Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৪২ পুর্বাহ্ন
Home / ঠাঁকুরগাও / ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নতুন চা বাগান; সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে নতুন চা বাগান; সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

Tea Bagan (Medium)রবিউল এহসান রিপন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে নতুন চা বাগান গড়ে উঠেছে।

ইতোমধ্যে ১২০একর জমিতে চা বাগান গড়ে উঠায় আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। চা চাষে বেকার নারী পুরুষের কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের তৃতীয় চা অঞ্চল নামে খ্যাত পঞ্চগড় জেলার পাশা পাশি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় চা চাষে ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। চা চাষ এলাকা গুলো এক সময়ে গৌচরণ ভুমি বা পতিত জমিগুলো এখন দিগন্ত জোড়া সবুজ পাতায় ভরে গেছে নিটোলডোবার,পাড়িয়া বিস্তীর্ণ মাঠ। রায়মহল নিটোল ডোবা ৪৫একর ও পাড়িয়া ৩৫ একর এবং ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষীদের ৪০একর সহ ১২০একর জমিতে চা বাগান গড়ে উঠেছে। দেশে যে পরিমাণে চা এর পানে মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে সে তুলনায় চায়ের উৎপাদন বাড়ছে না।ফলে এক সময়ে রপ্তানী পন্য চা এখন নাম লিখিয়েছে আমদানী পন্যের তালিকায়। কারণ পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁও লালমনিরহাট জেলায় চা চাষের জন্য উপযোগী জমি রয়েছে প্রায় ৭৫হাজার একর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৩ হাজার একর জমিতে। ২০০০ সালে উত্তর জনপদের সীমান্ত ঘেষা জেলা পঞ্চগড় সমতল ভুমিতে চা চাষ শুরু হয়। ঠাকুরগাও জেলায় ২৫ হাজার একর। এলাকায় উন্নত জাতের চা চাষ সম্ভব।

১৯৯৯ সালে বানিজ্য মন্ত্রনালয় এর নিদের্শে বাংলাদেশ চা বোর্ড একটি প্রতিনিধি দল পঞ্চগড়সহ উত্তরের কিছু অংশ পরীক্ষা শেষে জানান, এ অঞ্চলের মাটি বেলে ও দো-আঁশ আকৃতির যে মাটিতে বৃষ্টি পানি জমে থাকেনা ঐ সব জমিতে চা চাষ করা সম্ভব। এখবর পেয়ে ২০০০ সালে তেঁতুলিয়ায় টি কোম্পানী ও কাজী এন্ড টি এস্টেটসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চা চাষ শুরু করেন। পরের বছরেই তেতুলিয়া উপজেলায় বিচ্ছিন্ন গোচরণ ভুমিতে চায়ের সবুজ পাতা ভরে যায়। জাগে সবুজের সমারহ। চা বোর্ডের পরামর্শ ও কারিগরী বোর্ডের সহয়তায় এলাকার ক্ষুদ্র চাষীরা এগিয়ে আসে। বাগান মালিকদের পাশা পাশি তারাও চাষ করে চা। এতে নীরবে ঘটে চা চাষের বিপ্লব। তবে ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় জেলায় ৬৫হাজার একর জমি চা চাষের উপযোগী। এই ২০টি টি এস্টেটে মধ্যে চা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধন পেয়েছে ৯টি। চলতি বছরের মার্চ থেকে চা পাতা চয়ণ করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী গ্রীণ ফিল্ডে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোট ৮০০০ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছর আরো ১ লাখ গ্রীণ ল্যান্ড ফিল্ড, পাড়িয়া রংবাগ ইসলাম টি ষ্টেট লিমিটেড মালিক এমপি দবিরুল ইসলামর ৪৭০ বিঘা জমির উপর চা বাগানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। গত ৯ মাস আগে ১শ বিঘা জমিতে চা চারা রোপন করেছেন।আশে পাশের জমিগুলো চা চাষের আওতায় আনাগেলে নারী শ্রমিকদেরও কৃষক চাবাগানে ২০ হাজার কেজি, কৃষকদের ৩০ হাজার কেজি। এই নিয়ে মোট ঠাকুরগাঁও জেলায় ১ লাখ ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হবে বলে আশা হচ্ছে। পঞ্চগড়ের পাশা পাশি ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে প্রায় ৪০কি.মি দুরে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিটোলডোবা গ্রামের ২৫ একর জমিতে ২০০৭ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহম ড. ইয়াজ উদ্দীন আহামেদ এর পুত্র বধু কার্নিজ ফাতেমা একটি চা বাগান গড়ে তোলে। পরে গ্রীন ফিল্ড নামে একটি ট্রি এস্টেট ক্রয় করে ।

গত বছর ঠাকুরগাঁও থেকে ১লাখ কেজি চা পাতা পঞ্চগড়ে করতোয়া টি কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে। পরবর্তীতে ঐ বাগানে ২০ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণ করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ্উপজেলায় এ সব জমিতে মুগডাল ধান ও ভুট্টার আবাদ করে এসেছে তাদেরকে চা চাষে এগিয়ে আসার জন্য গ্রীন ও টি এস্টেট প্রান্তিক চাষীদের বিনা সুদে ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের মধ্যে দিয়ে চা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে চাষীরা চা চাষে এগিয়ে এসেছে। নিটোলডোবা গ্রামের ৩৩ জন কৃষক ৪০ একর জমিতে ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষ শুরু করেছে। এর মধ্যে মহসিন আলী ১ একর, ডা.নিরেন চন্দ্র ৫একর, মকবুল হোসেন ১ বিঘা, দবিরুল ইসলাম ১ বিঘা জমিতে চায়ের আবাদ শুরু করেছেন।

নিরেন চন্দ্র জানান, আগে আমরা অন্য ফসল করতাম ভাল আবাদ হতোনা। গ্রীন ফিল্ডের সহযোগিতা পেয়ে আমরা স্বল্প পরিসরে চা চাষ শুরু করেছি। লাভ জনক হলে ভবিষ্যতে আবাদ আরও বৃদ্ধি করা হবে। এবছর আরো ৫০ একর জমিতে চা চাষের জন্য কৃষকদেরকে গ্রীণ ফিল্ড সুদবিহীন ৪০ জন কৃষকে চায়ের চারা প্রদান করা হবে। গ্রীন ফিল্ডের ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল জানান, এ এলাকায় চা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চা চাষ বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহিত করে বিনা সুদে ঋন প্রদান করা হয়। ঠাকরগাঁও ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. দবিরুল ইসলাম জানান,৪৭০ বিঘা জমিতে পর্যায় ক্রমে চা বাগান করা হবে প্রাথমিক ভাবে ১’শ বিঘা জমিতে চা রোপন করা হয়েছে। প্রতি বছর ১শ বিঘাজমিতে চা চারা রোপন করা হবে।

এছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলায় চা ফ্যাক্টরি না থাকায় কৃষকরা চা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেনা। চা বোর্ডের উদ্যোগে অধিক পরিমাণে চা চারা উৎপাদন করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে চা চারা সরবরাহ বা ব্যবস্থা করা। মাঠ পর্যায়ে উপকরণ জনবল বৃদ্ধি করে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া । চা চাষ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন। ২ হাজার হেক্টর জমি চা চাষ করে হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশে বিদেশে চা রপ্তানি উন্নয়নে বলিষ্ট ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং লাভবান হবে এ জেলাগুলোর কৃষক সমাজ।

সরকারের উচিত অবহেলিত পরে থাকা জমিগুলোকে চা উৎপাদনের মাধ্যমে বিস্তৃর্ণ মাঠকে কাজে লাগানো। নারীদের কোমল হাত দিয়ে তোলা দুটি পাতা একটি কুড়ি। বিশেষ করে দরিদ্র ও বঞ্চিত নারীদের দু’বেলা দু’ভাতের নিশ্চয়তা দিয়েছে। এলাকায় কৃষকেরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চা বাগান গড়ে তোলা যা প্রান্তিক চাষীদের ভাগ্য উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে। চা বাগান এক নজরে দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ছুটে আসছে নিটোলডোবা চা বাগানে। চা বাগানে পশ্চিম পার্শ্বে ৫০০ গজ দুরে ভারতের চা বাগান দেখা যাচ্ছে। গ্রীণ ফিল্ড নদীর পশ্চিম পার্শ্বে চা বাগানের পরিধি বাড়ানোর জন্য দ্রুত কাজ করছে ।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful