Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ২৯ পুর্বাহ্ন
Home / শিল্প ও সাহিত্য / যেখান থেকে দূরে গেলে মন পোড়ে

যেখান থেকে দূরে গেলে মন পোড়ে

আনিসুল হক এর ফেসবুক থেকে

anisul hoq 2জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে কবি অসীম সাহা ফোন করে বললেন, রংপুরে বইমেলা হচ্ছে। যেতে পারবে? আমি বললাম, যাব।

একে তো বইমেলা, তারওপর রংপুর, তারওপর আম্মার সঙ্গে দেখা হবে। আম্মাকে সারপ্রাইজ দেব বলে ফোন করলাম। আম্মা, শুক্রবার আমি রংপুর আসছি।

আম্মা বললেন, আগে বলবি না? আমি তো গ্রামের বাড়ি। ইরিধান উঠছে। আমি গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি? তুই আসবি, আমি কি তাহলে রংপুর আসব? আমি বললাম, না না, আপনাকে কষ্ট করতে হবে না। আপনি বাড়ি থাকুন।

রংপুরের বিভাগীয় বইমেলা খুব ভালো হচ্ছে। ৬৫টার মতো প্রকাশনী ঢাকা থেকে এসেছে। প্রথমার স্টলে যারা ভোর এনেছিল আমি পৌঁছার আগেই শেষ। শচীন রূপকথাও। সময় প্রকাশনী মা বিক্রি করছে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের যার যা ধর্মও সব কপি বিক্রি হয়ে গেছে।

গতকাল বিকাল ও সন্ধ্যায় আমি বইমেলায় থাকলাম। দুটো কলেজের ছেলেমেয়েরা বিতর্ক করল। খুবই মানসম্পন্ন বিতর্ক। তারপর হলো কবিতা পাঠের আসর। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে শ পাঁচেক শ্রোতা কবিতা শুনলেন। আমি বললাম, এটা বিশ্বরেকর্ড। এত লোক এর আগে কেবল জাতীয় কবিতা উৎসব ছাড়া কবিতা শোনে নাই। যখন আমার বক্তৃতা দেবার পালা, তখন পাবলিক লাইব্রেরি চত্বর জনসমুদ্র।

আজকে আমার ফ্লাইট দুপুরে। সৈয়দপুর থেকে বিমান ছাড়বে। আমি একটা কাজ করলাম। ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে বেরিয়ে পড়লাম একটা গাড়ি নিয়ে। সোজা গ্রামের বাড়ি। গোবিন্দগঞ্জের সাতানাবালুয়া বগুলাগাড়ি। প্রায় দশ বছর পরে গ্রামের বাড়ি গেলাম। অনেকটা পথ পাকা হয়েছে। এক সময় রাস্তা হারিয়েও ফেললাম। তারপর ওকে ওকে জিগ্যেস করে শেষে দুজন মোটর সাইকেলে এসকর্ট করে পৌঁছে দিল।
আম্মা ফোন করলেন, তুমি কোথায়? আমি বললাম, দরজা খোলেন। আপনার ঘরের দরজায়। আম্মাকে কি আমি জড়িয়ে ধরলাম? প্রশ্নই আসে না। বাঁধের ওপরে গিয়ে দাঁড়ালাম। কে বিশ্বাস করবে এই ধানক্ষেত একটা সময় ছিল ভরা নদী। এইঘাটে আমাদের নৌকা বাঁধা থাকত!
খুব ঘন একটা জঙ্গল ছিল মড়াঘাটিতে, সেটা নেই। সেখান থেকে লাল রঙের একটা বিচি জোগাড় করে পাটকাঠির ওপরে রেখে ফুঁ দিয়ে সেটা নিয়ে খেলতাম, একথা এখনকার ১২ বছরের বালকটিকে বলতেই সে অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

আম্মা পরাটা করেছেন, খিচুড়ি, মাংস, ডিম। ড্রাইভারদের খাওয়ানোর ফাঁকে নিজেও খেয়ে নিলাম। আম্মা বললেন, কখন তুই কী খেলি, আমি তো খেয়ালও করলাম না। আমি জানি, আম্মার ওই টুকুনের মধ্যেই শান্তি নিহিত। আমাকে খাওয়ালেন, এতেই তার তৃপ্তি। এক ঘণ্টা থেকে এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে আবার গাড়িতে উঠে বসলাম। আম্মা বললেন, দেখেশুনে নিরাপদে যাও।

আমার আম্মা! পাঁচ ছেলেমেয়ে ঢাকায়। কিন্তু এই যে আম্মা বাড়ি যান ধান তুলতে, সেটা তো তার শ্বশুরবাড়ি। নিজের বাবার বাড়ির চেয়ে শ্বশুরবাড়িটাকে আম্মা আপন ভাবেন কী করে? সারাটা জীবন তাই ভেবে এসেছেন।

আর এটা আমাদের দাদার বাড়ি। আমরা সব সময় দাদার বাড়িতে বেড়াতেই গেছি। আব্বা ছোটবেলায় এখানে থাকতেন। তারপর পড়াশোনার জন্য বেরিয়ে পড়েছেন, লজিং থেকেছেন, শেষে কলকাতা। এখন আমার বাড়ি কোনটা? রংপুর, যেখানে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে? নীলফামারী, যেখানে আমি জন্ম থেকে ৪০ দিন বয়স অবধি ছিলাম? সাতানাবালুয়া, যেটা আমার আব্বার জন্মস্থান? ঢাকা, যেখানে আমি এখন থাকি?

জানি না। বাড়ি হচ্ছে তা যেখানে ভালোবাসা থাকে। যেখান থেকে দূরে গেলে মন পোড়ে। মায়া হয়!আমার আম্মা আমাদের জন্য মায়া বোধ করেন, আর আমি করি আমার মেয়ের জন্য। এইটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful