Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ :: ১২ আশ্বিন ১৪২৭ :: সময়- ৬ : ৫১ অপরাহ্ন
Home / টপ নিউজ / নীলফামারীতে শীতের মরণ কামড়; শীতবস্ত্র আনতে যাওয়ার পথে ২ জন সহ ৬ জনের মৃত্যু

নীলফামারীতে শীতের মরণ কামড়; শীতবস্ত্র আনতে যাওয়ার পথে ২ জন সহ ৬ জনের মৃত্যু

তাহমিন হক ববি, নীলফামারী থেকে॥  ডিমলার তিস্তা-পাড়ের টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তেলিবাজার গ্রামের মৃত ছাল্লি মাহমুদের পুত্র দিনমজুর ইসমাইল উদ্দিন(৬৫) ও ডোমার উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের উত্তরগোমনাতী গ্রামের মৃত ছকি মাহমুদের পুত্র ভিক্ষুক রেজাউল করিম(৬৮) এর আর শীতবস্ত্র হাতে নেয়া হয়নি। তারা বিতরণ স্থলে কম্বল নিতে যাওয়ার পথেই কনকনে শীতে শরীরের থরথর কাঁপুনিতে মাটিতে লুটে পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ।

বুধবার সকালের পৃথক এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এছাড়া শীত-জনিত শ্বাসকষ্টে বুধবার সকালে ও মঙ্গলবার রাতে ডিমলা উপজেলার গ্রামে আরও ৪ জন মারা যান। এরা হলেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ি গ্রামের মৃত জিতি মাহমুদের পুত্র আফছার উদ্দিন (৭৮),ডিমলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মধ্য গয়াবাড়ি গ্রামের মৃত যোশো উদ্দিনের স্ত্রী করিমন বেওয়া(৭০) ,নাউতারা ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়ার মৃত বাউল মাহমুদের বিধবা স্ত্রী দুখাইন বেওয়া(৭১) ও একই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত মাহামুদ্দিনের পুত্র দিনমজুর ঈসা মাহমুদ(৬৪)।
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কনকনে হাঁড়কাঁপানো শীতের কামড়ে নীলফামারী জেলা জুড়ে জনজীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র মতে বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর সহ এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত দুদিন ধরে চলা উত্তরী দমকা বাতাসে জেলা জুড়ে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। অসহায় মানুষজন নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছেন। চাহিদা অনুযায়ী শীতবস্ত্র এলাকায় সেভাবে বিতরণ না হওয়ায় অসহায় মানুষজন নিদারুণ কষ্টভোগ করছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে সরকারের পক্ষে দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তৃতীয় দফায় আসা প্রায় ১২ লাখ টাকার শীতবস্ত্র ক্রয় করে বিতরণের কার্যক্রম তিনদিনেও শুরু করা হয়নি। অথচ ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার ( ৩ জানুয়ারি) এই অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আগামী তিনদিনের মধ্যে কম্বল ক্রয় করে বিতরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিল।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান বুধবার সকালে ডিমলার তিস্তা-পাড়ের পাগলপাড়া তিস্তার বাধে বেসরকারি সংস্থা জেএসকের পক্ষে অসহায় মানুষজনের মাঝে কম্বল বিতরণের তালিকায় তেলিবাজারের দিনমজুর ইসমাইল উদ্দিনের নাম ছিল। তিনি সেই কম্বল নেয়ার জন্য বিতরণের স্থানে যাচ্ছিলেন। প্রচন্ড কনকনে শীতের মধ্যে যাওয়ার পথে শরীরে তার থরথর কাঁপুনী উঠলে পথের মধ্যে মাটিতে লুটে-পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। চেয়ারম্যান আরও জানান ইসমাইল হোসেনের তিন মেয়ে ঢাকায় তিনটি বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। এখানে তিস্তার বাধে ইসমাইল তার স্ত্রী স্ত্রী আমুরুন বেগম(৫০) সাথে দিনমজুরী করে বসবাস করে আসছে। এ ঘটনার পর বেসরকারি সংস্থা জেএসকের পক্ষে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রীর হাতে ৪টি কম্বল ও নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
গোমনাতি ইউনিয়নের উত্তর গোমনাতি গনি মেম্বার পাড়া গ্রামের মনছুর আলী, জানান বুধবার সকালে গোমনাতী সীমান্তের ৭ বিজিবি( বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) পক্ষে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছিল। কম্বল বিতরণের তালিকায় উত্তর গোমনাতী গ্রামের তার ভাই ভিক্ষুক রেজাউল ইসলামের নাম ছিল। সেই কম্বল নেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথে শীতের কাঁপুনীতে বাড়ির সামনেই মাটিতে লুটে পড়লে তার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী সন্তান কেউ নেই। ভাঙ্গা ঘরে তার বসবাস।
অপর দিকে শীত-জনিত শ্বাসকষ্টে ভুগে বুধবার সকালে মারা যায় টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ খড়িবাড়ি গ্রামের মৃত জিতি মাহমুদের পুত্র আফছার উদ্দিন (৭৮),ডিমলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের মধ্য গয়াবাড়ি গ্রামের মৃত যোশো উদ্দিনের স্ত্রী করিমন বেওয়া(৭০) মঙ্গলবার রাতে মারা যায় নাউতারা ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়ার মৃত বাউল মাহমুদের বিধবা স্ত্রী দুখাইন বেওয়া(৭১) ও একই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত মাহামুদ্দিনের পুত্র দিনমজুর ঈসা মাহমুদ(৬৪)। পারিবারিক সূত্র ও ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান-গন শীত-জনিত কারণে এই ৪জনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেন।

এদিকে আগুন তাপাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধরা ডোমার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানায় তারা কনকনে শীতে আগুন তাপাতে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে শাড়ীতে আগুন লেগে গেলে অগ্নিদগ্ধ হয়। ফলে তাদের হাত,পা, পিঠ ঝলসে গেছে।ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাকুর রহমান খান জানান কনকনে শীতে আগুন তাপাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ তিন মহিলা মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে রাত ১০ টার মধ্যে একে একে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের চিকিৎসা চলছে।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব জানান সরকারিভাবে দুই দফায় এ জেলায় ১১ হাজার ৮৩৬পিস কম্বল, দুইশত পিস চাঁদর ও ১শত পিস মাফলার বরাদ্দ পাওয়া যায়। যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তৃতীয় দফায় শীতবস্ত্রের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত রবিবার ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৩ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। যা জেলার ৬ উপজেলায় পূর্ণ বরাদ্দের মাধ্যমে আগামী তিনদিনের মধ্যে শীতবস্ত্র(কম্বল) ক্রয় করে বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক আব্দুল মজিদ নির্দেশ দিয়েছেন।এদিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে অভিযোগ পাওয়া যায় গত তিনদিন আগে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে পূর্ণ বরাদ্দের মাধ্যমে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেয়া কম্বল ক্রয়ের টাকা দেয়া হয়। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত জেলার ডোমার,ডিমলা,জলঢাকা,কিশোরীগঞ্জ,সৈয়দপুর ও জেলা সদরের নির্বাহীকর্মকর্তাগন কম্বল ক্রয় না করে টাকাগুলো তাদের নিজ জিম্মায় রেখেছেন।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful