Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১ : ৫৩ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / মা দিবস- একদিন- প্রতিদিন- চিরদিন

মা দিবস- একদিন- প্রতিদিন- চিরদিন

দিলরুবা সরমিন

mother১ মে’ মা দিবস। কথাটা আন্তর্জাতিকভাবে শুনতে ভালই লাগে । অন্তত একটি দিনের জন্যে হলেও সকলে মিলে একটি দিনকে ”মা দিবস” ঘোষণা করেছে। আর এই ঘোষণার উপর দিয়ে আমরা চলছি । বেশ তবে এই একটি মাত্র দিন ই হোক ”মা দিবস” !
 
অন্তত এই একটি মাত্র দিন মা’কে আমরা ভালবাসি, সম্মান করি, শ্রদ্ধা জানাই । এই একটি দিন মায়েদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত হোক । সকল মা’ হোক সকল সন্তানের একক অভিভাবক । গর্ভধারিনী’র জন্য একটি দিনই যথেষ্ট । দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভধারনের মতো দূরুহ কাজটি করাই শেষ কথা নয় প্রসব যন্ত্রনার মুক্তির পর মাকে অতিক্রম করতে হয় অনেকটা পথ । শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টির জন্যে নিদেন পক্ষে দুটি বৎসর মায়ের বুকের দুধ পান করানো আমাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ’ পবিত্র কোরআন শরীফ এর সুরা আল বাকারা’র ২৩৩ নম্বর আয়াত এ বলা আছে । সরকারী ভাবে আমাদের ব্রেস্ট ফিডিং নীতিমালাতেও বলা হয়েছে। তারপরও মা’ যতদিন বেঁচে থাকেন ততদিন সন্তানের জন্য তাঁর উতলা মন কোন আইন বা নিয়ম কানুন দিয়েই বাঁধা যায় না। মা’ সর্বক্ষনই কেবল উতলা থাকেন সন্তানের জন্য। সারাজীবন যে নারী সন্তানের জন্য উতলা সেই নারীর জন্যে কেবল একটি মাত্র দিন বরাদ্দ !
 
পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসারীরা হয়তো খুব গদগদ হয়ে এই দিবসটি পালন করতে আগ্রহী। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি কখোনোই এব্যপারে সোৎসাহী নয়। কারন আমরা বাঙ্গালী । সারা বছর প্রতিক্ষন আমাদের জীবনে মা’য়ের উপস্থিতি আদর্শিক অবস্থান আমরা খুব বেশী অনুভব করি। অন্তরের অন্তস্থল থেকে । মা’ কী কেবল একদিনের ? জীবনে – মরনে – ধর্মে – কর্মে মা’ আমাদেরকে জড়িয়ে আছেন আষ্টেপিষ্টে । মা’কে ছাড়া আমরা এই পৃথিবীর সব কিছুই অন্ধকার দেখি। যতই ঝড় তুফান আমাদেরকে তাড়া করে  ততই আমরা মা’ মা’ মা’ বলেই ডাকতে থাকি । মা’ সেটি শুনতে পারুক বা নাই পারুক। তাই মা’র জন্য আমাদের বিশেষ দিন লাগে না। আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনই মা’র জন্য।
 
এই সব বাণিজ্যিক কায়দায় আমাদেরকে জোর করে মা’ দিবস চাপিয়ে দিচ্ছে। আর আমরা সাদা মনের একটি বিশেষ জাতি – যারা এই” মা’ দিবস” নামের বাণিজ্যকে স্বাগত জানাচ্ছি। আবেগে উথলে পড়ছি। আমাদের উদ্বেলিত হওয়া শোভা পেত যদি কিনা আমরা নিদেন পক্ষে মা’র অধিকারগুলির দিকে একটি বার ফিরে দেখতাম।
মা’কে আমরা কে না ভালবাসি ? সকলেই বাসি। আমাদের জন্মভূমি মা’কে । আমাদের গর্ভধারীনি মা’কে । সকলকেই । কিন্তু জন্মভূমি মা’য়ের প্রতি আমরা কতটুকু শ্রদ্ধাশীল ? যতœশীল ? আস্থাশীল ? তাই যদি হতো তবে তো দেশের মানহানিকর কোন কাজ বা কথা আমরা বলতাম না। যতœশীল যদি হতাম তবে যারা আমাদের জন্মভূমির উপর বারংবার আঘাত হানে তাদেরকে উপড়ে ফেলতে দ্বিধান্বিত হতাম না। আস্থাই যদি থাকতো তাহলে কারনে অকারনে দেশ ছেড়ে পালাতাম না।
আসলে এসব কিছুই নাই বলেই আমরা পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেয়া মা দিবস নিয়ে বণিজ্য শুরু করেছি।
গর্ভধারীনি মা’র প্রতি বিন্দু মাত্র ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান থাকলে দেশে কোন বৃদ্ধাশ্রমই স্থাপিত হতো না। আর আমরা ক্রমশ যৌথ পরিবারকে ভেঙ্গে চূড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ করে একক – নিঃসঙ্গ জীবনও বেছে নিতাম না।  যত যুক্তিই আমরা দেখানোর চেষ্টা করি না কেন কোন যুক্তিই এখানে টেকসই হবে না – ছেলে বা মেয়ে যে সন্তানই হোক না কেন মা’য়ের প্রতি দায়িত্ব – কর্তব্য কোন আইন বা ধর্মই ভেদাভেদ করে দেয় নি। যা করেছি সেটি আমরা নিজেরাই নিজেদের স্বার্থের তাগিদে করেছি। মানব জাতি মানে আমরা আসলে একটি স্বার্থপর জাতি। পশুর সাথে নিজেদেরেকে মাঝে মাঝে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে ফেলে ফাঁয়দা লুটি তারপর ফাঁয়দা শেষ তো আমাদের মানুষের কাতারে আবার মুখোশটা পরেই আবার চলে আসি।
মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র বা বাংলাদেশ সংবিধান এ কোথাও লেখা নাই যে ,নারী বা পুরুষের মাঝে কোন ভেদাভেদ আছে। কিন্তু আমরা আইনে এর ভেদাভেদ তৈরী করে ফেলেছি। আমরা সামাজিকভাবে ”জেন্ডার সমতা” শব্দটি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ”ঋণ করে এনে” আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় তৈরী করেছি। নইলে আবার আমাদের পেট চলবে কেমন করে ? কারন এই শব্দটিকে ভাঙ্গিয়ে তো আমরা এ যাবৎকাল কম ” দান – অনুদান – খয়রাত” কবুল করিনি !  সামনে তো আরো দিন পড়েই  আছে -এই বাবদ আরো যদি কিছু পাওয়া যায় এই আশায় । মন্দ কী ?
 
কষ্ট লাগে মায়ের জন্য দিন বরাদ্দ দেখে ! এই দিনটি মায়েরা কী পাবে ? কেবল শুভেচ্ছা আর উপহার ? মায়েরা কী কেবল সন্তানের কাছ থেকে উপহার আর শুভেচ্ছা চায় ? মায়েরা সারা জীবন কেবল সন্তানের জন্য মঙ্গল চায় । সন্তানের হাসিমুখ দেখতে চায়। সন্তানকে সুপ্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়। সন্তানের সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি চায়। সন্তানের বিপদে নিজে ঝাঁপিয়ে পড়ে । সন্তানের অসুস্থতাকে নিজের অসুস্থ্যতা বলে মনে করে। সন্তানের উন্নতিকে নিজের উন্নতি মনে করে। আর সেই মায়ের জন্য কেবল একটি দিবস ?
 
কৈ কোথাও তো একটি বারের জন্য এই রব শুনলাম না, ইসলাম ধর্ম মতে (মহানবীর বিদায়ী হজ্জ্বের ভাষণের উপর ভিত্তি করেই বলছি) যদি মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশÍÍ  (প্রতীকস্বরুপ) হয়েই থাকে তবে কেন দীর্ঘ সময় গর্ভধারণ , প্রসববেদনা , দুগ্ধপান করানো এবং সন্তান কে বেড়ে ওঠার পিছনে তাঁর স্বর্বস্ব বিলিয়ে দেবার পরও মা’ কেন সন্তানের অভিভাবক হতে পারবে না ? বাবা যদি কোন শর্ত ছাড়াই অভিভাবক (আইনের ভাষায় ন্যাচুরাল গার্জিয়ান) হতে পারে তবে মা কেন নয় ? কেন মাকে কেবল সন্তানের জিম্মাদার করা হলো ? এত আইনের আধুনিকায়ন , পরিবর্তন, সংশোধন বাংলাদেশে হচ্ছে কেবল এই আইনটুকু পাশ করতেই যত দ্বিধা ? বাধা কোথায় ? কে দিচ্ছে ?   
 
মা’ দিবসে ” মা’কে সন্তানের ন্যাচুরাল গার্জিয়ানশীপ দেয়া হোক” এটি সকল মায়ের পক্ষ থেকে একজন মায়ের দাবী। এই দাবী নিশ্চয়ই জামাত- হেফাজত-খেলাফত এর কাছে করতাম না। করছি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে । যে সরকার এর প্রধানও একজন ” মা” এবং যারা আইন পাশের জন্য মহান জাতীয় সংসদে বসেন তাঁরাও কোন না কোন মায়েরই সন্তান।
 
তাই আশাকরি এই আইন পাশে কোন সমস্যাই হবে না।  মা’কে সন্তানের অভিভাবকত্ব প্রদান এখন সময়ের দাবী। এই দাবী এই সরকারকেই মানতে হবে।
dilrubaসকল মা’কে অন্তহীন ভালোবাসা। 
 
লেখক: আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful