Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ :: ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৯ : ১৬ অপরাহ্ন
Home / আলোচিত / সংসদীয় দলের বৈঠকে এরশাদ-রওশনের বাকযুদ্ধ

সংসদীয় দলের বৈঠকে এরশাদ-রওশনের বাকযুদ্ধ

Ershadডেস্ক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদের মধ্যে উত্তপ্তবাক্য বিনিময় হয়েছে। একপর্যায়ে জাপার সংসদীয় দলের বৈঠক শেষ হয় সিদ্ধান্ত ছাড়াই। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার বৈঠক ও নাটকীয়তা শেষে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে জাপার প্রার্থী হিসেবে সেলিম ওসমানের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বনানীতে এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয় রজনীগন্ধায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক আহ্বান করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সোহেল রানা, এম এ হান্নান এমপি, সুনীল শুভরায়।

জাতীয় পার্টির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নিতে এরশাদ সকাল ১১টার দিকেই বনানীর কার্যালয়ে আসেন। এরপর সেখানে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাপার আহ্বায়ক আবুল জাহের চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাপার সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন ও এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা মৌসুমী।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এরশাদের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদীয় দলের বৈঠক। বৈঠকের শুরুতেই রওশন ওসমান পরিবারের নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরে গোলাম মসীহকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য এরশাদকে অনুরোধ জানান।

রওশন বলেন, ‘পার্টিতে গোলাম মসীহর অনেক অবদান রয়েছে। ওসমান পরিবার থেকে কেউ নির্বাচনে জয়ী হতে পারবে না। তা ছাড়া সেলিম ওসমান তো দলের প্রাথমিক সদস্যও নন। গোলাম মসীহর বাবা ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। চাচা এমপি ছিলেন। তিনি অনেক ত্যাগী। তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

সূত্র মতে, এ সময় এরশাদ সংসদীয় দলের নেতাদের মতামত জানতে চান। অধিকাংশ সদস্য এ সময় গোলাম মসীহকে মনোয়ন দেওয়ার কথা জানান। কিন্তু অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘নারায়ণঞ্জের রাজনীতি আর সারাদেশের রাজনীতি ভিন্ন। এখানে ওসমান পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি টিকতে পারবেন না। তা ছাড়া গোলাম মসীহর তো টাকাও নেই।’

এ সময় রওশন এরশাদ বলেন, ‘টাকা আমি ম্যানেজ করে দেব। আর আইভি রহমানতো ওসমান পরিবারের বাইরের। সে কিভাবে জয়ী হলো?’ এভাবেই বৈঠক চলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। বৈঠকের মাত্র তিনজন সদস্য এরশাদের পক্ষে কথা বলেন। বাকিরা রওশন এরশাদের পক্ষে কথা বলেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে কাগজে গোলাম মসীহর পক্ষে স্বাক্ষরও নেন রওশন এরশাদ।

একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, এরশাদ বার বারই সেলিম ওসমানের পক্ষে কথা বলেন। এক পর্যায়ে রওশন বলেন, ‘ঠিক আছে ব্রিফিং করে বলে দাও, প্রার্থী পরে চূড়ান্ত করা হবে। এ কথা শুনেই এরশাদ উঠে পড়েন। তিনি তার কক্ষে চলে যান।’ এ সময় রওশন এরশাদ কাজী ফিরোজ রশিদকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘তোমার স্যার (এরশাদ) সেলিম ওসমানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন না কি?’

কাজী ফিরোজকে রওশন এরশাদ আরও বলেন, ‘আমি কি নির্বাচন করে ভাল করেছি? তোমার স্যারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আমরা রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হেরেছি, সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনে পার্টি ভাল করতে পারেনি। তাই তার একক সিদ্ধান্তে পার্টি চলতে পারে না। মনোনয়ন দিলে মসীহকেই দিতে হবে।’

এরপর ২.২৫ মিনিটে রওশন বৈঠক থেকে বের হয়ে এরশাদের সঙ্গে কথা না বলেই চলে যান।

বৈঠকের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘বৈঠকে তিন-চতুর্থাংশ সদস্য গোলাম মসীহকে মনোয়ন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।’

অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘বৈঠকে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। আমরা যারা নির্বাচনে অংশ নেইনি আমাদের মত ছিল এক রকম। আর যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের মত ছিল আরেক রকম।’

প্রত্যক্ষদর্শী জাপার নেতারা জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে এরশাদ তার কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে। তারপর ডাকা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাপা নেতাদের।

এরশাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে জাপার নারায়ণগঞ্জ জেলা জাপার আহ্বায়ক আবুল জাহের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা স্যারকে বলেছি, সেলিম ওসমানকে মনোনয়ন না দিলে আমরা সবাই পদত্যাগ করব।’ এরপর এরশাদ আবার ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙা, মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায় ও এস এম ফয়শল চিশতীকে নিয়ে বৈঠক করেন।’ বৈঠক শেষে বিকেল ৩টা ২ মিনিটে তার কার্যালয় ত্যাগ করেন এরশাদ।’

এরপর চলে নানা নাটকীয়তা। একের এক এক কাগজ আর টেলিফোন নিয়ে এরশাদের কক্ষে থাকা জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কাছে যেতে থাকেন বিভিন্ন স্তরের নেতারা। এরপর পৌনে ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন বাবলু।

সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ৪ বার এমপি ছিলেন। আমাদের পার্টির সংসদীয় দল ও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তমতে আমরা সেলিম ওসমানকে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি।’

সেলিম ওসমান অনেক আগে থেকেই জাপার সদস্য বলে দাবি করেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful