Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ২৩ পুর্বাহ্ন
Home / আলোচিত / বিশেষ প্রতিবেদন।। দুর্গেই দুর্গতি; এবার হারলেন এরশাদ

বিশেষ প্রতিবেদন।। দুর্গেই দুর্গতি; এবার হারলেন এরশাদ

মুরাদ মাহমুদ, সিইও, উত্তরবাংলা ডটকম

JPদুর্গখ্যাত রংপুরের ৪ উপজেলা নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে চূড়ান্ত অশনি সংকেত পেলো জাতীয় পার্টি। দুর্গের এই দুর্গতি দেখে হতাশায় ভেঙ্গে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।

৫ ম দফা উপজেলা নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় পার্টিতে ছিলো অনেকটা গা ছাড়া ভাব। জাতীয় নির্বাচনের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো দলটি। প্রথম পাঁচ দফা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির তিন জন নেতা জিতেছেন গাইবান্ধার সাঘাটা, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়।

প্রথম ধাপে রংপুরের তিনটি উপজেলায় নির্বাচন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে হয়েছে আরেকটি। এই চারটি উপজেলাতেই নির্বাচনের ফল গেছে অন্য দলগুলোর পকেটে। রংপুরের মিঠাপুকুর চেয়ারম্যান পদ দখল করেছে জামায়াত। সেখানে জাতীয় পার্টির একজন নেতা থাকলেও দলের সমর্থন পাননি তিনি। পীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি চলে যায় বিএনপির দখলে। এখানেও নিষ্ক্রিয় ছিল জাতীয় পার্টি, বরং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে দলের নেতা-কর্মীরা। বদরগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান দখলে নেয় আওয়ামী লীগ এবং তারাগঞ্জ দখলে যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর।

সারা দেশের পরিণতি যাই হোক না কেন উত্তরাঞ্চল কেন্দ্রিক রাজনীতি বাঁচিয়ে রাখতে রংপুরের ৪ উপজেলায় জয় এর কোন বিকল্প ছিলনা। তাই ১৯ মে’র ভোটকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটি। এবার এই জেলায় ভোট হচ্ছে চারটি উপজেলায়। সদর, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া এবং পীরগাছায় দলের কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছেন স্বয়ং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

৩ মে রংপুরে হঠাৎ করেই এরশাদের চার দিনের সফর এই উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরেই। রংপুরে এসেই পল্লী-নিবাসের বাসায় দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর  নেন। চার উপজেলায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশও দেন। দলের প্রধানের এই নড়াচড়ার পর জাতীয় পার্টির নিষ্ক্রিয় কর্মীরাও ভোটের মাঠে নামে গা-ঝাড়া দিয়ে।

কিন্তু কোন কিছুই কাজে আসেনি। ৪ উপজেলার একটিতেও জয় পায়নি জাতীয় পার্টি। আ.লীগের কাছে তো বটেই বরং শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বরাবর ভোটের হিসাবে ৩ নম্বর অবস্থানে থাকা বিএনপির কাছেও।

জাপার এই করুন পরিণতির কারণ হিসাবে দলের সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে স্বয়ং দলের প্রেসিডেন্ট এরশাদকে। গত ৪ মে রংপুরের পালিচড়ায় সদর উপজেলার প্রার্থী বিষয়ে নতুন ফর্মুলা দেন এরশাদ। তিনি বলেন, “আমি এখানে তিনজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে সমর্থন দিয়েছি। দোয়া দিয়েছি। আপনারা এর মধ্যে যাকে পছন্দ করেন তাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।”

এরশাদ কারো নাম না বলে এই ফর্মুলা দেয়ায় উপস্থিত জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থীরাও পড়ে যায় হ-য-ব-র-ল অবস্থায়।

যতই দিন গড়িয়ে যাচ্ছে ততই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে রংপুরবাসীর ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন এরশাদ ভক্তরা। সময়ের সাথে সাথে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব, হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও এরশাদ ভক্তদের মধ্যে। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে। যদিও বিষয়টি মানতে নারাজ স্বয়ং এরশাদ। তিনি একাধিক জনসভা, পথ-সভায় বলেছেন রংপুরে তার বা জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যায়নি। কিন্তু তার সে দাবী মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে ১৯ মে’র উপজেলা নির্বাচনে।

বৃহত্তর রংপুরে মানুষ এরশাদ যাকে প্রার্থী বানিয়েছেন তাকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু যতই দিন গড়াচ্ছে ততই এরশাদের জাতীয় পার্টির আসন কমতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এরশাদের সঠিক সিদ্ধান্ত আর চৌকশ নেতাদের সামনে না আনার কারণেই এমনটা হচ্ছে।

গেল রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এরশাদের বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে ভালো চোখে দেখেনি এরশাদ ভক্তরাও। এরশাদ পারেননি দলের ভাঙন ঠেকাতে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল থেকে বের হয়ে এরশাদকে চেয়ারম্যান করে নতুন জাতীয় পার্টি গঠন করে প্রভাবশালী একটি পক্ষ। অবস্থা এমন যে, এরশাদ কয়েকবার বলেছিলেন সিটি নির্বাচনে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না। এরপর এরশাদ তার শেষ অস্ত্র প্রয়োগ করে রংপুরের বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিস্কার করেন। এত সব নাটকের কারণেই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি চলে যায় জাপার বাইরে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এরশাদ শক্ত প্রার্থী দিলে হয়তো সেটা হতো না।

সর্বশেষ নাটকের অবসান ঘটিয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের কমিটিতে পুনঃস্থান করা হয়। মোড় নেয় নতুন দ্বন্দ্বে। ওই জের এখনও অব্যাহত আছে। এরশাদকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে মিডিয়াতে এমন খবর হওয়ায় রংপুরে তার মুক্তির দাবিতে জাতীয় পার্টির দু’গ্রুপ একই শহরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে। বিক্ষোভ আর হরতালের মতো কর্মসূচি নিয়ে তুমুল সংঘর্ষ এমনকি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।

শুধু রংপুর সদরেও নয় বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এরশাদের জাতীয় পার্টিতে রংপুরের অন্যান্য উপজেলাতেও চলছে দারুণ গ্রুপিং। এ কারণে দলীয় এমপিরাও বিভিন্ন সময়ে জুতা বৃষ্টি উপহার পেয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীর কাছ থেকে। সেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় জাপার নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

এক সময়ের এরশাদ ভক্ত রংপুর স্টেশন এলাকার এক ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে বলেন, এরশাদ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য কাউকে আমরা রংপুরবাসী ভাবতেই পারতাম না। কিন্তু তিনি রংপুরের জন্য কতটুকো করেছেন সেটা এখন রংপুরবাসী বুঝতে শিখেছে। রংপুরের মানুষের দুর্বলতা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেলেছেন। সেই দিন এখন শেষ। মানুষ এখন জবাব দিতে শিখেছে তাই জবাব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গা সাহেব আজ মন্ত্রী হয়েছেন, এটা আমাদের রংপুরবাসীর জন্য সুখবর। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি এই মন্ত্রিত্ব বণ্টনে যদি এরশাদ সাহেবের হাত থাকতো তাহলে রংপুরবাসী এবারও কোন মন্ত্রিত্ব পেতো না।

 রংপুরের মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসাকে পুঁজি করে এরশাদ বরাবর রাজনীতির ব্যবসা করছেন  বলেও মন্তব্য করেছেন কেও কেও।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful