Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ৪ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ১ : ১৬ পুর্বাহ্ন
Home / টপ নিউজ / উত্তরাঞ্চলের বিশাল সম্ভাবনাময় কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানী খাতের উন্নয়ন সম্ভব

উত্তরাঞ্চলের বিশাল সম্ভাবনাময় কয়লা উত্তোলন করে জ্বালানী খাতের উন্নয়ন সম্ভব

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কয়লা একটি বিশাল সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে দেখা দিয়েছে। দেশে এখন মারাত্নক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে দিনাজপুরের এই কয়লা খনি থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের সঠিক নীতি ও সঠিক ব্যবহার। দেশের খনি বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের  উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পূর্বাঞ্চলের এক বিশাল কয়লা মজুদ রয়েছে। এই কয়লা খনিতে ২ বিলিয়ন টণ কয়লার মজুদ থাকায় দেশের জ্বালানী ও প্রাচুর্যের উৎস হতে পারে। এই কয়লা ৫৩ টিসিএফ গ্যাসের সমান যা দেশের গ্যাস মজুদের কয়েক গুণ বেশি। বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরে ২টি প্রতিষ্ঠিত কয়লা ক্ষেত্র আছে। বড়পুকুরিয়া খনিজ মজুদ ৩৯০ মিলিয়ন টণ এবং ফুলবাড়ীর পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলে ৫৭২ মিলিয়ন টণ। ভূ-গর্ভ থেকে এই খনির কয়লা অতি নিকটে এবং মহা মুল্যবান। ওপেন মাইনিং করে ১০০ ভাগ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব। বাংলাদেশের কয়লা খনি শিল্পের সুচনা হয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া ছোট মাপের কয়লা খনি। এখান থেকে বছরে ১ মিলিয়ন টণ কয়লা উত্তোলন  করা যাবে। তবে আন্ডারগ্রাউন্ট পদ্ধতিতে ৮০ ভাগ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।

দিনাজপুরের পূর্বাঞ্চলের কয়লা খনি বাস্তবায়নাধীন কিন্তু সরকারের জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এই কয়লা খনিতে বছরে ১৫ মিলিয়ন টণ কয়লা উৎপাদন হবে বলে খনি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন। কিন্তু বাংলাদেশ অর্থনীতির দিক থেকে এখনও পিছিয়ে আছে। যে সম্পদ রয়েছে, তা উত্তোলন না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশ সম্ভব পর নয়। ভারত, রাশিয়া, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, জার্মান, অস্টেলিয়া, আমেরিকা জ্বালানীর দিক দিয়ে তারা আজ অনেক অগ্রসর। কারণ খনিজ সম্পদে তারা অর্থনীতির বিকাশ ঘটিয়েছে। তাদের চিন্তা জ্বালানী যদি মজুদ না থাকে তাহলে অর্থনীতির দিক দিয়ে তারা পিছিয়ে পড়বে। মুল চিন্তা তাদের জ্বালানী মজুদ করে রাখা। জ্বালানীতে এখনও আমাদের দেশ অগ্রসর হতে পারেনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। বর্তমান চট্রগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর সহ অনান্য শিল্পনগরী এলাকাগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ভূ-গর্ভে মজুদ কয়লা উত্তোলনে সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই। সরকার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে না পারায় উন্নতির শিকড়ে পৌছাতে পারছেনা। এ রকম অভিযোগ রয়েছে যে, বাংলাদেশ যেন অর্থনৈতিক ভাবে স্ব-নির্ভর হতে না পারে সে জন্য দেশের উত্তরাঞ্চল সহ খনিজ সম্পদগুলি বাস্তাবায়িত না হয় তার জন্য চলছে দেশী-বিদেশীদের গভীর ষড়যন্ত্র। দেশ যখন উন্নয়নে পদার্পন করছে ঠিক সেই মুহুর্তে উত্তরাঞ্চলের কয়লা খনি যাতে বাস্তবায়িত না হয় সে জন্য গভীর  ষড়যন্ত্র চলছে। বর্তমান দিনাজপুরে ৫টি কয়লা খনি জ্বালানী খাতে বড় ধরণের বিপ্লব ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশে কয়লা খনি আবিস্কারের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। ১৯৮৫ সালে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া দেশের ২য় বৃহত্তম কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। দ্রুত এই ক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় জরিপের অর্থ পরামর্শ সহায়তা মেলে । এরপর ১৯৯৪ সালে চীনের সাথে প্রথম  ঋণের আওতায় পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া খনি উন্নয়নে চুক্তি হয়। বর্তমান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবার পর এখান থেকে প্রতিদিন ২৫০০ মে.টণ কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। উত্তোলণকৃত কয়লা পার্শবর্তী ২৫০ মেঘাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কয়লা পুড়িয়ে প্রায় ২০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ অব্যহত রয়েছে। বর্তমান বড়পুকুরিয়ার ভূ-গর্ভ থেকে ১০০ ভাগ কয়লা  উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পটি লাভের মুখ দেখছে না। এখন এখান থেকে ২০ ভাগ কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। অবশিষ্ট  কয়লা ভূ-গর্ভেই রয়ে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালে বিদেশী একটি কোম্পানী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি জরিপ চালিয়ে ওপেন মাইনিং করা সিদ্ধান্ত নিলে সেই সময়কালে ওপেন মাইনিং প্রস্তাবের ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি হয়। পরবর্তীতে ওপেন মাইনিং করা প্রস্তাবটি পেট্রোবাংলায় আর উঠানো সম্ভবপর হয়নি। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি আন্ডার গ্রাউন্ড পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে এলাকায় যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তার মধ্যে খনি এলাকার আশপাশের বাড়ী ঘর আবাদি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে। ওপেন মাইনিং পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন পৃথিবীর মধ্যে অনেক দেশ করছে। তাতে খরচ কম, উত্তোলনের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। শতকরা ৯৫ভাগ কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব। পরিবেশের দিক থেকে যত সামান্য ক্ষতি হলেও তাতে পরিবেশের কোন বিপর্যয় ঘটবে না । ১৯৯৭ সালে দিনাজপুরের পূর্বাঞ্চলের দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায়  বিএইচপি মিনারেল নামে একটি বিদেশী কোম্পানী  সরকারের জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের সাথে চুক্তির অধীনে একটি বিশাল কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কার করে। বিএইচপি গ্লোবাল বিজনেস ষ্ট্রাটেজি পরিবর্তন ও বাংলাদেশে আবিস্কৃত কয়লা ক্ষেত্র বিশ্ব বাজারে সে সময় কয়লা চাহিদা পুরনের জন্য নগন্য ভেবে তারা তাদের সমস্ত কাজকর্ম গুটিয়ে নেয়। চুক্তির শর্ত ও সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিএইচপির সঙ্গে কয়লা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নের চুক্তি করে কোম্পানীটি। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের পূর্বাঞ্চলের কয়লা ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে এলাকায় জরিপ চালিয়ে কোম্পানীটি কয়লা মজুদের   বিশাল সন্ধ্যান পান। কোম্পানীটি নিশ্চিত হয়েছে যে, আহরণযোগ্য মোট ৫৭২ মিলিয়ন  টণ কয়লা এই এলাকায় মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। ইতিমধে বিদেশী ঐ কোম্পানীটি খনি উন্নয়নের পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক বিস্তারিত সমীক্ষা  চালিয়েছে  গত কয়েক বছর ধরে। কোম্পানীটি বর্তমান সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় বাংলাদেশে রয়েছে। কোম্পানীটি তাদের বিশ্বের সর্বাধনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই বিশাল মজুদ কয়লা উত্তোলন করতে চায়। এই মজুদ কয়লা উত্তোলন করলে দেশের অর্থনীতির বিশাল বিকাশ ঘটবে। কোম্পানীটি ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে তাদের ২ বিলিয়নের বেশী মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধা ঘটবে। তবে বর্তমান সরকারের স্ব-দিচ্ছা থাকলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বিশ্বের বৃহৎ খনি কোম্পানী অস্টেলিয়ার বিএইচপি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের সাথে  উম্মুক্ত বাজার ব্যবস্থার আলোকে যে রকম চুক্তি করেছিল তারই আলোকেই বিএইচপির উত্তরসুরী আরেকটি কোম্পানী এদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ  বিনিয়োগ করে কয়লা উত্তোলন করতে চায়। বিনিয়োগকারীদেরকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগিয়ে   বিনিয়োগে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন? সরকার দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগকারী কোম্পানীর সাথে রয়ালেটির বিষয়টি সমঝোতা করে প্রকল্পটি বাস্তাবায়নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের একান্ত দায়িত্ব। কিন্তু কেন হচ্ছে না? বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং মংলা বন্দর বাস্তবায়নকালীন সময়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে কোম্পানী । বিদেশী কোম্পানীটি ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বেশী ব্যয় করবে খনি বাস্তায়নে ৩০ বৎসরের অধিক সময়ে। আর্ন্তজাতিক বাজারে কয়লা বিক্রয়ের চাঙ্গাভাব অব্যাহত থাকলে এর বিনিয়োগকারীরা ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লাভ করবে। বাংলাদেশ এখান থেকে জ্বালানীর একটি নতুন উৎস পাবে। হাজারো কর্মস্থান ও নতুন নতুন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এই এলাকায়। এছাড়া ভারত থেকে সালফার  মিশ্রিত এবং পাথর মিশ্রিত কয়লা আমদানি করা বন্ধ হবে। বর্তমান দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সংকট দেখা দিয়েছে তা কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলে দ্রুত জ্বালানী সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট সহায়ক হবে।  কিন্তু সরকার দেশের ভূ-গর্ভের নীচে মজুদ কয়লা উত্তোলন না করে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে কয়লা আমদানী  করে জ্বালানী খাতের উন্নয়নে সরকার দেশের তেমন কোন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে পারবেন না বলে কয়েকজন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ।

লেখক: মো.নুরুন্নবী বাবু

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful