত্র, অনুব্রত বসু এবং নেহা পান্ডার বিন্দাস অভিনয় অবশ্যই এই ছবির ইউএসপি। সঙ্গে জিয়নকাঠির ছোঁয়া ঋতুপর্ণ ঘোষের লেখা গান।

২. দিওয়ানা
রবি কিনাগি পরিচালিত জিত্‍‌ এবং শ্রাবন্তী অভিনীত এই ছবি নিঃসন্দেহে এ বছরের অন্যতম হিট ছবি। ৬ কোটি রুপি বাজেটের এই ছবি ব্যবসা করেছিলো প্রায় ১৫ কোটি টাকার আশপাশে। এন কে সলিলের স্ক্রিন প্লের সঙ্গে জিত্‍‌ -এর ‘লার্জার দ্যান লাইফ প্রেসেন্স’এ বক্স অফিস মাত!

৩. হাওয়া বদল
ইংরেজি ছবি দ্য চেঞ্জ আপ-এর থেকে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বানিয়ে ফেললেন তার দ্বিতীয় ছবি হাওয়া বদল। সঙ্গে অলটাইম ফেভারিট দুই সহ অভিনেতা রাইমা সেন এবং রুদ্রনীল ঘোষ। জীবন-আত্মা বদলা-বদলির এই রোম্যান্টিক কমেডি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ঝোলায় কিছু ব্রাউনি পয়েন্ট তো অবশ্যই উপহার দেয়। সঙ্গে স্প্লিটসভিলাখ্যাত অগ্নি ব্যান্ডের মোহন কাননের গলায় ভয় দেখাস না প্লিজ গানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়।

৪. গয়নার বাক্স
দীর্ঘদিনের লালিত একটি ইচ্ছাটাকে বাস্তবরূপ দেওয়ার তাড়নায় ২০১১ সালের ইতি টানলেন অপর্ণা সেন; মৃণালিনীর পর আরো একবার পরিচালকের চেয়ারে আসীন হয়ে। বিখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে সেলুলয়েডের পর্দায় এলেন মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়, কঙ্কনা সেন শর্মা, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রাবন্তী। বলার অপেক্ষা রাখে না, মাল্টিপ্লেক্স থেকে শুরু করে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সবখানেই হইচই করে চলেছে ছবিটি। দর্শকও খুশি, তৃপ্তা প্রযোজক-পরিচালকও।

৫. শব্দ
একটি সাক্ষাত্‍‌কারে একবার পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, শরীরে মেদ জমুক আপত্তি নেই, তবে মস্তিষ্কে যেন না জমে। কৌশিকের মস্তিষ্ক যে ব্যায়ামাগারে ফিট তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই ওপরতলায় মেদ জমলে বোধহয় শব্দ তৈরি হত না। পরিচালনার মুন্শিয়ানা তো আছেই, সঙ্গে বাড়তি পাওনা ঋত্বিক চক্রবর্তীর অসাধারণ অভিনয়। ৬০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে সেরা বাংলা ছবির খেতাব ছিনিয়ে নেয় এই আজব শব্দের দুনিয়া। ঋত্বিকের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং একটু ছোট রোলে পরিচালক স্বয়ং।

৬. মেঘে ঢাকা তারা
উড়ো চিঠির পর ঋত্বিক ঘটকের ক্লাসিক- মেঘে ঢাকা তারা। তবে এই ছবি থেকে ঋত্বিক ঘটককে টেনে বের করতে পারবেন না। অথচ গোটা ছবিটাই এই জিনিয়াস পরিচালকের জীবন নিয়ে! পরিচালনার দক্ষতায় নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। আর অভিনয়টা যে তার মজ্জাগত তা আরো একবার প্রমাণ করলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সমান দাপটের সঙ্গে স্ক্রিন স্পেস শেয়ার করেছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং রাহুল।

৭. অলীক সুখ
মুক্তধারার অসামান্য সাফল্যের পর আরো একবার জুটি বেঁধে দর্শকদের মননশীল ছবি উপহার দিলেন পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দেবশঙ্কার হালদার, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং সোহিনী হালদারের অভিনয় দক্ষতা নিঃসন্দেহে এই ছবির ইউএসপি।

৮. আশ্চর্য প্রদীপ
ভূতের ভবিষ্যত্‍‌ -এ যে বোমা ফাটিয়েছিলেন অনীক দত্ত, আশ্চর্য প্রদীপ-এ এসে বোমা ফাটেনি। তবে ‘দেখি কেমন হয়’ ভাবনা নিয়ে দর্শক হলমুখী হয়েছিলেন। ফলে আয় যে মন্দ হয়নি তা বলা যায়। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র এবং মুমতাজ সরকারের অভিনয় মোটের ওপর মন্দ নয়।

৯. প্রলয়
বাস্তব চরিত্র বরুণ বিশ্বাসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বানানো হয়েছে এই ক্রাইম থ্রিলার। চেনা ছকের বাইরে রাজ চক্রবর্তী বেশ ভালোই সামলেছেন। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষের অভিনয় এই ছবির ইউএসপি। মিমি চক্রবর্তীও হতাশ করেন না। সব মিলিয়ে বেশ ভালোই দর্শক পেয়েছে এই ছবিটি।

১০. বাকিটা ব্যক্তিগত
যদিও বক্স অফিসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি, তবুও যারা ভালো ছবির খোঁজে থাকেন তাদের কাছে এই ছবিটি নিঃসন্দেহে অন্যতম প্রিয়। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের পরিচালনায় এক অন্য স্বাদের ছবি এটি। আরো একবার ঋত্বিক চক্রবর্তী প্রমাণ করলেন যে বাংলা ছবির জগতে এক অন্য ঘরানা তৈরি করতে তার আগমণ। তার সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন অপরাজিতা ঘোষ দাস এবং চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। বাড়তি পাওনা মাধবী মুখোপাধ্যায়ের চমৎকার অভিনয়।

১১. মিশর রহস্য
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সিরিজের মিশর রহস্য গল্প অবলম্বনে মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম অ্যাম্বিশাস প্রজেক্ট। কাকাবাবুর চরিত্রে প্রসেনজিত্‍‌ চট্টোপাধ্যায়কে পাওয়া যায় এক নতুন অবতারে। বিভিন্ন চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, দেবদান ভৌমিক, রজিত কপুর, বরুণ চন্দ, নীল মুখোপাধ্যায় ও রাজেশ শর্মার অভিনয় মন্দ লাগে না। তবে তাক লাগিয়ে দেয় সৌমিক হালদারের ক্যামেরার কাজ। বাড়ি বসে এমন মিশর দর্শন মিস করতে চাননি বহু দর্শকই।

১২. ফড়িং
এক কিশোরের বালক থেকে ক্রমশ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার জটিল, মনস্তাত্বিক গল্পটাই আসলে ছবির কাহিনি। ছবির ভালো দিকের মধ্যে চিত্রগ্রহণ যদি এক নম্বরে থাকে, তাহলে দু-নম্বরে থাকবে অভিনয়। শিক্ষয়িত্রী দোয়েল-এর ভূমিকায় সোহিনী সরকার আর ফড়িং-এর ভূমিকায় আকাশ অধিকারী জমিয়ে দিয়েছেন। ছোট্ট ভূমিকায় যথারীতি ভালো ঋত্বিক চক্রবর্তী। প্রথম ছবিতেই ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরির বাজিমাত্‍‌।

১৩. তাসের দেশ
একই সঙ্গে প্রেম আর বিপ্লবের আয়োজন। এ ছবিতে আছেন রবীন্দ্রনাথ, মাখামাখি গ্রাফিক আর্ট, লোকশিল্প আর শ্রীলঙ্কা, মুম্বাই ধর্ষণ, আর ফেসবুক আপডেটের মাঝে নারী স্বাধীনতার ঘণ্টা দু’য়েকের এক দ্বীপ-ঠিকানা…. এ কথাগুলোই লিখেছিলেন ছবিটির সমালোচনা করতে গিয়ে এক বহুল প্রচলিত দৈনিকের চিত্র সমালোচক। ধরাবাঁধা ছকের বাইরে এই নিরীক্ষা করে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই রাখেন পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায়। সৌমক কান্তি, অনুব্রত, জয়রাজ, তিলোত্তমা, ইমাদ শাহ অবশ্যই এই ছবির বাড়তি পাওনা।

১৪. সত্যান্বেষী
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোরাবালি কাহিনী অবলম্বনে ঋতুপর্ণ ঘোষের শেষ ছবি এটি। এই তালিকায় থাকার যোগ্য অধিকারী মোটেই নয় এই ছবি। তবুও দর্শক হলমুখী হয়েছিলেন শুধুমাত্র ঋতুপর্ণ ঘোষের শেষ কাজ দেখার জন্যেই। কিন্তু বলাই বাহুল্য, ব্যোমকেশের ভূমিকায় সুজয় ঘোষ কিংবা অজিতের চরিত্রে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, জমিদারের চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত অথবা তার স্ত্রীর চরিত্রে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়এই ছবির মান রক্ষা করতে পারেননি।

১৫. চাঁদের পাহাড়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসাধারণ চাঁদের পাহাড়-এর কাহিনী অবলম্বনে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের এই ছবি বছর শেষের অন্যতম সেরা চমক বলা যেতে পারে। পাগলু দেব, লাভার বয় দেবের ইমেজ ছেড়ে সম্পূর্ণ এক অন্য চরিত্রে নিঃসন্দেহে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সূত্র: এই সময়

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful