Templates by BIGtheme NET
আজ- শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ :: ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৩৮ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / ‘বাংলাদেশী’ তাড়াতে মোদির তৎপরতা: ফিরে আসছে ‘পুশ ইন-পুশ ব্যাক’

‘বাংলাদেশী’ তাড়াতে মোদির তৎপরতা: ফিরে আসছে ‘পুশ ইন-পুশ ব্যাক’

citmahal. 1লোকসভা নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়া থেকে অবৈধভাবে বসবাস করা বাংলাদেশীদের বের করে দেওয়ার ঘোষণা দেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখন শপথ না নিলেও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই নতুন দপ্তর খোলার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে মোদির নতুন দপ্তর খোলার ঘোষণাকে দেখা হচ্ছে ইন্ডিয়া থেকে মুসলমানদের বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে।

মোদির নতুন এই দপ্তর খোলার ঘোষণা বিজেপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির শাসনের সময়কার দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সময়ে সীমান্তে প্রতিদিনেই পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি গার্ড (বিএসএফ)। এ সময় অব্যাহতভাবে চলেছে দেশটিতে বাস করা মুসলমানদের বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা। মূলত ইন্ডিয়াকে ‘হিন্দুদের দেশে’ পরিণত করতে দেশটি থেকে মুসলমানদের বের করে দেওয়ার লক্ষ্যেই চলতে থাকে এই প্রচেষ্টা। নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আরোহণ ও নতুন দপ্তর খোলার নির্দেশ প্রমাণ করে এবারও পুশ ইনের নামে ইন্ডিয়ান মুসলমানদের বাংলাদেশে জোর পূর্বক প্রবেশ করানর চেষ্টা মোকাবেলা করতে হবে।

২০০২ ও ২০০৩ সালে ‘পুশ ইন-পুশ ব্যাক’ মহামারী আকার ধারণ করে। এই সময় প্রতিদিনই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বাংলা ভাষী মুসলমানদের জড়ো করতে থাকে বিএসএফ। ২০০২ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে রাতের আঁধারে পরগণা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, কুচবিহার থেকে কয়েকশত মুসলমানদের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এনে জড়ো করে বিএসএফ। পরে তাদেরকে কুষ্টিয়া, বেনাপোল, দিনাজপুর ও রংপুরের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

বিডিআর ও বাংলাদেশের সাধারণ গ্রাম বাসীদের চেষ্টায় সেই পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। পুশ ইনে বাধা পেয়ে গুলি বর্ষণও করে বিএসএফ। সেই সময় কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে পুশ ইনের সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সাথে নদীয়া, কুচবিহার, মুর্শিদাবাদ ও চব্বিশ পরগনার পুশ ইনের ভয়ে মুসলমানদের ভীতিকর জীবনের সংবাদও প্রকাশ পেতে থাকে। একইভাবে আসাম থেকে মুসলমানদের জোর করে ধরে এনে বাংলাদেশে প্রবেশ করানর চেষ্টা করে বিএসএফ। আসামের বাংলা ভাষাভাষীর মুসলমানদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নাম দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও মুসলমানরা দীর্ঘকাল ধরে আসামে বাস করে আসছে। একইসাথে তারা ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রজনের যাবতীয় অধিকারই ভোগ করে।

নরেন্দ্র মোদির মত ২০০২ সালে বাংলাদেশীদের ইন্ডিয়া থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটিতে ২ কোটির বেশি বাংলাদেশী অবৈধভাবে বাস করে। যদিও দেশটির স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আদভানির অভিযোগকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।

তাদের মতে, দেশটিতে বাস করা মুসলমানদের অবৈধ বাংলাদেশী আখ্যা দিয়ে বের করে দেওয়ার জন্যই আদভানি এমন অভিযোগ করেন।
তবে ২০০২ সালে আদভানির হুমকি ও ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির হুমকি দেশটির আইনেরও লঙ্ঘন। কারণ ১৯৯১ সালে ইন্ডিয়ার আদালত সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোন ব্যক্তিকে দেশটি থেকে বের করে দেওয়ার উপর নিধেষাজ্ঞা আরোপ করে।
তবে আদভানির হুংকারের পরেই শুরু হয় পুশইন ও পুশব্যাক মহাযজ্ঞ। কেবলমাত্র ২০০৩ সালে বিডিআর(বর্তমানে বিজিবি) ৫ হাজার ১২২ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।

পুশ ইন ও পুশ ব্যাককে কেন্দ্র করে সে সময় সীমান্ত এলকাগুলোতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সীমান্ত এলাকায় বিডিআরের পাহারা জোর করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পুশ ইন ঠেকাতে পাহারা দেয়। বিএসএফ ও বিডিআরের পুশ ইন ও পুশ ব্যাকের মরিয়া ভাবের কারণে চরম দূর্দশায় পরতে হয় ইন্ডিয়ায় বাস করা মুসলমানদের। অধিকাংশই সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দিন কাটাতে বাধ্য হয়। পুশইন ও পুশব্যাকের বিষয় নিয়ে তখন কলকাতার মূখ্য মন্ত্রী বুদ্ধদেব বসু ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানকেও বিবৃতি দিয়ে দেখা যায়।

এদিকে, নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে সামনের দিনে পুশ ইন-পুশ ব্যাকের ঘটনার ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এরইমধ্যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে পুশ ইন-পুশ ব্যাক খেলায় ব্যস্ত হতে হবে সতর্ক দিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

ইন্ডিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পুশ ইন ও পুশ ব্যাকের বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষত নতুন দপ্তর খোলার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে থাকা অবৈধ ইন্ডিয়ানদের বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেই ইন্ডিয়ান বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির মতামত।

ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদির পদক্ষেপের জবাবে বাংলাদেশ, দেশটিতে বাস করা ১২ লাখের বেশি অবৈধ ইন্ডিয়ানকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। বাংলাদেশে বাস করা ইন্ডিয়ানদের অধিকাংশই পর্যটক ভিসায় বাংলাদেশে আসলেও অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। অবৈধ ইন্ডিয়ানদের একটি অংশ বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযোগ। নতুনদিন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful