Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ :: ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ২ : ০১ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / স্বপ্ন পূরণে একমাত্র বাধা দারিদ্রতা!

স্বপ্ন পূরণে একমাত্র বাধা দারিদ্রতা!

Desktop4রবিউল হাসান হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) থেকে: কেউ বা জন্ম নিয়েছেন দরজি কিংবা ভুমিহীন পিতা-মাতার ঘরে। আবার কেউ মা-বাবা হারিয়ে একেবারেই এতিম হয়েছে। ওদের কেউ দিনমজুর বাবা- মায়ের সন্তান। তাই পড়াশোনার খরচ যোগাতে কখনও কখনও দিনমজুরীও করেছে কেউ কেউ। তবু দারিদ্রতা দমাতে পারেনি ওদের।

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে দারুন খুশি তারা। এখন স্বপ্ন দেখছে ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি কিংবা ভাল চাকুরী করার। সেই স্বপ্ন পূরণে একমাত্র বাধা দারিদ্রতা। তাই তারা চেয়ে আছেন দেশের হৃদবান মানুষের দিকে। একটু সহযোগিতা পেলে ওদের স্বপ্ন সাধ পূরণ হবে।

Irfan Khanইরফান খান: নিজের জমিজমা নেই তাই সরকারী জমিতে বসবাস। বাবা মিঠু খান অন্যের দোকানে কাজ করে সংসার চালায়। তাই ইরফানের পড়াশোনার টাকা যোগাতে মা সেলিনা আক্তার অন্যের বাড়িতে মাটি কাটার কাজ করেছেন। মায়ের এ কষ্টের শ্রম বিফলে যায়নি। হাতীবান্ধা এসএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ইরফান পেয়েছে জিপিএ-৫। ইরফানের বড় ভাই ইসরাত খানও গতবছর এসএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়ে এখন অধ্যায়ন করছে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজে। কিন্তু দুই ভাইয়ের পড়াশোনার ব্যায়ভার বহনে হতাশ পরিবার। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে অদম্য মেধাবী ইরফান । কিন্তু তাতে একমাত্র বাধা দারিদ্রতা।

Shel Rana-1সোহেল রানা: বাবা-মা হারালেও মনোবল হারায়নি সোহেল রানা। তাই এতিম খানায় থেকেও এবছর হাতীবান্ধা এস এস উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। প্রায় ১২ বছর আগে তার বাবা মজিবর রহমান মারা যায় । এরকিছুদিন পরেই মা ফাতেমা বেগমও মারা গেলে হাতীবান্ধার টংভাঙ্গা গ্রামের সোহেল রানার ঠাঁই হয় স্থানীয় শাহ্ গরীবুল্ল্যাহ এতিম খানায়। সেখান থেকে স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেয়ে পড়াশোনা শুরু। এসেছে কাংখিত সাফল্য। সোহেল রানা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সেই স্বপ্ন পূরণে এতিমখানার সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি দেশের হৃদয়বান মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে সে। সহযোগিতা করা হলে সে একদিন অনেক বড় সাফল্য আনতে পারবে।

Hasan babuহাসান বাবু: অভাবের সংসারে লেখাপড়ার খরচ মেটাতে বাবার সাথে দর্জির কাজ করতো হাসান বাবু। তবুও দারিদ্রতা দমাতে পারেনি তাকে। এবছর হাতীবান্ধা এস এস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ গ্রহণ করে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামে। বাবা ফজলে রহমান সামান্য দর্জি হলেও তা দিয়ে চলে চার ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ। বাবুর বড় ভাই হাফিজুর রহমান রংপুর কারমাইকেল কলেজের বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষে ছাত্র , বাকি দুই বোনের মধ্যে ফরিদা খাতুনও এবারের এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.০০ পেয়েছে, আর ছোট বোন হোসনে আরা পড়ে ১০ম শ্রেণীতে। অভাবের মাঝেও বাবার সাথে দর্জির কাজ করেও কাংখিত সাফল্যে খুশি হাসান বাবু। স্বপ্ন দেখছে। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে চার ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হতাশ অভিভাবকরা।

Nasir-নাসির উদ্দিন: নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতে অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করেছে নাসির উদ্দিন। শ্রম বিক্রির টাকায় বই খাতা কিনে পড়াশোনা করেই এবছর হাতীবান্ধা এসএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার এই সফল্যে খুশি পরিবার, খুশি স্কুল শিক্ষক থেকে পাড়াপর্শিরাও। কিন্তু সেই খুশি ধরে রাখতে নাসিরের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। নাসির জানায়, একদিকে সংসারের অভাব অনটন আর অন্যদিকে ৩ ভাই বোনের পড়াশুনার খরচ চালাতে পারতো না বাবা হাবিুল্ল্যাহ। সে কারণে টিউশনী ও লেখাপড়া মাঝেই কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হত অন্যের জমিতে। এখন স্বপ্ন ভবিষ্যতে আইনজীবি হওয়ার। কিন্তু দারিদ্রতা কি শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দিবে এমন শংকা কাটছে না নাসিরের।

Shol ranaসোহেল: দিনমজুর বাবার সন্তান সোহেল রানা। এবছর হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এসএসসিতে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। বাবা তছির উদ্দিন দিনমজুরী করে সংসার চালায়। হাতীবান্ধার সিংঙ্গীমারী গ্রামে বাড়ি। নিজের বলতে মাত্র ৫ শতক জমির উপর ঘর বাড়ি ঘরে বসাবাস। সংসারে ৪ বোন ২ ভাই ভাইয়ের মধ্যে সোহেল রানা বড়। ইতোমধ্যে অন্যের সাহায্য আর ধার দেনা করে ৩ বোনের বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ছোট বোন লাকী খাতুন ৯ম শ্রেনীতে আর ছোট ভাই মাসুদ রানা ৫ম শ্রেনীতে পড়ে।
সোহেল রানা জানায়, বাবার দিনমজুরীর টাকায় ৩ ভাইবোনে পড়াশুনার খরচের পাশাপাশি ঠিকমত সংসার চলে না। তাই সে অন্যের বাড়িতে দিন হাজিরার কাজ করে প্রাইভেট পরেছিল। লেখা পড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ব্যাংকে চাকুরী করার ইচ্ছা সোহেলের।

Al mobinআল মবিন: হাতীবান্ধার মোজাম্মেল হোসেন আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে এবছর এসএসসিতে জিপিএ- ৫ পেয়েছে। অভাব অনাটনের সংসারে পড়াশোনা চলে তার। বাবা মমিনুল হোসাইন একজন বে-সরকারী স্কুল শিক্ষক হলেও জমিজমা না থাকায় ওই টাকায় সংসার চলে না ঠিকমত। সংসারে ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মবিন। বড় ২ ভাই মিনহাজ আর আল মালেকুল এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। অভাবের সংসারে তিন ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ নিয়ে হতাশ অভিভাবক। সেই সাথে মমিনুলের ইচ্ছা ভবিষ্যতে আইনজীবি হওয়ার। কিন্তু দারিদ্রতা ছাপিয়ে তার আইনজীবি হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে এমন শংকা আল মবিনের।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful