Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ :: ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ২০ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / একান্ত সাক্ষাৎকারে এরশাদ: শেখ হাসিনা টাফ লেডি

একান্ত সাক্ষাৎকারে এরশাদ: শেখ হাসিনা টাফ লেডি

ershadজাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর বিরোধী দলে থেকেও হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় পার্টির অবস্থান, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে সোমবার দ্য রিপোর্টের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন অবলীলায়। এরশাদ বলেছেন, সরকারের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের ফল। আগামীতে তৃতীয় শক্তির উত্থানের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক। এরশাদের বনানী কার্যালয় থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাগর আনোয়ার। দ্য রিপোর্ট এর সৌজন্যে  সাক্ষাৎকারটি  উত্তরবাংলা ডটকম এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

কেমন আছেন?

অল রাইট, বাট নারায়ণগঞ্জ নিয়ে একটু চিন্তিত। এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারিনি। প্রার্থী দিতে হবে।

হঠাৎ করেই দেশে গুম-খুন বেড়ে গেল। এর কারণ কী?

সবার আগে আমার দল প্রতিবাদ করেছে। মানববন্ধন করেছি আমরা। এই ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল ভয়াবহ। গুম-খুনের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে, ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে। আমি বারবার বলেছি ফেনী, নারায়ণগঞ্জের গুম-খুন এগুলো আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলের ফল। যা ঘটছে তাতে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে সরকার। গুম-খুনের কারণে সরকারের অনেক ভালো কাজও হারিয়ে যাচ্ছে। এ সব বিষয়ে সরকারের আশু দৃষ্টি দেওয়া দরকার।

অনেকে বলছেন, এ সবের পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে।

না সেরকম কিছু নয়। তৃতীয় শক্তি কি আমি বুঝি না। তবে এটা তো স্পষ্ট, এই গুম-খুন এগুলো আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের ফলে হচ্ছে। অনেকে র‌্যাবের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করছে। র‌্যাব জড়িত কি না আমি জানি না। বাইরের শক্তি জড়িত বলে মনে হয় না। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব তো স্পষ্ট। তদন্তের পরই তা জানা যাবে।

সরকার কি তাহলে জটিলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে?

অবশ্যই। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ভয়াবহ। সরকার অবশ্যই জটিলতার মধ্যে পড়েছে। সরকারের অনেক মন্ত্রীই আমাকে বলেছে, গুম-খুনের দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে। এ সবের বিচার হলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসত। কিন্তু বিচার তো কোথাও হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার কি তার বাকি মেয়াদ পূরণ করতে পারবে?

বলা কঠিন। ভবিষ্যতে কি হয় জানি না। মধ্যবর্তী নির্বাচন কখন হয়? আমার মনে হয় সরকার ৫ বছরই থাকবে।

অনেকে তৃতীয় শক্তির কথা বলছে?

তৃতীয় বিকল্প শক্তি আমরা নিজেরাই। রাজনৈতিক বিকল্পশক্তি জাতীয় পার্টি। দুর্ভাগ্যবশত মাঝে জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। জাতীয় পার্টি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এখন আমরা ভাবছি, কি করে বিএনপির আগে যাওয়া যায়।

কাউন্সিল ছাড়াই জাতীয় পার্টির মহাসচিব হঠাৎ পরিবর্তনে দলে কোনো প্রভাব পড়েছে কি?

নতুন মহাসচিব নিয়োগের ফলে জাপায় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দলে কোনো বিভেদ নেই। এখন আমরা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছি। বিএনপিকে কিভাবে পেছনে ফেলা যায় তা নিয়ে ভাবছি।

সরকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বর্তমান সম্পর্কটা স্পষ্ট করবেন?

আমরা বিরোধী দল। তবে মন্ত্রিসভায় তিনজন মন্ত্রী না থাকলে ভালো হত। তবে এটি বিরল নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন হয়। আমরা সংসদে আছি, রাজপথে আছি। সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছি। সংসদের বাইরে সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরছি। এই প্রথম সংসদে অবস্থান করা বিরোধী দল। এর আগে কখনও সংসদে বিরোধী দল থাকত না। কি বিএনপি কি আওয়ামী লীগ কেউই সংসদে থাকত না। শেষ কথা, আমরা বিরোধী দল। এটাই সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক।

অনেকে তো আপনাদের ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল বলে।

অনেকে গৃহপালিত বলে। আগে তো বিরোধী দলই ছিল না। তোমার কথা কিছুটা সত্য। অবস্থার পরিপ্র্রেক্ষিতে অনেকে অনেক কথা বলে। তবে আমরা যদি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারি। আমাদের সংসদীয় দল যদি ঠিকমতো কাজ করতে পারে তাহলে আমরা সফল হব। আমাদের বিকল্প তো নেই। সরকার সমালোচনা করার মতো কিছু করলে সমালোচনা করব। সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়।

আজ (সোমবার) তো ভারতে নরেন্দ্র মোদির সরকার শপথ নিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে মোদির সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে?

আমি একটা কথা বলি, ভারতের স্বার্থ কোথায়? আমার ভালো থাকি এটাই ভারতের স্বার্থ। বাংলাদেশের অবস্থা ভালো না থাকলে তাদের সীমান্ত নিরাপদ থাকবে না। জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে। লোকজন ওপারে চলে যাবে। বাংলাদেশ সমৃদ্ধ না হলে বর্ডার সিকিউরিটি থাকবে না। অস্থিতিশীল হলে, জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটলে তো ভারতের ক্ষতি। এটাই তো তাদের ভয়। তাই ভারতের স্বার্থেই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখবে।

কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সুসম্পর্ক ছিল। বিজেপি সরকার কি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে কংগ্রেস সরকারের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখবে?

এটা বিজেপির স্বার্থেই বিজেপিকে করতে হবে। বর্ডারে যাতে বেশি সৈন্য পাঠাতে না হয় সে ব্যবস্থা তারা চাইবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে তো জঙ্গির উত্থান ঘটবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত চুক্তি এ সব নিষ্পত্তি করতে হবে। আমার মনে হয়, এবার তা হবে। কারণ বিজেপি তো ভারতের স্বার্থই দেখবে। ভারতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান না হওয়ার ওপর। ভারত নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান করবে। মোদি বাংলাদেশ নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছেন দায়িত্ব নেওয়ার পর বোঝা যাবে তিনি কি করেন।

সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে আপনার কাজের জায়গাগুলো কি বলবেন?

আমি সরকারের নই। আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। যদি প্রধানমন্ত্রী কোনো কাজ দেন তাহলে চেষ্টা করব। আপ্রাণ চেষ্টা করব ভালোভাবে করার জন্য। উনি তো দেশের মঙ্গলের জন্যই কাজ দেবেন। তবে আমরা বিরোধী দল এটাই সত্য।

আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। মোদির শপথে আপনি গেলে কি ভালো হত না?

উনার পক্ষে মাননীয় স্পিকার গেছেন। বাকি যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারা গেছেন। আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাই যাইনি।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গ। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আপনি কিভাবে গেলেন, মামলা বা অন্য কোনো চাপ ছিল কি?

কথাটা সত্য নয়। আমি তো নির্বাচন করতে চাইনি। নির্বাচন করিও নি। পরবর্তী ঘটনা কি হয়েছে তা তো তোমরা সবাই জান। আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার ‘এরশাদ জিয়ার খুনী’ মন্তব্যে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

(উচ্চস্বরে হেসে) হাস্যকর। জিয়া হত্যা মামলায় আমার সম্পৃক্ততা হাস্যকর। কই তখন তো বিএনপিই ক্ষমতায় ছিল। তারা তো বিচার করল না। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ সব কথা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই না।

হঠাৎ করেই খালেদা জিয়া কেন এমন মন্তব্য করলেন?

উনি আমার চিফের ওয়াইফ। আমি উনাকে নিয়ে মন্তব্য করব না। তবে উনি বেসামাল হয়ে গেছেন। এই মন্তব্য উনার বাতুলতা। উনি ভেবেচিন্তে কথাটা বলেননি।

জাতীয় পার্টি বিরোধী দল। আপনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। আপনারই তো বিরোধী দলের নেতা হওয়ার কথা?

এটা মীমাসিংত বিষয়। রওশন তো আমারই স্ত্রী (হাসি)। এটা নিয়ে আবার কথা বলছ কেন? আমি তো সংসদে আছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা দায়িত্বও দিয়েছেন।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার অন্তর্ভুক্ত বিএনপির যেভাবে জন্ম হয়েছে জাতীয় পার্টির জন্মও তো একইভাবে। তারপরও আপনাকে স্বৈরাচার বলা হয়, কিন্তু বিএনপির তো তেমন বদনাম নেই। এটা কেন?

আমার সময় স্বৈরাচারী আচরণ সবচেয়ে কম হয়েছে। মিলিটারি ছিলাম তো এ জন্য। এখন বিএনপিকেও বলা শুরু করেছে।

৩০ বছর আগের বাংলাদেশ ও রাজনীতি এবং এখনকার বাংলাদেশ ও রাজনীতির মধ্যে গুণগত পার্থক্য কি কিছু দেখছেন? একজন প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কিছু বলবেন?

পার্থক্য তো আছেই। জনসংখ্যা বেড়েছে, কর্মসংস্থানের অভাব, মূল্যবোধের অভাব। মাদকদ্রব্য বাড়ছে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। তারপরও আমরা উন্নয়ন করেছি। সামাজিক অস্থিরতা না থাকলে, মাদকদ্রব্য না থাকলে ভালো হত। তারপরও আমাদের জিডিপি রেট ৬ এর ওপরে। ভারতেরও ৬ নেই। এটাই আমাদের সফলতা। তবে আগের বাংলাদেশ আর নেই।

আপনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো এতদিনেও কেন নিষ্পত্তি হচ্ছে না?

সরকারই তা ভালো বলতে পারবে।

বাজেট নিয়ে সরকার কি জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছে?

আমার মনে হয় আলোচনা করেনি। এর আগে কোনো সরকার আলোচনা করেছে কি-না তাও জানি না।

বর্তমান সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন?

৬ মাসের মূল্যায়ন হয় না। গুম-খুন বন্ধ হলে সরকার ভালো করবে। গুম-খুন সরকারকে জটিলতায় ফেলে দিয়েছে। এটা দেখা দরকার। ক্ষমতা ও পয়সাটা এখন বড় হয়ে গেছে। এসপির অফিস থেকে টেন্ডার ছিনতাই হচ্ছে। এটা শেখ হাসিনার দেখা দরকার।

শেখ হাসিনা কি পারবেন?

শেখ হাসিনা টাফ লেডি। তিনি পলিটিক্যাল পারসন। ভেরি পলিটিক্যাল। তিনি জানেন, কোথায় কি হচ্ছে। তিনি জেনে যদি সমাধান করেন তাহলে ভালো। আমার মনে হয় পারবেন।

কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। দুবেলা খেতে পারবে। বিদেশে গেলে সম্মান পাবে।

আগামী নির্বাচনে কেমন সরকারের অধীনে অংশ নিতে চান?

আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। যে পদ্ধতিতেই হোক আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই। ভারতে কংগ্রেস সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারলে বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে সমস্যা কোথায়?

বাংলাদেশের জনগণ কি ব্যক্তি ইমেজের ওপর ভরসা করে, নাকি তারা আসলেই গণতন্ত্র ভালোবাসে?

এ দেশে গণতন্ত্র আছে না কি? এ সব প্রশ্ন বাদ দাও। তবে বাংলাদেশের মানুষ আর পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি দেখতে চায় না।

জাপায় ও সরকারে নিজের অবস্থান নিয়ে আপনি সুখী?

নট ভেরি হ্যাপি, বাট উইল বি হ্যাপি।

এ দেশে সামরিক শাসনের আশঙ্কা কতটুকু?

আওয়ার কান্ট্রি ইজ নট ইন এ গুড শেপ। সরকারের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। দিনে দিনে আরও কমে যাবে। এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা কতটুকু জানি না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমা হচ্ছে। এখন তরমুজও খাওয়া যাচ্ছে না। মোবাইল কোর্ট গেলে সেখানেও হামলা হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্টের জীবন এক রকম বাইরের আরেক রকম। কাল যদি মার্শাল ল আসে তাহলে ফুটপাতের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। লাল বাতিতে গাড়িও থামবে। তবে সামরিক শাসনের আশঙ্কা আছে কি না জানি না। সমস্যা যেহেতু আমরা রাজনীতিবিদরা সৃষ্টি করি। আশা করি, সমাধানও আমরা রাজনীতিবিদরা করতে পারব।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful