Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ২৪ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / খালেদার রাজনীতি এবং হাসিনার মুচকি হাসি!

খালেদার রাজনীতি এবং হাসিনার মুচকি হাসি!

এস.এম সাজু আহমেদ 

hasina khaledaবাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমার মতো এত ক্ষুদ্র মানুষ আর লিখবো বলেই ঠিক করেছিলাম, ভেবেছিলাম এই সোনার স্বাধীন বাংলায় আজ যে বাজে রাজনীতি শুরু হয়েছে সেগুলো আর লিখেই বা কি হবে? কিন্তু কিছু বিষয় ভেবে অনেকদিন পর আজ আবার কলম হাতে দু-এক কলম লিখতে শুরু করলাম। তবে লেখার শুরুতেই আমাদের এই স্বাধীন বাংলার মহান সম্মানিত দুই নেত্রীর রাজনীতির খেলা দেখে মনে পড়ে গেল অতীত কালের গ্রাম বাংলার মোড়ল প্রথার কথা, মনে পড়ে গেল মোড়ল প্রথার দু:শাসন আর অবিচারের কথা। অতীতের সেই মোড়ল প্রথায় প্রতিটি গ্রামে কয়েকটি করে সমাজ থাকতো (এখনো আছে) এবং সেই সকল সমাজে একটি করে গ্রাম্য ভাষায় মাতব্বর থাকত। তো প্রত্যেকটি মোড়ল (মাতব্বর) তাঁর সমাজে অনেকটা একপেশে ভাবে আধিপত্য বিস্তার করত এবং সমাজের অসহায় মানুষদের অনেকটা সুন্দর ভদ্র ভাবে গ্রাম্য কায়দায় (কৌশল) শোষণ, অবিচার ও অন্যায় করাই ছিল তাদের অন্যতম দায়িত্ব। তবে আরেকটি যেটি উল্লেখ্য বিষয় সেই সকল গ্রামে অন্য একটি সমাজের মোড়লের সাথে গ্রাম বা মহল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এবং আরও অন্যান্য কারণে এক সমাজের মোড়লের সাথে অন্য সমাজের মোড়লের প্রায় সবসময় দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত এবং কিভাবে কোন কৌশলে অথবা কোন গ্রাম্য প্যাঁচে অন্য সমাজের মোড়লকে দাবিয়ে রাখা যায় সেই কু-চিন্তাই  সবসময় বুনত সেই সকল মোড়লরা। তাঁরা সমাজের অধিপতি হিসেবে সমাজের তেমন কোন উন্নয়ন এবং সমাজের মানুষের ভালো কিছু করার জন্য তাঁদের মনে কোন চিন্তা ছিলনা বরং তাঁরা সবসময় সমাজকে ধ্বংস করে তাদের নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকেই প্রাধান্য দিত।

 যদিও আজকাল গ্রামের সেই মোড়লদের শাসন-শোষণ এবং সমাজের মানুষকে নিপীড়নের প্রথা নেই বললেই চলে। তবে সেই মোড়ল প্রথা আজ ব্যাপকভাবে প্রসারিত এবং বিস্তৃত হয়ে এখন শহুরে ভিত্তিক এবং বর্তমানে অনেকটা জাতীয়ভাবে অনেক প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় সাধারণ মানুষকে হত্যা-গুম-অপহরণ এবং দুঃশাসনের এক মহোৎসবে মেতে উঠেছে আমাদের অতীব সম্মানিত সুন্দর সাদা পাঞ্জাবী পড়া মুখশধারী নেতারা এবং অনেক ভালো মানুষের লেবাস-ধারী নেত্রীরা। যেন আজ তাঁরা তাঁদের বিবেক হারিয়ে ফেলে সাধারণ মানুষকে নিয়ে এক নিকৃষ্ট পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠেছেন।

তবে আজ রাজনীতির নোংরা খেলা নিয়ে লিখতে চাই না, কারণ বাংলার বর্তমান রাজনীতির নৃশংস খেলার কথা সবারই কম বেশি জানা। আজ একটু বাস্তবতার আলোকে কিছু আলোচনা করব দেশের সবচেয়ে বড় দু-দলের কর্ণধার বাংলাদেশের রূপকার বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তনয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী এবং দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের রণাঙ্গনের বীর সেনানায়ক প্রয়াত মেজর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে। আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি এ দুটি বৃহৎ দলের কর্ণধার-দ্বয় তাঁদের রাজনীতির পথচলা, কথা বলা, গতিধারা, গতিবিধি প্রতিটি বিষয় যেন একবারেই আলাদা ভাবে প্রবাহিত করছেন। বর্তমানে বিএনপি নেত্রী যখন তার দলের রাজনীতি নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় ভুগছেন এবং দলের চঞ্চলতা, কমিটি বিরোধ এবং সর্বোপরি আন্দোলন বেগবান করতে হতাশায় ভুগছেন তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের কাণ্ডারি শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গণভবনে বসে মুচকি মুচকি হাসছেন বলেই মনে করছেন অনেকে।

দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক-গন আওয়ামী সরকারের ৪ মাস পর তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করছেন শেখ হাসিনা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে যখন প্রধান-বিরোধী দল ছাড়াই নির্বাচন করলেন এবং নির্বাচনের পরে বহি:বিশ্বের কোন দেশ থেকে গ্রহণযোগ্যতা এবং কোন শুভেচ্ছা পাচ্ছিলেন না তখন আওয়ামীলীগের প্রিয় বন্ধু প্রতিবেশী দয়ালু দেশের বদৌলতে প্রায় শ’খানেক দেশ থেকে গ্রহণযোগ্যতা, শুভেচ্ছা এবং সহানুভূতি পেয়ে সুন্দরভাবে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে যথাযথভাবে সরকার পরিচালনা করছেন। এদিকে তখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের শেষ ভরসা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছিল কিন্তু মার্কিন সরকার এতো ছোট্ট একটি দেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের মাথা ঘামাতে এতোটা উৎসাহী নয় বলেই অনেকটা বোঝা গিয়েছিল তখন বেগম জিয়ার শেষ চেষ্টা ভেস্তে যাওয়াতে তিনি এখন চরমভাবে হতাশায় ভুগছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

অপরদিকে ভার দিয়ে চলছে অর্থাৎ বিএনপির মত বিশাল এই দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি এবং সাংগঠনিক কাজকর্মে প্রথম স্থান দলের মহা-সচিব পদটি চলছে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে। খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পরই দলটির মহাসচিবের জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে মনোনীত হন জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ফখরুল সাহেবের পদটি এখনো ভারমুক্ত করে প্রাপ্ত হিসেবে অর্থাৎ সম্পূর্ণ মহা-সচিব করা হয়নি যেটা সাংগঠনিক দুর্বলতারই একটা অংশ। এছাড়া বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আড়ালে আবডালে বিপক্ষ দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন বলেও মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের অনেকেরই জানা, যেটাও দলটির অন্যতম বৃহৎ একটি সাংগঠনিক সমস্যা। এদিকে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ দল চলছে কঠোর সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে, যেখানে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মত একজন প্রবীণ নেতা দিয়ে চলছে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাজকর্ম যদিও তিনি দলের সাংগঠনিক কাজে খুব বেশি সময় দেন না তবে যতটুকু সময় দেন ততটুকু খুব ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। এবং আরেকটি উল্লেখ্য বিষয় আওয়ামীলীগের কোন নেতার বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের কোন নেতার সঙ্গে দলের গোপন কোন আলোচনার অভিযোগ নেই বললেই চলে। যেটা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দক্ষতার অন্যতম একটি কৌশলই অপকটে বলা যায়।

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী সরকার নতুন নেতৃত্বের প্রাধান্য দিয়ে সংসদ সাজালেও এবার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারের মন্ত্রীসভাসহ প্রায় সকল শাখাতেই প্রাধান্য দিয়েছে প্রবীণ নেতাদের যেটা আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে আরও অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। কথায় আছে পুড়ান চাল ভাতে বাড়ে অনেকটা এ প্রবাদই বেছে নিয়েছে আওয়ামীলীগ। বর্তমানে আওয়ামীলীগ দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখাশোনা করছেন তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এবং মোহাম্মদ নাসিমের মত প্রবীণ নেতারা, যারা দলকে পূর্বের চেয়েও সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী এবং দলের সাংগঠনিক গতিবেগ বৃদ্ধি করেছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। অপরদিকে অপর বড় দল বিএনপির নেতৃত্বে তেমন কোন প্রবীণ নেতা নেই বললেই চলে যদিও মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার এবং রুহুল কবির রিজভীর মত প্রবীণ নেতা দলের দায়িত্বে রয়েছেন তবে এর মধ্যে মওদুদ আহমেদ বর্তমানে একবারেই নিষ্ক্রিয় বললেই চলে, তবে আনোয়ার সাহেব, রিজভী সাহেব দলকে গুছিয়ে আন্দোলন বেগবান এবং সরকার পক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করলেও ফলাফল এখনো ফলপ্রসূ হয়নি বলেই দেখা গেছে। এ বিষয়টিও বেগম জিয়ার রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দক্ষতা এবং মুচকি হাসির অন্যতম এক কারণ বলা যায়। এছাড়াও আরও কিছু রাজনৈতিক কৌশল লক্ষ করলে দেখা গেছে যেখানে বর্তমানে শেখ হাসিনা থেকে রাজনৈতিক দক্ষতায় অনেকটা পিছিয়েই রয়েছেন বেগম জিয়া।

 এখন দেখা যাক খালেদা জিয়ার রাজনীতির কৌশল এবং শেখ হাসিনার রাজনীতি এবং মুচকি হাসির কৌশল আর কতদিন চলতে থাকে বাংলার সাধারণ মানুষের সাথে। না-কি খালেদার কঠোর হাসি এবং হাসিনার মুচকি হাসি বুমেরাং হয়ে আবার এই সোনার বাংলা দাবানলের মত জ্বলতে শুরু করে, শুরু করে আবার হরতাল অবরোধসহ ভোগান্তির সর্বোচ্চ সীমা। তবে বিশ্লেষকগণ যে রকম মনে করছেন তাতে দেখা যায় আর কিছুদিন পরই রাজনীতির মাঠ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। আবারও জ্বলতে থাকবে দেশ, মারামারি-হানাহানিতে বিষাক্ত হয়ে উঠবে রাজপথ, শহর-বন্দর  থেকে শুরু করে গ্রাম-গ্রামান্তরে। এবং দেশে বর্তমানে যে গুম-হত্যা-অপহরণ এবং বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব এবং এর সাথে বিরোধী রাজনীতি একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভাবে আন্দোলন শুরু করলে তখন সরকার সেই আন্দোলন প্রতিরোধ করতে গেলে দেশে একপ্রকার গৃহযুদ্ধের মত অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। শুরু হতে পারে বাংলার স্বাধীন, শান্তি-চেতা মানুষের আবারও দু:খ দুর্দশা এবং মৃত্যুর মিছিলে পাল্লা দিয়ে লাশের সংখ্যা ভারি করা, হতে পারে হাজারো মায়ের কোল খালি, শুরু হতে পারে শুধু কান্না আর আহাজারি। তবে বাংলার শান্তিকামী মানুষ এই সকল রাজনীতি নোংরা খেলা এবং দেশের অনিশ্চিত যাত্রা থেকে মুক্তি চায়। Shaju-01চায় একটু শান্তিভাবে বাঁচতে, চায় দু-বেলা দু-মুঠো ভাত ডাল আহার করে নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করতে এবং সর্বোপরি চায় স্বাভাবিক ভাবে মরতে।

 লেখক: সাংবাদিক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful