Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ :: ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ২৭ অপরাহ্ন
Home / কুড়িগ্রাম / ব্রহ্মপুত্রের থাবায় ৩দিনে ৫০০ পরিবার গৃহহীন

ব্রহ্মপুত্রের থাবায় ৩দিনে ৫০০ পরিবার গৃহহীন

Rajibpur pictur 18,05,2014 (2)রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে হঠাৎ করেই ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদের থাবায় তিনদিনে দু’টি গ্রাম সম্পূর্ন রূপে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে আরো চারটি গ্রাম। এতে ৫শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে নদের থাবায়। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ঐতিহ্যবাহি নয়াচর হাটবাজার, ইউনিয়ন পরিষদসহ ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদের ভাঙ্গন থেকে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব এখন মাত্র ৫শ’ মিটার। প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের ওই তান্ডব চলছে রাজীবপুরের নয়াচর এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নয়াচর বাজারপাড়া গ্রামের ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলো তাদের ঘরবাড়ি টানছে আর আহাজারি করছে। ভাঙ্গনে বাড়ির ভিটা বিলীন হয়েছে। ঘরের খামখোটা টানছে ৭০ বছরের বৃদ্ধ বছের আলী। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সে ১৭বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। নদী জমিজিরাত সব হারাইয় এইহানে ঘর করছিলাম। সেটাও ভাইঙ্গা গেল। দুনিয়াত এহন কোনো জায়গা নেই। রাস্তায় থাকা ছাড়া কোনো উপায় নাই।’ বছের আলীর মতো একেক একটি পরিবার ১৫/১৬ বার করে ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন গোলাম হোসেন, মোকবুল হোসেন, আবু হানিফ, হামিদুল ইসলাম ও হযরত আলী।

ভাঙ্গনে ঘর হারানো আছমা বেগম বেলন, ‘মানুষডা বাইত্তে নাই। কুমিল্লায় কাম করবার গেছে ১৫দিন অইল। এদিকে ঘরে চাইলও নাই। তারওপর নদীর হানা। একটা ঘর ভাইঙ্গা নিয়া ওই যে, আস্তায় থুইছি। ৪ পোলাপান নিয়া বড় বিপদে পরছি।’ এসময় স্বামীহারা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমা এডা ঘরই ছিল। তাও ভাইঙ্গা ফালান নাগছে। নদী আমগর পথের ফকির বানাইয়া দিছে।’

ভাঙ্গনের শিকার মানুষ গুলো জানান, গত বৃহষ্পতিবার ভোর রাত থেকে হঠাৎ করেই ভাঙ্গন শুরু হয়। সারা দিনে নয়াচর উত্তরপাড়া ও নয়াচর মুন্সিপাড়া গ্রাম দুটি সম্পূর্নরূপে বিলীন হয়ে যায়। আংশিক ভাঙ্গনের শিকার দিয়ারা হাজিপাড়া, নয়াচর পশ্চিম গোয়ালপাড়া, নয়াচর বাজারপাড়া, নয়াচর শংকরকুর পাড়া। এতে গত ৩দিনে প্রায় ৫শ’ পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে বলে জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আনু। তিনি জানান, ভাঙ্গনে গৃহহীন মানুষ গুলো বিভিন্ন রাস্তায় ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার মানুষের মাঝে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারন গৃহহীন মানুষ গুলো সবাই দিনমজুর।

রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম জানান, যে হারে ভাঙ্গছে তা ঠেকানো না গেলে নয়াচর বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নয়াচর ইসলামিয়া মাদ্রাসা, নয়াচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাজারে এক হাজারের ওপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে। বিষয়টি ইউএনও ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারি ভাবে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, নয়াচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো প্রকল্প নেই। তবে রাজীবপুর উপজেলা ব্রহ্মপুত্র ভাঙ্গন প্রতিরোধের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আছে। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন হয়নি। এ ছাড়া জরুরী মুহুর্তে অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এই প্রকল্পের আওতায় বাঁশের পাইলিং করা যেতে পারে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful