Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ :: ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ৩৩ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / সংগ্রামী জীবনের সফল যোদ্ধারা

সংগ্রামী জীবনের সফল যোদ্ধারা

উত্তরবাংলা ডটকম নিউজ ডেস্ক:

নিজেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে শত বাধাকে জয় করে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে কিছু অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী। উত্তরবাংলা ডটকমের সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও ছবি নিয়ে একটি ডেস্ক রিপোর্ট-                 [পর্যাক্রমে আরো আপডেট দেয়া হবে]

রায়হানুলের সংগ্রাম প্রতিমুহুর্তে:Rajibpur pictur 19.05.2014

রায়হানুল আর দশটা শিক্ষার্থীদের মতো শুধু লেখাপড়ার জন্যই সংগ্রাম করতে হয়নি। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে লড়াই করতে হয়েছে অভাব আর নদী ভাঙ্গনের সঙ্গে। রাতে ঘুমানোর ও লেখাপড়ার ঘর না থাকার কারনে তাকে ভাবতে হয়েছে। লেখাপড়া নিয়ে তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। আর সে যুদ্ধকে জয় করে সে তার বাবামা’র মুখে হাসি ফুটিয়েছে। চরের মানুষের মাঝে অভাবি অসহায় বাবামা’র মুখ উজ্জল করে তুলেছে। তার ভালো ফলাফলে চরের মানুষ ও স্কুলের শিক্ষকরা খুশি হলেও খুশি হতে পারেনি তার অভাবি বাবা মা। এর কারন হিসেবে জানা গেছে, ছেলে ভালো রেজাল্ট করায় তাদের চিন্তা আর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। যে পরিবারের দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য দৌড়াতে হয় সেই পরিবারের ছেলেকে কি করে উচ্চ শিক্ষায় গড়ে তুলবে।

রায়হানুল ইসলাম এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় চরনেওয়াজী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর আগে সে ৫ম শ্রেণী ও ৮ম শ্রেণীতেও জিপিএ-৫ পেয়ে বৃত্তি লাভ করেছিল। কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার অধিনে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন চড়াইহাটি চরে তাদের বাড়ি। বাবা সাহার আলী একজন রিক্সা চালক। ঢাকায় রিক্সা চালান তিনি। মা রাহেলা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে। জমাজমি বলতে তাদের কিছুই নেই। বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে তারা ভূমিহীনে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে তারা অন্যের বাড়িতে একটা ঘর তুলে জীবন যাপন করছেন। রায়হানুলরা ৩ ভাই। বড় ভাই খোকন মিয়া আলিম পরীক্ষা দিবে আর ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে।

ছেলের রেজাল্টের খবর শোনার পর ঢাকা থেকে বাড়ি ছুটে এসেছেন বাবা সাহার আলী। গতকাল রবিবার তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় সাহার আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পোলায় ভালো রেজাল্ট করছে। এতে খুশি নাগবই। কিন্তুক ভালো ফল কইরা তো আমাকে বিপদে ফালাইছে। চরের মানুষ কয়-তোর ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে। তাকে পড়াবি কি ভাবে। কলেজে পড়াইতে মেলা টাকা নাগে। এই চিন্তায় ভালো নাগছে না।’ রাহেলা বেগম বলেন, ‘পোলা আমার অনেক কষ্ট কইরা পড়ছে। নদী ভাঙ্গনের সময় থাকার জায়গা ছিল না। মাইনসের বাইত্তে থাইকা পড়ছে। ভালামন্দ খাবার দিবার পারি নাই। মাইনসের পোলামাইয়া মাছ মাংশ দুধ খায়। আমার পোলা চোখেও দেখে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কলেজে পড়াইতে এক গাদি ট্যাহা নাগবো। অত ট্যাহা পাবো কই।’

রায়হানুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকার অভাবে তার প্রাইভেট পড়া হয়নি। ঘরের অভাবে মাইনসের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে। কেরোসিনে অভাবে অনেক রাতে তার পড়া হয়নি। উপোস থেকে স্কুলে যাওয়া তার নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। পরীক্ষা শেষ করেই ঢাকা ও টাঙ্গাইলে কামলা দিবার গিয়েছিল রায়হানুল। রায়হানুল বলেন, ‘বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা আছে। জানি না আমার স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা। কেননা কলেজে পড়তে অনেক টাকা লাগবে। সে টাকা তো বাবামা দিতে পারবে না। এই চিন্তা করছি। যদি ভালো কলেজে ভর্তি না হতে পারি এলাকার কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করবো। জানি এ জন্য আমাকে অনেক চড়াই উৎড়াই পার হতে হবে। অনেক কষ্ট করতে হবে আমাকে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম জানান, রায়হানুল ইসলাম খুবই ভালো ছাত্র। তার মেধা খুবই ভালো। লেখাপড়ায় স্মরন শক্তি অন্যান্য ছাত্রের চেয়ে রায়হানুলের অনেক বেশি। কিন্তু তার বাবা মা অভাবি। আর একারনে স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হতো। রায়হানুলকে যদি একটু সার্পোট ও উৎসাহ দেওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে ভালো করবে সে।

romjan aliঅদম্য মেধাবী শ্রমিক রমজান আলী :

দিন মজুরি খেটে জিপিএ-৫ পেয়েছে পঞ্চগড় বিষ্ণুপ্রসাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মোঃ রমজান আলী। অভাব ও দৈন্যতা তাকে আটকাতে পারেনি। সে সম্প্রতি প্রকাশিত এস. এস. সি. পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুর বোর্ডের অধিনে পঞ্চগড় বি.পি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রমজান আলী পঞ্চগড় উপজেলা সদরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের পূর্ব সিকারপুর গ্রামের মোঃ আকবর আলীর পুত্র। রমজান আলী জানায়, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা আকবর আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে যান। এতে তার মা সমিলা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন। অভাবের তারনায় পরিবারের আয়ের জন্য হাল ধরতে হয় বড় ভাই সরিফুল ইসলাম ও রমজান আলীকে। অভাবের কারণে টিউশনি ও মজুরিও খাটতে হয়েছে তাকে। কাজ করার ফলে নিয়মিত বিদ্যালয়ে ক্লাশ করতে পারেনি। দু’ বেলা দু’ মুঠো ভাত আর পড়াশুনার খরচ জোগাতে সারাদিন কাজ করতো। রাতের বেলায় টিউশনি করে যেটুকু সময় পেতো সেটুকু সময় সে  মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতো।

বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিমল কুমার রায় জানান, ‘রমজান অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। পারিবারিক সমস্যার কারণে নিয়মিত ক্লাশ করতে পারতো না। সে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে মাদ্রাসা শাখায় জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে বৃত্তি পেয়েছিল। জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার এস এস সি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ভাল ফলাফল অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।’

রমজান জানায়, তার ভাল ফলাফলের পেছনে অনেকেরই অবদান রয়েছে। বিশেষ করে তার প্রাক্তন মাদ্রাসা শিক্ষক হাবিবুর রহমান লেখাপড়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। একের পর এক ভাল ফলাফল করায় তার মামা ব্যবসায়ী ফয়জুল হক তার উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। রমজান আলীর স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করার।

দিনমজুর লিটন চন্দ্র রায় :Nilphamari Pic (2) 18.05.2014

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে নীলফামারী সদরের সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে  লিটন চন্দ্র রায়। তার রোল নম্বর ১৫৮৩৯২।

‘শ্রম বিক্রীর আয়ে গ্রামের স্কুল থেকে লেখাপড়া করেছি। এখন কলেজে পড়ার সামর্থ জুটবে কিভাবে?’ এই কথা জানিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে লিটন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে আনন্দের মাঝেও দুঃখ বিরাজ করছিল তার মনে।

জেলা সদরের সোনারায় ইউনিয়নের উল্টপাড়া গ্রামের লিটন চন্দ্র রায় জানায়, দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে। বাবা সুবাশ চন্দ্র রায় অসুস্থ্য হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেছে। মা তরু বালা রায় বাজারে মুড়ি বিক্রি করেন। অভাব অনটনের সংসারে তাই লিটন কে লেখাপড়ার ফাঁকে দিনমজুরীর কাজ করতে হয়েছে। জমিতে ধান রোপন, নিড়ানীও ধান কাটা তার দিনমজুরীর কাজ। লিটন ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়। সুস্থ্য করে তুলতে চায় তার অসুস্থ্য বাবাকে।

এদিকে ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে চায় মা তরু বালা রায়। ছেলের সাফল্যে আনন্দের মাঝেও বেদনা তাঁর মনে। এসময় তিনি বলেন,‘কোন দিনও একমুঠো ভালো খাবার দিতে পারিনি আমার ছেলেকে।’ এখন কলেজে কি ভাবে ছেলে কে পড়াবেন এই চিন্তা এই অসহায় মাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

লিটন আরো জানায় সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সাধারন গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছিল। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক তাকে লিখাপড়ায় উৎসাহ জুগিয়ে সহযোগিতা করেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজগার আলী বলেন, ‘লিটন দিনমজুরী করে লিখাপড়া করে জিপিএ ৫ পেয়েছে। যা আমরা গর্ববোধ করছি।’ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবুল হোসেন শাহ বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী রিক্তা বেগম লিটন কে সহযোগীতা করেছিলাম। সে ভাল ফলাফল করায় আমরা অত্যান্ত খুশী হয়ে তাকে দোয়া দিয়েছি।’

Nilphamari Pic (1) 18.05.2014   দিনমজুর সঞ্জিত রায়:

এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষনার সময় শনিবার স্কুলে যেতে পারেনি সঞ্জিত রায়। সকাল থেকে ক্ষেতে দিনমজুরী হিসাবে বোরো ধান কাটতে হয়েছে। এমন কি রবিবার সেই ধান মহাজনের বাড়িতে এসে তা মাড়াইও করে দিতে হয়েছে। নীলফামারীর জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সঞ্জিত রায় এবার দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তার রোল নম্বর  ১৫৮২৬৫।  পরীক্ষায়  ভালো ফল করার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে  হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বাবা হারোনো সঞ্জিত রায়।
সঞ্জিত রায় জানায়, ২০০৯ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ে বাবা হিরেন্দ্র নাথ মারা যায়। সে থেকে তাদের সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। বাবার অবর্তমানে পরিবারের দায়ভার চাপে বড় ভাই রঞ্জিত ও তার ওপর। ব্র্যাক স্কুলে পড়ে পঞ্চম শ্রেনীতে সাধারণ গ্রেডে এবং নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে।

সঞ্জিতের মা যশোদা রায় জানায়, অভাব অনটনের সংসার। ‘ছেলে পাশ করেছে শুনেছি। আমরা গরীব মানুষ, আমাদের আর আনন্দ উল্লাস করে কি হবে।’

সঞ্জিত চায় ডাক্তার হতে। এজন্য পড়তে চায় দেশের কোন ভালো কলেজে। কিন্তু অর্থাভাব তার সে সাধ পূরণে প্রধান অন্তরায়। এরপরও দৃঢ়তা প্রকাশ করে সঞ্জিত  বলে,‘যে কোন মূল্যে  কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে চাই আমি।’

নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মদন মোহন রায় ও ইমরান আলী বলেন, ‘সঞ্জিতের মেধার কাছে হার মেনেছে দারিদ্রতা। শত কষ্টের মধ্যে থেকেও অর্জন করেছে কাঙ্খিত লক্ষ্য।’ তাঁরা জানান, মেধাবী ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক বই, খাতারদিয়ে সহযোগীতা করেছে। অনেকে বিনা বেতনে প্রাইভেট পড়িয়েছে তাকে। সকলের সহযোগীতা পেলে সে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

ab hannanহোটেলবয় আব্দুল হান্নান :

বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। মা পাগল। সংসার চালানো বা নিজের লিখাপড়ার খরচ জোগাতে কখনও হোটেল বয় কখনো বা খেতখামারে দিনমজুরির কাজ করেই একমাত্র উপার্জনের পথ ছিল অদম্য মেধাবী আব্দুল হান্নানের। সে এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধিনে নীলফামারীর সদরের সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস এসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছেন।তার রোল নম্বর ১৫৮৩৯৩।

ফল প্রকাশের পর শনিবার দুপুরে হান্নান কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলে উঠে বাবা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন, মা ভাল থাকলে বুকে টেনে নিয়ে আদর করতেন, পাড়া প্রতিবেশিদের ডেকে মিষ্টি মুখ করাতেন। কিন্তু মা পাগল হয়ে দিনাজপুরে নানা বাড়িতে আছেন। হান্নানের ইচ্ছা সে ডাক্তার হয়ে তার মা সহ অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। এ জন্য সে দেশবাসীর সহযোগীতা কামনা করেছে।

হান্নান পঞ্চম শ্রেনীতে সাধারণ গ্রেডে ,এবং ৮ম শ্রেনীতে (জেএসসি) ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল।
নীলফামারী জেলা সদরের সংগলসি ইউনিয়নের ছোট সংগলসি গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুল হান্নান। ৭ শতাংশ ভিটে টুকুই তাদের সম্বল। দুই ভাই থাকেন ওই বাড়িতে তাদের এক চাচাতো বোন ও ভগ্নিপতির সাথে। ওই বোনই তাদের মায়ের স্নেহে আগলে রাখেন। বড় ভাই আবু রায়হান সেও একই বিদ্যালয় থেকে এবার এস এসসি পরীক্ষা দেয়। দিনমজুরী করে চলে তাদের সংসার।

চাচাতো বোন শাবানা বেগম (৩৫) বলেন, আব্দুল হান্নান তখন খুব ছোট,সে সময় তার মায়ের মাথা খারাপ হয়। তখন হান্নানের নানা তাকে দিনাজপুর নিয়ে যায়। ২ ছেলেকে সামলানোর জন্য চাচা আমাকে এ বাড়িতে নিয়ে আসে। আমিও তখন অনেক ছোট। চাচাই আমাকে বিয়ে দিয়ে এই বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দেন। ২০০৭ সালে চাচা মারা যাওয়ার পর ওই দুই ভাইকে নিয়ে আমরা এক সাথে আছি। তারা সবাই দিনমজুরী করে সংসার চালায়।
আব্দুল হান্নান বলেন, আমার বাবা একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো। মা পাগল হওয়ায় মায়ের আদর ভালবাসা আমরা পাইনি। চাচাতো বোন শাবানাই এখন আমাদের দুই ভাইয়ের মা। বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। আমারো স্বপ্ন আমি একজন চিকিৎসক হয়ে আমার মাকে প্রথমে সুস্থ্য করে তুলবো। এখন টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারিনা।

কিভাবে চলে তাদের সংসার ও লেখাপড়া? আব্দুল হান্নান বলেন, যখন স্কুল খোলা থাকে তখন স্কুল শেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হোটেল বয়ের কাজ করি। আর যখন বন্ধ থাকে তখন কৃষি শ্রমিক হিসাবে দিন মজুরী করি। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে বই খাতা কলম জামা কাপড় কেনার পাশাপাশি সংসারের খরচ যোগাই। দুই ভাই ও ভগ্নিপতির দিনমজুরীর টাকায় চলে আমাদের সংসার।

হান্নান বলেন,তার ভাল ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি। তারা আমাকে বিনে পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়েছেন, বিদ্যালয়ের বেতন মওকুব করে দিয়েছিলেন।

হান্নান আরো বলেন, এখন আমি ভাল কলেজে ভর্তি হতে চাই। ভাল ফলাফল করে চিকিৎসক হতে চাই।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক উত্তম কুমার রায় বলেন,ছেলেটি অত্যান্ত গরিব ও মেধাবী। আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এতদিন তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতা দেয়ার চেষ্টা করেছি।সে নিজে দিনমজুরী করেও এতো ভাল ফলাফল করেছে। এখন সে একটু সহযোগীতা পেলে তার লক্ষ্যে পৌছতে পারবে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful