Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১০ : ০৯ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / ‘চাঁদমনি’ একটি আদর্শ অনাথ ও দুস্থ বালিকা কল্যাণ কেন্দ্র

‘চাঁদমনি’ একটি আদর্শ অনাথ ও দুস্থ বালিকা কল্যাণ কেন্দ্র

chরনজিত রায়, জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ প্রায় পনের বছর ধরে বেশ সুনামের সঙ্গেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি একটি দরিদ্রকন্যা কল্যাণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছরই এর ছাত্রী সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিষ্ঠানটি মূলত: একটি অনাথ ও দরিদ্র বালিকা কল্যাণ প্রতিষ্ঠান। এর বর্তমান ছাত্রী সংখ্যা পঞ্চান্ন জন। এরা পিতৃ অথবা মাতৃহীনা। এদেরকে বিভিন্ন সময়ে যিনি নিজ কোলে ঠাঁই দিয়েছেন তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব পিজিরুল আলম দুলাল। যিনি এই এলাকায় দুলালহাজী বা চাঁদমামা নামে পরিচিত। তার এই গৌরবময় প্রতিষ্ঠানের নাম “চাঁদমনি)। পিজিরুল আলম অর্থনীতিতে বিএ অনার্স এবং এম.এ। তিনি উত্তরা ব্যাংকেই তার চাকুরী জীবন কাটান।

‘চাঁদমনি’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ এর শেষ দিকে পিজিরুল আলমের গ্রামের বাড়িতে। এটি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের চাওড়াডাঙ্গী গ্রামে অবস্থিত। ব্যাংকে তার চাকুরিজীবনের প্রায় শেষের দিকে পিজিরুল আলম গ্রামে ফিরে আসার চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। কারণ তিনি নি:সন্তান। গ্রামের বাকী জীবন নিরিবিলিতে কাটাবেন। এই অভিপ্রায়ে চাকুরি শেষ হবার কয়েক বছর আগেই তিনি চাকুরিটি ছেড়ে দেন এবং নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে এসে তিনি দেখলেন, গ্রামের অনেক ছেলেমেয়েই স্কুলে যায় না আর এর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। এইসব মেয়ে শিশুর লেখাপড়ার জন্য তিনি কিছু করার চিন্তা করতে লাগলেন। এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করলেন চাঁদমনি নামক অনাথ ও দরিদ্র বালিকা কল্যাণ সংস্থাটি। ‘চাঁদমনি’ অনাথ দরিদ্র ও অসহায় কন্যা শিশুদের একটি আদর্শ আশ্রয়কেন্দ্র।

এখানে থাকা মেয়েদের বিনা পয়সায় খাওয়া ও থাকা ও অন্যান্য সবিধা প্রতিপালন করা হয়। বর্তমানে ঐরূপ ব্যবস্থায় এখানে পঞ্চান্নজন মেয়ে শিশু প্রতিপালিত হচ্ছে। এরা পিতৃ বা মাতৃহীন। এ পর্যন্ত এরকম প্রায় দুইশত পঞ্চাশ জন বালিকা এখান থেকে লেখাপড়া শিখে বেড়িয়ে গেছে। ‘চাঁদমনি’ এছাড়া আরও কিছু সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করে। যেমন বাল্য বিবাহ রোধে এই এলাকায় তারা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নারী নির্যাতনরোধে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এইসব বিষয়ের উপর তারা মাঝে মাঝেই সেমিনার, র‌্যালী ও মানববন্ধন করে থাকে। এখানে একটি পবিত্র কোরআন শিক্ষার মক্তব আছে। জ্ঞান বিখাশের জন্য আরও আছে একটি ভ্রাম্যমান পাঠাগার। আছে একটি ফ্রি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

‘চাঁদমনির সঙ্গে জড়িত আছেন পিজিরুল আলমের বোন মাসুদা বেগম ডেইজি ও তার স্বামী আব্দুল কাদের। আরও জড়িত আছেন পিজিরুলের আপন কিছু চাচাতো ভাইবোন ও অন্যন্য ্বাত্মীয়জন যারা নিয়মিত আর্থিক ও অন্যান্য ভাবে চাঁদমনিকে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। তারা সবাই ঢাকা বা রংপুরের বাইরে থাকেন। এছাড়া দেশের কিছু দানশীল ব্যক্তি চাঁদমনিকে নিয়মিত ভাবে আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে আসছে। আর এভাবে বর্তমান চাঁদমনি চলছে। এর আগে পিজিরুল আলম প্রথম কয়েকবছর একাই তার নিজের টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে এসেছেন। তার জন্য তিনি অবসরে প্রাপ্ত তার সবটাকাৎ এবং তার সব জমি জমা বিক্রি করে তার সব টাকা দিয়ে চাঁদমনি পরিচালনা করেন। তার স্ত্রী সৈয়দা মোতাহারা আলম এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে পরলোক গমন করেন এবং তারা নিঃসন্তান। পিজিরুলের মা পিয়ারা আহমেদ ও বাবা মোসলেম উদ্দিন আগেই পরলোক গমন করেছেন।

এ পর্যন্ত চাঁদমনি থেকে ৩০ জন এসএসসি ও ২২ জন এইচএসসি পাশ করেছে। বর্তমানে কলেজ পর্যায়ে ৮ জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন পড়াশুনা করছে। অনাবাসিক ব্যবস্থায় এলাকার অনেক মেয়ে চাঁদমনি থেকে পড়াশুনায় সাহয্যা পাচ্ছে। জলঢাকার ১০ জন হরিজনের মেয়ে অনাবাসিক ব্যবস্থায় চাঁদমনি আর্থিক সাহায্য পেয়ে পড়াশুনা করছে। চাঁদমনি একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও বটে। প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর এখানে একটি গ্রামীণ হস্তশিল্প মেলা হয়। মেলায় প্রচুর লোক সমাগম হয়। চাঁদমনি মেলা নামে একটি পরিচিত। এই মেলা অনেক সুনাম অর্জন করেছে। চাঁদমনি মাসে মাসে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা প্রদর্শন ইত্যাদিও করে থাকে। সব মিলিয়ে চাঁদমনি একটি আদর্শ দুস্থ বালিকা কল্যাণ কেন্দ্র এবং আদর্শ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful