Templates by BIGtheme NET
আজ- সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ৫৮ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / ছয় অদম্য মেধাবীদের গল্প: স্বপ্ন পূরণে শংকা ওদের!

ছয় অদম্য মেধাবীদের গল্প: স্বপ্ন পূরণে শংকা ওদের!

রবিউল হাসান , হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) থেকে: ওদের কারও মা দিনমজুর কারও বাবা জেলে। কেউবা বাস শ্রমিক বাবা আর ভ্যান চালক ভাইয়ের টাকায় পড়াশোনা চালিয়ে আসছে। অভাব-অনাটনের সংসারে ছিল না বই কেনার টাকা। পরীক্ষার ফরম পুরণের সময় সাহায্য নিতে হয়েছে অন্যের। পড়াশোনার খরচ ভালমত না জুটলেও এসব অদম্য মেধাবীদের সাফল্যে শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই বাধা হতে পারেনি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করেছে তারা। এদের কেউ স্বপ্ন দেখে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে। কেউ চায় শিক্ষক হয়ে সমাজে আলো ছড়াবে আবার কেউ সরকারি চাকুরী করতে চায় ভবিষ্যতে। কিন্তু সেই স্বপ্নে একমাত্র বাধাঁ হয়েছে আগামী দিনের পড়াশোনার খরচ। তাই বর্তমানে সাফল্যে এলেও ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে শংকা কাটছে না লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার এই অদম্য মেধাবীদের।

Monuzzamanমনিরুজ্জামান: বাবা লুৎফর রহমান শ্রবন প্রতিবন্ধী। এছাড়াও তিন বছর ধরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। তাই মা মনিজা বেগম দিনমজুরী করে সংসার চালায়। মায়ের দিনমজুরী টাকায় পাড়াশোনা করে এবছর হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে মনিরুজ্জামান। বাড়ি উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের মধ্য গড্ডিমারী এলাকায়। চার ভাই আর মা-বাবাসহ মোট ৬ জনের সংসার তাদের। সম্প্রতি জীবিকার টানে মনিরুজ্জামানের বড় ভাই মহাসিন আলী পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় গেছে শ্রম বিক্রী করতে। আর ছোট ভাইদের মধ্যে রবিউল স্থানীয় এক মাদ্রসায় আর মহির আলম প্রাইমারীর ৫ম শ্রেণীতে পাড়ে।
মনিরুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানা যায়, বই কেনার টাকা ছিল না তার। তাই অন্যের বই এনে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হয়েছে। তবে শত অভাব-অনাটনের মাঝেও এমন সাফল্য দারুন খুশি সে। এখন স্বপ্ন ভালভাবে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার । কিন্তু দারিদ্রতার মাঝে কলেজে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ আসবে কোথা থেকে এমন দুশ্চিন্তাই তাড়া করছে মনিরজ্জামানকে!

Sokina Khatunছখিনা খাতুন: ছোটবেলা থেকেই অভাবের কারণে নিদারুন কষ্ঠে পড়াশোনা করতে হচ্ছে ছখিনা খাতুনকে। তবুও দারিদ্রতা দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী এই মেয়েটিকে। এবছর এসএসসি পরীক্ষায় হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালায় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। বাবা সোহরাফ আলী একজন জেলে। জমিজমা বলতে নিজের মাথা গোঁজার মতো দুটি ঘর। বাবা-মা আর তিন ভাই বোন মিলে ৫ জনের সংসারে জীবিকা চলে তিস্তায় মাছ ধরে। কিন্তু এবছর সুস্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকায় ঠিকমতো মাছ না পাওয়ায় কষ্টের শেষ ছিল না সংসারে। তাই খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করেছে সখিনা।

ছকিনা জানায়, প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে স্কুলে যাতায়াত করেছে সে। এতে তার কষ্ট মনে হয়নি। কিন্তু সময়মত বই খাতা কিনতে না পারায় কষ্টের শেষ ছিল তার। তাই টিউশনী করে বই খাতা কিনে পড়াশোনা চালিয়ে জেএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় সে। এবছর এসএসসির ফরম পূরণের টাকাও টিউশনী করে এসেছে । এসেছে সাফল্যও। এখন স্বপ্ন ভবিষ্যতে শিক্ষকতা করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নেয়ার মতো ব্যবস্থা করবে কে? এমন শংকা ছকিনার!

Jahagir alomজাহাঙ্গীর আলম: বৃদ্ধ বাবা-মা সংসারে কোন কাজ করতে পারেন না। জমিজমাও নেই । আছে শুধু বাড়ি ঘরটুকু। জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহুরুল হক ভ্যান চালিয়ে যে ক‘টাকা উপার্যন করে তাই দিয়ে চলে বাবা-মা আর ৫ ভাইবোনের সংসার। ভ্যান চালক ভাইয়ের টাকায় কোন রকমে পড়াশোনা চালিয়ে হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়েন থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। ।
জাহাঙ্গীর জানায়, তার বড় ভাই না থাকলে এতদিনে হয়তো তাকে পড়াশোনা ছেড়ে ভ্যান চালকের পেশা বেছে নিতে হতো! এখন কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে সরকারি চাকুরী করতে চায় সে। কিন্তু বড় ভাইয়ের ভ্যান চালানোর টাকায় কি সেই স্বপ্ন পূরণ হবে, না কি অধঁরাই থেকে যাবে! এমন শংকা জাহাঙ্গীরের।

Arfina akter-1আরফিনা ও সাহিদুল : দুই ভাইবোন ওরা। বোন আরফিনা এবছর হাতীবান্ধা শাহ গরীবুল্লাহ্ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ আর ভাই সাহিদুল হাতীবান্ধা এসএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা আজিজার রহমান একজন বাস শ্রমিক। বাড়ি উপজেলার সিন্দুর্ণা গ্রামে । সারদিন বাসে ডিউটি করে যে টাকা আসে ওই টাকায় সংসার চলার পাশাপাশি ৫ ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ চলে। জমিজমা বলতে মাত্র ৩ শতক জমিতে বাড়ি ঘর তাদের। বড়বোন আরজিনা আক্তার ¯œাতকে (বিএ) পড়ে আর সবার ছোটবোন ষষ্ট শ্রেনীতে। অষ্টশ শ্রেনীতে পড়ে অপর ছোটভাই সাইফুল।

Shahidul islam-সাহিদুল জানায়, বাবার উপার্যনের টাকায় তাদের ৫ ভাইবোনের পড়াশোনা খরচ চালানো খুবেই কষ্টকর। তবুও নানা সমস্যার মাঝে থেকেই তার ছোটবোন আরফিনাসহ এবছর এসএসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে তারা। পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন সাহিদুলের। আর আরফিনার স্বপ্ন শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু শুধুমাত্র বাস শ্রমিক বাবার উপার্যনে পড়াশোনার এতবেশী ব্যায়ভার বহন করা সত্যি সম্ভব নয় বলে জানায় সাহিদুল। তাই ভবিষ্যতের তাদের স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সংকটই একমাত্র বাঁধা বলে জানায় অদম্য মেধাবী সাহিদুল ও আরফিনা।

রায়হান হাবাবী সাগর: এবছর হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করে রায়হান হবাবী সাগর। তার পিতা হাবিবুর রহমান একজন পল্লী চিকিhabibৎসক। দিনে গ্রামের মানুষ কে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যে টাকা উপার্যন করেন তাদিয়ে খুবই কষ্টে সংসার চলে। বাড়ি ভিটে ৫ শতক জমি ছাড়া তার কিছুই নেই। পরিবারে ৫ জন সদস্য। তবে শত অভাব-অনাটনের মাঝেও এমন সাফল্য দারুন খুশি রায়হান। রায়হান হবাবী সাগর জানায় আমার বয়স যখন ১১ তখনি বাবা আমার মা কে ডির্ভোজ করেন বাবা নতুন মা নিয়ে আসে। সেই থেকেই আমার জীবনে কষ্ট শুরু। এদিকে মা হারা বেদনা আর এক দিকে পরাশুনা অভাব অনাটন। খুবই কষ্ঠ করে পরাশুনা করছি। আমি স্বপ্ন আমি ডাক্টার হবো। কিন্তু সেই স্বপ্নে একমাত্র বাধাঁ হয়েছে আগামী দিনের পড়াশোনার খরচ। তাই বর্তমানে সাফল্যে এলেও ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে শংকা কাটছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful