Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ৫৭ অপরাহ্ন
Home / খোলা কলাম / তিস্তা এবং …

তিস্তা এবং …

আহমেদ মওদুদ

TISTA 08.02.2014তিস্তা, যা ঐতিহাসিকদের মতে একদা ত্রি-স্রোতা বা তিনটি স্রোতে বহমান ছিল অথচ আজ তা নিতান্ত্রই মরা নদী। তিস্তা নদীর এই দুর্দশা দেখার জন্য নদীর পাড়ে যাওয়ার দরকার হয় না কারণ উত্তরাঞ্চলের বর্তমানের রুক্ষ আবহাওয়া আর তিস্তা প্রকল্পের আওতাধীন চাষীদের পানির জন্য যে হাহাকার তা থেকেই অনুমান করা যায় বর্তমান চিত্র সম্পর্কে। অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরবতা দেখে মনে হচ্ছে দেশের মন্ত্রী এমপিরা তাদের পাঠ্য পুস্তকের পাঠগুলো এখনো ভুলেনি অর্থাৎ তারা মুখস্ত করেছিল, ‘বাঙ্গালী গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছে সমৃদ্ধ একটি জাত।’ যেহেতু তারা মুখস্ত করেছিল অতএব তারা ভোলেনি এসব কথা এবং পাঠ্যপুস্তর্কে যেহেতু পানি সংকট, বিদুৎ সংকট, গ্যাস সংকট সহ আরো অনেক সংকটের কথা লেখা থাকে না এবং এমপি মন্ত্রীদের যেহেতু আর পড়া লেখার দরকার নেই সেহেতু তারা কোন রকম সংকইট কথাই জানে না। বাংলাদেশের সংকটের কথা জানে কেবল বিশ্বব্যাংক, তারা বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশ গুলোকে সংকটপন্ন করে রাখা যায়। তারা জানে বন্যার ভয় দেখিয়ে কিভাবে নদী এলাকায় বাঁধ দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলা যায়।

বাঁধ দেওয়া হলে বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে না এমন কথা বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বোঝাতে সক্ষম এবং তারা এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিচ্ছে এবং আরো দিতে প্রস্তুত। অথচ দেখা যায় এই বাঁধ গুলোই এখন নদীবর্তী মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক ভারে পানির সরে যাওয়ার কথা থাকলেও বাঁধের কারণে এসব এলাকার পানি সরে যেতে পারে না। যার ফলে মাসের পর মান পানিবন্দী হয়ে থাকে বাঁধ বেষ্টিত মানুষগুলো এবং ক্ষণস্থায়ী বন্যার হাত রক্ষার নামে তাদেরকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার মুখোমুখী দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এইসব ক্ষতিকর প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের সহযোগীতায় দেশের কর্তারা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে উঠে পড়ে লাগে কারণ এক্ষেত্রে জনগনের লাভক্ষতি মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে কর্তাদের লাভ লোকসান। অথচ তিস্তা প্রকল্পের আওতাধীন ৬৫ হাজার হেক্টর জমির চাষীরা যখন পানির জন্য রীতিমত মাতম শুরু করেছে তখন কর্তাদের কোন রকম মাথা ব্যাথা লক্ষ্যকরা যাচ্ছে না। কারণ তিস্তার পানি না থাকলে তাদের কোন ক্ষতি নেই, ক্ষতিগ্রস্থ হবে কেবল কৃষক।

তিস্তনদী উত্তর সিকিসের সোলাযে হৃদ থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদীর ১১৫ কিলোমিটার এবং ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ১৭%পড়েছে বাংলাদেশে। নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের জন্য ভারত জলপাই গুড়িতে গজল ডোবা এবং বাংলাদেশ তিস্তায় নীলফামারী পয়েন্টে ব্যারেজ নির্মান করেছে । উজান থাকায় ভারত আগেই তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা প্রকল্পের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতাধীন চাষীরা হয় ক্ষতিগ্রস্থ। আবার বর্ষা মৌসুমে ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে বাংলাদেশে দেখা দেয় অনাকাঙ্খিত বন্যা। ভারতেই এই স্বেচ্ছাচারিতায় বাংলাদেশ দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয় অথচ তারা নিজেদেরকে বাংলাদেশের বন্ধু বলে দাবী করে। এই বন্ধুত্ব কেবল মাত্র বাংলাদেশের কাছ থেকে স্বার্থ হাসিলের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের স্বার্থের ক্ষেত্রে নয়।

গত ১০ এপ্রিল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার রোড মার্চে গিয়ে তিস্তা নদীর বর্তমান দুরাবস্থা দেখার দুর্ভাগ্য হয়। নদী শুকিয়ে একাকার। মাঝে মধ্যে গভীরতার কারণে দু’এক জায়গায় সামান্য পানি দেখা গেলেও তিস্তা নদীকে তখন বিস্তৃত চর বলেই মনে হয়েছিল। পানির অভাবে তিস্তা কুলবর্তী চাষীরা ধানের পরিবর্তে ভুট্টা চাষে মনোযোগী হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের আওতাধীন চাষী যারা তিস্তার পানির আশায় ধান চাষ করে বিপাকে, যাদের ধানের জমি ফেটে চৌচির, তাদের আহাজারি দেখেছি পথে পথে। বিশেষ করে তিস্তা যাওয়ার পথে বড়খাতা, জলঢাকা, চাপানীহাট সহ যে সকল জায়গায় বাম মোর্চার সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। চাষীদের একটাই অনুরোধ, যেভাবেই হোক আমাদেরকে পানি এনে দেন, আমাদের ফসল বাঁচান। এই যে হাহাকার এর সামান্য শব্দও কি শাসকদের কানে পৌছায় না। অবশ্যই পৌছায়। কিন্তু তাদেরকে শুনেও না শোনার ভান করতে হয় কারণ শুনলে ভারত নাখোশ হবে। আর ভারতকে নাখোশ করা যাবে না কারণ তারা আমাদের (রাষ্ট্রপ্রধানদের) বন্ধু। অথচ বন্ধুর বৈরী আচরণে হতবাক আমরা। ভারত এক তরফা ভাবে তিস্তা সহ ৫৪ টি নদীর পানি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাদের মিত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশকে মরুভূমি করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। বন্ধুত্বের এই সমীকরণ সারা বিশ্বে বিরল। একটা কথা প্রচলিত আছে যে, আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্র“র দরকার হয় না। এখন দেখছি ভারতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ভারত তিস্তাকে মরা নদীতে পরিণত করলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না কারণ তারা আমাদের বন্ধু, সুন্দরবনের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে সুন্দরবনকে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিলেও তারা আমাদের বন্ধু, সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন বিএসএফ নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করলেও তারা আমাদের বন্ধু। ভারত আমাদের বন্ধু কারণ তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানীদের শাসন শোষণ থেকে মুক্ত করে নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে আর আমরা দেখতে পাচ্ছি পাকিস্তান বাংলাদেশকে তেইশ বছল শোষণ করলেও ভারত করছে তেতাল্লিশ বছর ধরে। সূত্রমতে ভারত আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু। এই বন্ধুত্ব অতীতের সরকারগুলো যেমন নষ্ট করেনি তেমনি নষ্ট করতে চাচ্ছে না বর্তমান সরকার। শেখ হাসিনা মমতা ব্যানার্জিকে ইলিশ মাছ পাঠালেও মমতা ব্যানার্জির শেখ হাসিনাক কোন কিছু পাঠাতে শোনা যায় না। অবশ্য তাদের কোন কিছু পাঠাবার দরকার আছে বলেও মনে হয় না কারণ তারা উপঢৌকন স্বরুপ শেখ হাসিনাকে মসনদে বসিয়েই রেখেছে। অতএব উপঢৌকন হিসেবে যা পাঠারবার পাঠাবেন শেখ হাসিনাই। গদি ধরে রাখার জন্য শেশ হাসিনার কাছে বাংলাদশের জনগণ নয় বরং ভারতের কর্তারাই অগ্রগন্য। অতএব তিনি জনগণের সকল প্রকার স্বপ্ন, সুখ, সমৃদ্ধি ভারতের স্বার্থে জলাজলি দিতে একপায়ে খাড়া কারণ জনগণেল প্রতি তার বিন্ধু মাত্র আস্থা নেই আর তিনি জানেন ক্ষমতার উৎস তো জনগণ নয়, উৎস হচ্ছে ভারত। অতএব ভারত জিন্দাবাদ। অবশ্য সম্প্রতি তিস্তার প্রচুর পানি দেখা গেলেও আবহাওয়াবিদদের মতে এই পানি ভারত ইচ্ছে করে ছাড়েনি। উজানে বৃষ্টির কারণের অতিরিক্ত পানি ভাটিতে চলে এসেছে, তাই এই পানি কোন সমাধান নয়। সমাধান হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে।

সম্প্রতি তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে খালেদা জিয়াকে লংমার্চ করতে দেখা গেলেও ক্ষমতার থাকলে তার চরিত্র পুরোপুরি আলাদা হতো বলে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানি। কারণ যখন ফুলবাড়ীর কয়লাখনি জনগণের মতামত ছাড়াই, বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়াই, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে নামে মাত্র চুক্তিতে এশিয়া এনার্জিকে দিয়ে দেয় হয় তখন দেশের বিবেকবান মানুষগুলো এর প্রতিবাদ করে ২০০৬ সালের ২৬ আগষ্ট এশিয়া এনার্জিও অফিস ঘেরাও করলে, সেই শান্তি পূর্ণ ঘেরাও কর্মসূচীতে বন্দুক চালায় তৎকালীন বি এন পি সরকার। ঘটনা স্থলে মারা যায় তিন জন এবং গুলিবিদ্ধ হয় কমপক্ষে ৫০ জন যাদের অনেকেই এখনো পঙ্গু হয়ে আছে। অবশ্য সে সময় শেখ হাসিনা এর প্রতিবাদ করে জনগণের পক্ষ নিলেও ক্ষমতায় আসামাত্র তার চেহারা পাল্টে যায়। কারণ এখনো ফুলবাড়ীর কয়লাখনী বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্দ্র অব্যাহত রয়েছে। তো এই হচ্ছে আমাদের দেশের বাহুবলে সমৃদ্ধ দুই দলের রাজনৈতিক কর্মতৎপরাত। স্বাধীনতার ঘোষক আর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের এই দুই তত্বের বাইরে তাদের আর কোন তত্ত্ব এবং তাত্ত্বিক নেই। জনগণের স্বার্থ রক্ষার কোন রুপ রেখা তারা দাঁড় করাতে পারে না। জনগণকে তারা কখনো বন্ধু ভাবতে পারেনা। তাদের একদলের বন্ধু ভারত তো অন্যদলের বন্ধু পাকিস্তান। আবার বিপরীত দিক থেকে এই দুই দেশের কোন দেশই প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামীলীগ বা বিএনপির শত্র“ নয় কারণ বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের বড় হাট। এই হাটকে বিনা শর্তে লিজ দেওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপি একপায়ে খাড়া। তাই জনগণকে সচেতন থাকতে হবে এই সব ফড়িয়া এবং গণতন্ত্রের নামধারী শোষকদের গোপন ও প্রকাশ্য বিধি-বিধান সর্ম্পকে।

লেখক:  কেন্দ্রীয় সদস্য, প্রতিবেশ আন্দোলন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful