Templates by BIGtheme NET
আজ- বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ :: ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ :: সময়- ৮ : ৩৯ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / কুড়িগ্রামে আইনশৃংখলার অবনতি: পাঁচ মাসে ১৬ খুন, ৩ অপহরণ, ৩ ডাকাতি

কুড়িগ্রামে আইনশৃংখলার অবনতি: পাঁচ মাসে ১৬ খুন, ৩ অপহরণ, ৩ ডাকাতি

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম: জেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্বক অবনতি ঘটেছে। মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে ১৬টি খুন, ৩টি অপহরণ, ৩টি ডাকাতি এবং প্রায় এক’শ মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। আতংকের বিষয় হচ্ছে, অপহরণের মত ঘটনাসহ নানা অপরাধে খোদ পুলিশ বাহিনীর কতিপয় ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একারণে বাড়ছে অপরাধ প্রবনতা।

কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলা মিলে প্রায় ২২ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য রয়েছে, ৯ টি থানা, ২টি জল থানা ও ১টি পুলিশ ফাঁড়ি। এখানে সব মিলে পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৯ শত। জেলার সাথে ভারতের ১৭৮ কিলোমিটার জল ও স্থল সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত দিয়ে মোটর-সাইকেল, বাই-সাইকেল, মদ, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, স্বর্ণ, ইয়াবা এবং চুপসিসহ নানা ধরনের অবৈধ মালামাল পারাপার হয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবীর সম্পর্ক থাকায় অপরাধীরা হাতে-নাতে ধরা পড়লেও অনায়াসেই তারা ছাড়া পেয়ে যায়।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে জেলায় ৮টি খুনের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ভূরুঙ্গামারীর আলোচিত ফোর মার্ডার ও রায়হান নামে স্কুল ছাত্র অপহরনের পর হত্যার ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৭জনকে, ফেব্রুয়ারি মাসে ২টি খুন ও ১টি অপহরনের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হন ৩ জন। মার্চ মাসে ৩টি খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয় ৩ জন। এপ্রিল মাসে ৩টি খুন, ১টি ডাকাতি ও ১টি অপহরণের ঘটনা ঘটলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। গত ২৪ মে সদরের ত্রিমোহনী এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে খোকা নামে এক ব্যবসায়ী অপহরণের শিকার হন।

গত ৫ মাসে খুন, অপহরণ, চাঁদবাজি ও ডাকাতির মামলা হয়েছে মাত্র ৩টি। সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল চুরি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে জেলা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ২ এসআই এর মোটর সাইকেল চুরির হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এছাড়া প্রতিদিন ছোট-বড় চুরি হচ্ছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে শহরের কেন্দ্রস্থল ঘোষপাড়ায় বাড়ির গ্রিল কেটে সোহানের বাসা থেকে ২টি মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণহীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারনে গুম, খুন ও চুরি, ছিনতাই আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন । এর উপর খোদ পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্য নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় মানুষ কার্যত নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বেআইনি আচরনে অতিষ্ট ভুক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খুলছে না। নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তা ভঙ্গে যেন মেতে উঠেছে তারা। এরমধ্যে এক হোটেল মালিককে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বে-আইনীভাবে আটক করলে তোলপাড় শুরু হয়। ঐ হোটেল মালিক পুলিশের এ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করলে তা পুলিশের চাপের মুখে বাতিল করতে বাধ্য হয়। এছাড়াও গত এপ্রিল মাসে ডিবি পুলিশের এএসআই আনোয়ার-থ্রি এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল কলেজ মোড়স্থ এক ব্রবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ফেন্সিডিল রেখে ঐ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। এমন অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পুরো বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, কতিপয় পুলিশের অপকর্মের জন্য বিভাগীয় শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ বিভাগেই দ্বিধা-বিভক্তি রয়েছে। ফলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি দেয়া দুর্রহ হয়ে পড়েছে। একারনে তারা কার্যত আরো বেপরোয়া হয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে। অপরদিকে পুলিশের নীতিবান কর্মকর্তা-কর্মচারিরা নানামুখি চাপেরমূখে রয়েছে। অপহরণের মত অপরাধের সাথে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেই যেন খালাশ কর্মকর্তারা। সদর উপজেলার দিনমজুর তমিজ উদ্দিন মেয়ের ধর্ষনের বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের রোষানলে পড়েন। পুলিশের কথামত আপোষ না করায় গত ২৩ এপ্রিল ১০০গ্রাম গাজা দিয়ে দিনমজুর তমিজ উদ্দিনকে জেলে পাঠায় এএসআই আরিফুর রহমান। ১৭দিন মিথ্যা অভিযোগে জেলখেটে এসে এ তথ্য ফাঁস করে দেয় তমিজ উদ্দিন। তারপরও ঐ এএসআই এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ। তমিজ উদ্দিন তার কন্যার সম্ভ্রমহানীর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশের ডিআইজি (রংপুর) এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার কুন্ডু স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, অপরাধের সঙ্গে জড়িত পুলিশের শাস্তিমুলক বদলী, সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অপহরণ, হত্যা, মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও জেলার আইন-শৃঙ্খলা সন্তোষজনক দাবি করে জানান, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful