Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০ :: ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ৪৪ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / অপহরণের নয়া কৌশল: ধনীর টাকা, গরীবের কিডনি!

অপহরণের নয়া কৌশল: ধনীর টাকা, গরীবের কিডনি!

kidnap1_ opohoronহঠাৎ করেই দেশজুড়ে বেড়ে গেছে অপহরণের ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ অপহরণের শিকার হচ্ছে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই মূলত এসব অপহরণের ঘটনা ঘটছে। ফলে পয়সাওয়ালারাই এর প্রধান শিকার।

একইসঙ্গে ইদানিং গরীব মানুষও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। এর পেছনের রহস্য কী? গত দু’মাসে এরকম রহস্যজনক অনেক ঘটনা ঘটেছে। গত এপ্রিল ও মে মাসে অপহরণ হওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে বাংলামেইলের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হয়। আর এতেই বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

গণমাধ্যম ও জেলা সংবাদদাতাদের কল্যাণে এপ্রিল ও মে মাসের অপহরণের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অপহরণ হওয়া ব্যক্তি ধনী হলে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। আর গরিব হলে হত্যা করে শরীর থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে কিডনি।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপহরণের ঘটনা থেকে জানা যায় এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গরীবের কিডনি:
এ বছরের ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া উধুনিয়া ইউনিয়নের তরফবাইরা গ্রামের দিনমজুর আবদুল মান্নানের ছয় বছরের শিশুপুত্র হারুন অপহরণ হয়। পরে অপহরণ চক্রের সদ্যসরা কিডনি কেটে নিয়ে তাকে হত্যা করে। ৪ দিন পর ২৬ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে শিশুটির কিডনিবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির বাবা সিরাজগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জন) এবং ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম-আল-নাজিমুল হক বিপ্লব ময়নাতদন্ত শেষে জানিয়েছিলেন, কিডনি কেটে নিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির পেটের নিচে বাম ও ডান পাশে কাটা চিহ্ন রয়েছে। কিডনিও পাওয়া যায়নি। প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ৩০ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

হারুন অপহরণের এক মাস পরে অর্থাৎ ১৭ মে সকালে রাজধানীর মালিবাগ সুপার মার্কেটের সামনে থেকে অপহৃত হয় মিজানুর রহমান নাঈম নামের এক স্কুলছাত্র। সে  মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্র। কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য নাঈম বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল মালিবাগ সুপার মার্কেটের সামনে। ঠিক তখনই অপহরণকারী আলমীর ও মুক্তার এসে তার নাকে স্প্রে করে অচেতন করে ফেলে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শিবচরের চরচান্দ্রনার চরে। সেখানে বেশ কয়েক দফা তাকে হত্যার চেষ্টা করে আপহরণকারীরা। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে মুক্তি পায় নাঈম।

এ অপহরণের ব্যাপারে নাঈমের পরিবারের ধারণা, অপহরণকারীরা কিডনি পাচার চক্রের সদস্য। এ ধারণার কিছুটা সত্যতাও পাওয়া গেছে নাঈমের কথায়। কারণ প্রাণ বাঁচাতে নাঈম দুর্বৃত্তদের যত টাকা লাগে তা দেয়ার কথা বললে তখন দুর্বৃত্তরা বলেছিল- তোর বাবা আর কয় টাকা দেবে? তার চেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে তোর শরীরে। তোকে হত্যা করলেই সব পাওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানায়, ওই চরে প্রায়ই মানুষের লাশ পাওয়া যায়। সম্প্রতি এক তরুণীর কাটা-ছেড়াঁ লাশ পাওয়া যায়। এর আগেও দুই যুবকের লাশ পাওয়া গেছে যাদের পেট কাটা ছিল।

ধনীর টাকা:
এ বছরের ১১ মে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার গুয়ালাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক (৪৬) বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালির সামনে থেকে থেকে অপহৃত হন। অপহরণকারীরা তার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তিনি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ১২ মে মুক্তি পান।

অপহরণকারী চক্র পরবর্তী সময়ে তাকে অশ্লীল ছবির মাধ্যমে ব্লাকমেইল করার ফাঁদে ফেলে ৩ লাখ  টাকা দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা রুজু হলে ডিএমপির ‘অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড’ আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়।

পরে সেই সূত্র ধরে ২০ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড’ এক নারীসহ ৬ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. আবুল কাসেম, মোসা. মাসুমা, রাজিব ওরফে সজিব, মো. নিকুল, ইকবাল হোসেন কবির ও এমদাদুর রহমান। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলায়। অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াডের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সানোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

২১ মে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক অপহরণের কয়েক দিন আগে ৩০ এপ্রিল ঢাকা মহানগরের তুরাগ এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ীকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। পরে এই চক্রের নারী সদস্য শিল্পীর সঙ্গে ব্যবসায়ীর আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে গত ৭ মে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনায় গত ২ মে ডিএমপির তুরাগ থানায় অপহরণ মামলা রুজু হলে অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- অপহরণ চক্রের দলনেতা মো. রেজাউল, শিউলি আক্তার ওরফে শিল্পী, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আ. সামাদ এবং মরতুজা।

১৯ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির মুখপাত্র মো. মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের নতুন এ কৌশল সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক (ডিসি) মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এমন কোনো চক্রের তথ্য আসেনি। তবে আপনারা যেহেতু জানালেন তাই ব্যাপারটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। আর কেউ যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে তবে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখী করা হবে।’   

শুধু জসিম বা সৈয়দ সাইফুল ইসলামই নন, টাকার জন্য এমন অপহরণ এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে উঠেছে। কিন্তু গরীবের অপহরণের রহস্য ক্রমেই ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। নেহাল হাসনাইন, বাংলামেইল

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful