Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ২৭ অপরাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / রংপুরের চরাঞ্চলে আবাদ হচ্ছে ৩৩ প্রকার ফসল

রংপুরের চরাঞ্চলে আবাদ হচ্ছে ৩৩ প্রকার ফসল

image_22275উত্তরবাংলা নিউজ ডেস্ক :
নিজেরদের ভাগ্য পরির্বতনে থেমেনেই চরঞ্চলের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। ভিটেবাড়ি হারা মানুষ চরে  ৩৩ প্রজাতের ফসল উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন।

দেখা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলার চরাঞ্চলগুলেতে ব্যাপক হারে বিভিন্ন জাতের ফসল উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে চরে দুই মৌসুমে ৩৩ প্রজাতের ফসল উৎপাদন হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে থাকা চরাঞ্চল জমি রক্ষা করতে না পারলে উৎপাদন কম হওয়ার আশংকা রয়েছে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলারয় মোট চরের সংখ্যা ৫৯৭টি। মোট জমির পরিমাণ ৭৭ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। আবাদযোগ্য চরের সংখ্যা ৫৬৮টি। জমির পরিমাণ ৫৮ হাজার ৬৭১ হেক্টর। রংপুর বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা এবং করতোয়া নদী। প্রতি বছর এসব নদীতে বেশ কিছু চর জেগে উঠে।

সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার কাউনিয়া, গংগাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ৯৫টি। মোট জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৪০২ হেক্টর। আবাদযোগ্য চর হচ্ছে ৭৪টি। জমির পরিমাণ ৬ হাজার ৬৩৮ হেক্টর। গাইবান্ধা জেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ১৮১টি। যার সবই আবাদযোগ্য। মোট জমির পরিমাণ ২৭ হাজার ২৯১ হেক্টর। কুড়িগ্রাম জেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ২৩০টি। মোট জমির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮২৪ হেক্টর। আবাদযোগ্য চর হচ্ছে ২২২টি। জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৫৪৯ হেক্টর। লালমনিরহাট জেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ৪০টি। যা সবই আবাদযোগ্য। মোট জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৬০৫ হেক্টর। নীলফামারী জেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ১৯টি। যার সবই আবাদযোগ্য। মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ৫৪৭ হেক্টর। দিনাজপুর জেলায় চরের সংখ্যা হচ্ছে ৩২টি। যার সবই আবাদযোগ্য। মোট জমির পরিমাণ ৯০৬ হেক্টর। তবে ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলায় চর নেই বললেই চলে।

রংপুরে কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এসব চরে চাষ করা হয়েছে ধান, কাঁচা মরিচ, কুমড়াসহ নানা ধরণের রবি শস্যর চাষ। তিস্তা নদীবেষ্টিত হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ, চর নাজিরদহ, পল্লীমারী, চর চতুরা, শহীদবাগ ইউনিয়নের চর প্রানাথ, চর বল্লভবিষু, চর সাব্দি, বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, গদাই, পাঞ্জর ভাঙ্গা, ঢুষমাড়া, পূর্ব নিজপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়নের চর গনাই, চর হয়বত খাঁ, চর রাজিব, চর বিশ্বনাথ, চর আজম খাঁসহ তিস্তার জেগে উঠা চরে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, চরের জমিতে বিশেষ করে আলু এবং মিষ্টি কুমড়া চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এখন শুধু পরিকল্পিত নদী শাসন এবং নিয়মিত নদী খননের মাধ্যমে চরের জমিকে সব সময় বসবাস এবং কৃষিকাজের উপযোগী রাখা সম্ভব।

চরের একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছরেই চরের জমিতে ৩৩ প্রকার ফসল চাষ করা হয়। কৃষকরা জানান, মিষ্টি কুমড়া, পাট, ধান, গম, ভূট্টা, সরিষা, ডাল (মুগ, মুসর, মাস কালাই, খেসারি অন্যতম), মশলা জাতীয় পণ্য (পিঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, মৌরি অন্যতম), মরিচ, তিল, তিষি, কাউন, চিনা বাদাম, আলু, তামাক, শালুক, সবজি (ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়স অন্যতম) এর পাশা পাশি আখেরও চাষ করা হচ্ছে।

পীরগাছা উপজেলার কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, চর ছাওলা, চর রহমত, চর শিবদেব, চর কাশিয়া বাড়ি, চর হাগুরিয়া হাসিম, চর তাম্বুলপুর, কান্দিনা চরে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে ধান, আলু, তামাক, ভূট্টা, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। এসব ফসল উৎপাদনে খরচও কম। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা অউন্নত থাকার কারণে আমরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাইনা বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী চরের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার জানান, বর্তমানে সকল কৃষিপণ্য চরের জমিতে উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে গোডাউন নির্মাণের দাবী জানান। গঙ্গাচড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুল কাদের জানান, নদীর শিকস্তি ও পয়ন্তি আইন অনুসারে ঘাঘট ও মানান নদীর বুকে জেগে উঠা চরগুলো খাস জমির অন্তভুক্ত। স্থানীয় লোকজন জবর দখল করে চাষ করছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ফিরোয আহমদ জানান, চরের পতিত জমিতে যে মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হচ্ছে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। তিনি বলেন, এছাড়া চরে আলু, আখসহ প্রায় সকল ধরনের মশলাজাতীয় পণ্য ব্যাপক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর, যে সকল চর পানিতে কিছুদিন নিমজ্জিত থাকে সেখানে পানি সহনীয় জাতের ধান চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যে সব চর ১০ থেকে ১৫ দিন জলমগ্ন থাকে সেখানে কৃষকদের বিআর-৫১ এবং বিআর-৫২ ধান চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিআর-৫১ জাতের ধান উল্লিখিত দিন পর্যন্ত জলমগ্ন থাকলে হেক্টর প্রতি ৪ টন এবং ধান জলমগ্ন থাকলে সাড়ে ৪ টন ধান পাওয়া যায়। আবার বিআর-৫২ ধান জলমগ্ন থাকলে সাড়ে ৪ টন এবং জলমগ্ন না থাকলে ৫ টন পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়। যা স্বাভাধিক জমিতে চাষকৃত স্বর্ণা এবং বিআর-১১ ধানের উৎপাদনের সঙ্গে সহজেই তুলনা করা যায়। তিনি নদী শাসন করে চরের জমি আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি চরের জমিতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বিপণনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful