Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ০২ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / পতাকা বা জার্সি নয়, সন্তানকে একটা ফুটবল কিনে দিন

পতাকা বা জার্সি নয়, সন্তানকে একটা ফুটবল কিনে দিন

সাবিদিন ইব্রাহিম

world cupবিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিমধ্যে সারাবিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের আমেজ। বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রিয় মানুষ উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে ফুটবলের দর্শক, ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা বিশ্বকাপ পর্যায়ে ফুটবল না অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি।

বিশ্বকাপ ফুটবল তো দূরের কথা, বাছাই পর্বে খেলার নূন্যতম যোগ্যতা অর্জন না করলেও উৎসব আয়োজনে আমরা বিশ্বের সব ‘না খেলুড়ে’ দেশকে হারিয়ে দেবো নির্দ্বিধায়। অনেক বিশ্বকাপ খেলা দেশকেও লজ্জা পাইয়ে দেবো অনায়াসে!

গত এক দশক ধরে ক্রিকেটে কিছু অভাবনীয় সাফল্যের ফলে বাংলাদেশে ক্রিকেটপ্রেমী ও উন্মাতাল দর্শকের সংখ্যা বেড়েছে। এই সমর্থকরা নিজেদের দল ম্যাচে হারলে বিপক্ষ দলের খেলোয়ারদের গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে, ট্রাক থেকে অতি আনন্দে লাফ দিয়ে জীবন দিয়ে দেয়। ক্রিকেট দর্শক বেড়েছে, কিন্তু সেটা যে ফুটবল দর্শককে ছাড়িয়ে গেছে- এটা বলা যাবেনা! বরং ফুটবল বিশ্বকাপকে নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজন অন্য সব জাতীয় অনুষ্ঠানের চেয়েও বেশি ও বিস্তৃত। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী (বা সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী!) থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি আম আদমীরও ফুটবল নিয়ে কথা আছে, সমর্থন আছে, পাগলামি আছে, ছ্যাবলামি আছে!

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অথবা পাশের বুয়েট ক্যাম্পাস। সেখানে গেলে দেখবেন আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠি ও ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠি-এই প্রধান দুই গ্রুপে প্রত্যেকটি হল বিভক্ত। হলে হলে আবার কমিটিও আছে। এক সমর্থক গোষ্ঠি অন্যের চেয়ে বড় পতাকা বানানোর উন্মাদনায় ব্যস্ত। পাঁচ তলা, সাত তলা ভবনের ছাদ থেকে নীচ তলা পর্যন্ত দীর্ঘ পতাকা দেখে আপনি অবাক হবেন না! আপনি যদি কোন দল সমর্থক হয়ে থাকেন, তাহলে সুখানুভূতি কাজ করবে, আপনার সমর্থিত দল যে সেরা সেটা ভেবে নিজেই নিজেকে কয়েকটা চিমটি মারতে পারেন! বিশ্বকাপ নিয়ে পরীক্ষা পেছানোর নজির অহরহ। আর হলে হলে হাতাহাতি, তর্কাতর্কি নিয়মিত দৃশ্য। এটা অনেক সময়ই মারামারিতে রূপ নেয়।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ কেন প্রত্যেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, শপিং সেন্টার-সব জায়গাতেই সমান উন্মাদনা। প্রত্যেক সমর্থক গোষ্ঠিই তাদের প্রিয় পতাকা টাঙিয়ে রাখে তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে। প্রত্যেক ভবনে যেন ল্যাটিন আমেরিকার রাষ্ট্রনায়কদের সভা চলছে, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের! ওই সভাতে বাংলাদেশের স্থান নেই। থাকলেও চোখে না পড়ার মতো। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা বানাতে দিল খুলে খরচ করা যায়; কিন্তু দেশের পতাকা কিনতে টাকার টান পড়ে যায়।

তবে বাংলাদেশের শুধু বড় বড় পতাকা টাঙালেই দেশ উদ্ধার হয়ে যাবে, এটা মনে করিনা। তবে পতাকার ব্যাপারটা নজরে পড়ার মতো।
ফি বিশ্বকাপেই একাধিক সমর্থক মরা পড়ে ফুটবল সংক্রান্ত মারামারিতে! চাচায় ভাইস্তাকে কোপায়, বন্ধু বন্ধুকে মারে-এ মারামারির যেন শেষ নেই।

যারা ব্রাজিল সমর্থন করে, তারা মনে করে আর্জেন্টিনা বলতে কোন দল নেই। আবার যারা আর্জেন্টিনা সমর্থন করে, তারা মনে করে আর্জেন্টিনা ছাড়া অন্য সব দল ফুটবল খেলতে পারেনা, কুতকুত খেলে! বাংলাদেশে ব্রাজিল সমর্থকরা জরিপ করে দেখে যে, দেশে ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আবার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জরিপে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংখ্যা সব দলের সমর্থকদের যোগফলের চেয়েও বেশি!

আর কত পাগলামি, কত গল্প, উপগল্প(!), রূপকথা যে বানায় এক একজন দল সমর্থক, সে আর নাই বা বললাম! শুধু চোখ কান খুললেই মোড়ে মোড়ে অহরহ কত রকম গল্প ও ফুটবল বিশ্লেষণ শোনা যাবে যার কথা শুনলে বিশ্বখ্যাত ফুটবল বিশেষজ্ঞরা আত্মহত্যা করবেন কিংবা হাসতে হাসতে হার্ট অ্যাটাক করবেন!

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের দিকে তাকালে যেন মনে হয়, এক একটা মানুষ যেন লক্কর ঝক্কর লোকাল বাস; অনেক কষ্টে, টেনে হেঁচড়ে নিজেকে বয়ে বেড়াচ্ছে এই দুনিয়ায়। এমন স্বাস্থহীন, এমন দুর্বল, এমন আবেগী মানুষ আমরা পৃথিবীর আর কোথায় পাবো, বাংলাদেশ ছাড়া! এরা অপুষ্টিতে ভোগে সারাজীবন, এরা ব্যবসার আগে শেখে চুরি, আসলের চেয়ে ভেজালের সাথে এদের আমরণ সখ্য। এদেশের বুড়োরা সুস্থ তো নয়ই, মধ্যবয়সীরা বিভিন্ন রোগে ভোগে আর তরুণদের একটা বড় অংশই বুড়োদের চেয়েও বুড়ো!

রাজধানীসহ সকল বিভাগীয় শহর, জেলা শহর থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে তাকালে আমরা এক স্বাস্থহীন ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। অল্প বয়সেই স্থূল হয়ে বসে আসে। একঘণ্টা দৌড়ের সক্ষমতা তো দূরের কথা, পাঁচ মিনিট হাঁটলে এরা দশ মিনিট হাপায়। এরা এক মণ, দেড় মণ ওজনের কোন কিছু বহন করবে তো দূরের কথা, পাঁচ কেজি ওজনের ব্যাগ বহন করতে পারেনা। আর আমাদের বাবা-মায়েরা তাদের অতি আদরের ছেলে মেয়েদের ব্যাগ বহন করে নিয়ে যায় নার্সারি থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত!

ছয় বছর আগে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নটরডেম কলেজ দেখতে গিয়েছিলাম আমার প্রিয় বন্ধুর সাথে। কলেজ গেইটে শতাধিক মা’কে অপেক্ষারত দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! ওমা! কলেজেও কি মায়েরা ছেলেদের সাথে আসে না কি? আসলে ওই স্নেহশীল মায়েরা তাদের প্রিয় সন্তানদেরকে কলেজ থেকে বাসায় নিয়ে যাবার জন্য অপেক্ষা করছিলো! দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কলেজ বাদ দিলাম, অন্যান্য কলেজ, স্কুলগুলোতে গেলে একই দৃশ্য নজরে আসবে। রবীন্দ্রনাথের ওই আহ্বানের কথা এরা মানেনা। যদিও এরা সকালে বিকালে কয়েকবার তার নাম নেবে, তার নামে পুজো দেবে, অল্প পড়ে বা না পড়েই!

রবীন্দ্রনাথ সেই কবে মায়েদের কাছে আহ্বান রেখে গিয়েছিলেন, যেন তারা তাদের সন্তানদেরকে ভালো ছেলে করে আঁচলের নিচে বেঁধে না রাখেন।

ছেলে মেয়ের নিরাপত্তা বাবা মায়ের জন্য সব সময়ই ভাবনার বিষয়, এটা মানলাম। কিন্তু এটা করতে গিয়ে আমরা যে এক দুর্বল, পরনির্ভরশীল ভবিষ্যত প্রজন্ম উপহার দিচ্ছি, এটা ভাবার অবসর কই। ওইসব সন্তানেরা কিভাবে স্বাধীন চিন্তা করতে সক্ষম হবে, ওইসব ছেলেরা কিভাবে চ্যালেঞ্জ নিতে শিখবে, ওরা কিভাবে উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী হবে, যারা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একা একা যেতে পারেনা! ওরা কিভাবে জাতির গুরুভার বহন করতে সক্ষম হবে, যারা পাঁচ কেজি ওজনের একটা ব্যাগ বহন করতে পারেনা। ওরা কিভাবে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে পারবে, যারা পাঁচ মিনিট হাঁটলে দশ মিনিট হাপায়?

খুব মজার বিষয় এরা ফুটবল খেলা দেখে, ক্রিকেট দেখে, রেসলিং দেখে। এরা প্রিমিয়ার লীগ, লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লীগ, বুন্ডেসলিগা, অলিম্পিক ও বিশ্বকাপ দেখে। এরা রিয়াল মাদ্রিদ- বার্সা, ম্যান ইউ- চেলসি, লিভারপুল-ম্যান সিটি সমর্থন নিয়ে একে অন্যের সাথে তর্ক জোড়ে, ঝগড়া করে, হাতাহাতি করে, মারামারি করে। বিরাট কোহলির এরা বিরাট ফ্যান, আইপিএল এ এরা মাতোয়ারা, জন সিনা, রেন্ডি অর্টন, আন্ডারটেকারের রেসলিং দেখে দেখে হোম ওয়ার্ক করতে ভুলে যায়!

কিন্তু এদের পায়ে ফুটবল থাকেনা, হাতে ক্রিকেটের ব্যাট ওঠেনা, শরীরকে এরা কাজ দেয়না! এদের সব উত্তেজনা দেখাতেই আর এগুলো নিয়ে বলাতেই!

এদের বেশিরভাগেরই শরীর বুড়ো মানুষের মত, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, অভিজ্ঞতার জগত সীমিত। এরা যা খায় তা খাওয়ার কথা ছিলনা আর যা খাওয়া দরকার তাতে তাদের ভয়ানক বিতৃষ্ণা! এর মধ্যে আছে ফরমালিন আর খাদ্য দূষণের অবাধ ছড়াছড়ি। কোন খাবার যে ভেজালমুক্ত তা অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুজে পাওয়া দুষ্কর এই বাঙ্গাল মুল্লুকে!

এই দুর্বল, স্বাস্থহীন মানুষগুলো নিয়মিত উল্লাসে মাতে, উৎসব আয়োজন করে। উৎসব না থাকলে এরা সামান্য ব্যাপারেও উৎসব আয়োজন করে ফেলতে পারে। এরা বারো মাসে তেরো পার্বন নিয়ে আপ্লুত। ধার দেনা করে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এরা উৎসব আয়োজন করবে। একদিন দেদারছে খরচ করে সারাবছর বা সারাজীবন ঋণের ঘানি টানতে দ্বিধা করবেনা এরা।

দল সমর্থনে দোষের কিছু নেই, উৎসব আয়োজনেও দোষের কিছু নেই। বরং এর প্রয়োজনীয়তাও কম নয়। আমাদের মানসিক সবলতা রক্ষায়, সামাজিক ঐক্য-সংহতি বজায় রাখা ও জাতীয় সংস্কৃতি নির্মাণে উৎসব আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু শুধুই উৎসব আয়োজন এবং এর আধিক্য লাভজনক নয়। কর্মযজ্ঞ নয়, সৃষ্টিশীল কাজে আত্মনিয়োগ নয়, কেবল দল সমর্থন আর উৎসব আয়োজন আমাদের কর্মশক্তিকে কমিয়ে দিচ্ছে।

হয়তো আপনি পাড়ার গলিতেই চায়ের দোকানে এক হাড্ডিসার, হাঁটুভাঙ্গা লোককে ক্রিকেট বোদ্ধার মত কথা বলতে দেখবেন। উনি হয়তো দেদারসে উপদেশ বিলাচ্ছে শোয়েব আখতারের, ‘এভাবে ইয়র্কার দেয়া উচিত ছিল।’

আবার হয়তো কোন এক স্কুল ছাত্র বিশাল বার্গার খেতে খেতে হাপাতে হাপাতে রেসলিং দেখছে আর জন সিনার পরাজয়ে চোখের জলে বার্গার ভেজাচ্ছে! আর চায়ের দোকানী বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে স্পিন বল শেখাচ্ছে। দেখা যাবে যে এদের অনেকেই জীবনে একবার ক্রিকেট ব্যাট হাতে নেয়নি, ক্রিকেট বল দিয়ে ফাস্ট বোলিং তো দূরের কথা ঢিল মেরেও বাইশ গজের ক্রিকেট পিচ পাড় করতে পারেনি! আর ওই রেসলিং ভক্ত ছেলেটি ৫ কেজি ওজনের ডাম্বেল হাতে নেয়া তো দূরের কথা, দশ মিনিট একটানা দৌড়ানো ইতিহাসের গবেষণার বিষয় হতে পারে।

আবার বলছি উৎসব আয়োজন, উত্তেজনায় দোষের কিছু নেই! কিন্তু কেন অন্যের খেলা দেখেই হাততালি আর সমর্থন নিয়ে মারামারি, কেন এত ক্রিকেট আর ফুটবল বিশেষজ্ঞ? জাতীয় দল, ক্লাব এমনকি পাড়ার ফুটবল বা ক্রিকেট দলের ফুটবলার, ক্রিকেটার হওয়া বাদ দিলাম শুধু খেলার আনন্দে খেলা কি ভালো হতো না?

আমরা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থবান জাতি বা স্বাস্থসচেতন জাতি এটা বলার মত একজন পাগলও নাই বাংলাদেশে। কিন্তু আমাদের আবেগ সীমাহীন, বঙ্গোপসাগর-ভারত মহাসাগরের চেয়েও বেশি! আবেগ হচ্ছে এক পাগলা ঘোড়া, এর মুখে লাগাম না লাগালে এর সওয়ারীকে ছুড়ে ফেলে দেয়। আমাদের আবেগের আধিক্য আমাদের শক্তি হতে পারে যদি এর মুখে লাগাম টেনে দিতে পারি।

পুনশ্চ: আমার লেখা পড়ে বিশ্বকাপ নিয়ে যে মহাসমুদ্রের সমান বিশাল উত্তেজনা তার এক পেয়ালাও আমি কমাতে পারবোনা। এ বিষয়ে আমি পরিপূর্ণ সচেতন। তবে আমাদের চিরাচরিত উপদেশের সিলসিলা অনুসরণ করে আমিও একটা উপদেশ দেই! প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা কেনার সাথে সাথে একটা ফুটবল কিনুন। যদি ফুটবল কিনতে টাকার টান পড়ে তাহলে পতাকা ও জার্সি কেনা বাদ দিন। একটা ফুটবল কিনে খেলার চেষ্টা করুন। একটা জার্সি কিনতে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্তও খরচ হয়। পতাকার বেলাতেও এটা সত্য।

এর পাশাপাশি একটা সাধারণ ফুটবল কিনতে হয়তো দু’শত টাকা লাগে বা মোটামুটি মানের একটা ফুটবল কিনতে পাঁচশত বা এক হাজার টাকাই যথেষ্ঠ। স্টেডিয়াম মার্কেটসহ সবগুলো বড় শপিং মলে আপনি বল কিনতে পাবেন। বল কিনুন আর খেলতে নেমে পড়ুন-বাসার আঙ্গিনায়, ড্রয়িং রুমে কিংবা মধ্যরাতের গলিতে! আপনারা আমাকে এই প্রশ্ন করবেন ‘কোথায় খেলবো’, ‘কখন খেলবো’ তাই আগেভাগেই উত্তর দিয়ে রাখলাম। শহরের সবগুলো মাঠ বন্ধ হয়ে যায়নি, খেলা শুরু করে দিন পরিস্কার হয়ে যাবে! আর লাভের লাভ হবে আপনার শরীর খানিকটা ব্যায়াম করতে পারবে। আপনি শুধু হাততালি দেয়া দর্শক শ্রেণিতেই পড়বেন না বরং আপনার খেলাও দর্শক দেখবে। হউক না সে একজন বা দুজন!

আর স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বলবো নিজেদের ব্যাগগুলো নিজে বহন করতে শিখুন। ছোট ভাই বোনদেরকে নিজেদের ব্যাগ বহন করতে উৎসাহিত করুন। অল্প দূরের পথ রিকশা বা গাড়িতে নয়, হেঁটে পার হন। দশ পনের মিনিটের রাস্তা কি হেঁটে পার করার জন্য অনেক লম্বা রাস্তা? তাও আবার তরুণ-তরুণীদের কাছে! মা বাবার কাছে পতাকা আর জার্সি শুধু নয় একটা ফুটবলও আবদার করুন। খেলুন স্কুল-কলেজের ছোট মাঠটিতে!

তালি দেয়া দর্শক, ভোক্তা শ্রেণিই বাড়বে কেবল? খেলোয়ারের দরকার আছেনা? শুধু খেলোয়ার হওয়া কেন, শুধু স্বাস্থ ঠিক রাখার জন্যও তো প্রত্যেক মানুষের অল্প বিস্তর খেলা উচিত! এবারের এই বিশ্বকাপ উত্তেজনাকে সামনে রেখে নিজের শরীর থেকে খানিকটা ঘাম ঝরিয়ে নিন, নিজেকে খেলোয়ার মনে করুন। শুধু দর্শক আর অতি আবেগী দর্শক নয়।
আপনার স্লোগান বানাতেও পারেন-

sabidin“পতাকা-জার্সির সাথে সাথে
ফুটবল যাবে ঘরে ঘরে।”

লেখক, অনুবাদক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful