Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০ :: ৭ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৩ : ২৮ পুর্বাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / ‘ফুটবলের জাদুকর সামাদ’ আজও অবেহেলিত, প্রজন্ম চেনে না

‘ফুটবলের জাদুকর সামাদ’ আজও অবেহেলিত, প্রজন্ম চেনে না

মাহতাব সমুদ্র

samadসামাদ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ফুটবলের কিছু শৈল্পিক দৃশ্য ভেসে উঠে।  ফুটবলে শিল্প শব্দটার পরিচিতি যেন সামাদের হাত ধরেই। তিনি উপমহাদেশের ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি। পরিচিতি তার ফুটবলার জাদুকর সামাদ হিসেবে। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের ভুরী গ্রামে। এই গ্রামেই  ১৮৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এক নিভৃত পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘জাদুকর সামাদ’ নামে পরিচিত হলেও তাঁর পুরো নাম সৈয়দ আবদুস সামাদ। সামাদ স্বাধীন বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে জন্ম না নিয়েও ১৯৪৭ সালের দেশ-বিভাগের পর এই ভূ-খণ্ডকেই নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন । ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে যখন ‘পাকিস্তান’ ও ‘ভারত’ নামক দুটি দেশ জন্ম নিল, তখন জাদুকর সামাদ চলে আসেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত রেলওয়ে শহর পার্বতীপুরে। এরপর পুরো জীবনটাই কাটিয়েছেন এখানে।

জাদুকর সামাদ ১৯১২ সালে কলিকাতা মেইন টাউন ক্লাবে এবং ১৯৩৩ সালে মোহামেডান এ যোগদান করেন। সে সময় মোহামেডান পর পর পাঁচবার আইএফএ শিল্ড ও লীগ জয় করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর প্রদর্শন করে ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল থেকে মাত্র ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়াড়ী জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে রেলওয়ে ফুটবল টিম ছিল, সামাদ তাতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। সামাদের ২৩ বছর খেলোয়াড়ি জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা তাঁর নামের সামনে জাদুকর শব্দটি বসাতে বাধ্য করেছে। জাদুকর সামাদের কালজয়ী ফুটবল প্রতিভা ও নেতৃত্বগুণ তৎকালীন সর্বভারতীয় ফুটবল দলকে গ্রেট ব্রিটেনের মতো বিশ্বসেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছিল।

১৯৩৩ সালে সামাদের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় দল গ্রেট ব্রিটেনকে ৪-১ গোলে এবং শক্তিশালী ইউরোপীয় টিমকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল। ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে জীবনের শেষ খেলা খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের সার্ভিসেস একাদশের  বিপক্ষে। সামাদের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখে ইংল্যান্ডের তৎকালীন সেরা লেফট্ আউট কম্পটন চমকে উঠেছিলেন, ‘‘ধারণা ছিল না এমন খেলোয়াড় এ দেশে দেখতে পাবো!’’

ইংল্যান্ডের কৃতী ফুটবলার এলেক হোসি একবার বলেছিলেন: ‘বিশ্বমানের যেকোনো ফুটবল দলে খেলবার যোগ্যতা সামাদের রয়েছে।’ এই মন্তব্য থেকেই সামাদের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একবার আফ্রিকায় এক সফরের সময় ষড়যন্ত্র করে তাঁকে অধিনায়ক না-করায়, সামাদ অভিমানে দল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সামাদবিহীন সর্বভারতীয় দলটি সেবার তেমন কোনো সাফল্যই দেখাতে পারেনি। ১৯৩৬ সালে তিনি খেলার সময় মাঠে গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি আর তেমন করে খেলতে পারেননি কোনো দিনই। তাঁর আহত হওয়ার ঘটনা তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত উপমহাদেশের ফুটবল-জগতকে।

খেলার মাঠে প্রতিনিয়ত অবিশ্বাস্য ঘটনার জন্ম দিতেন সামাদ। তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল একবার ইন্দোনেশিয়ায়। সর্বভারতীয় ফুটবল samad postদল গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়ার জাভায়। খেলা চলাকালে ইন্দোনেশিয়ার বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে তীব্র শট করলেন সামাদ। বল গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলো মাঠে। বিস্মিত হলেন তিনি। গোল হলো না কেন? কিছুক্ষণ পর আবারও সামাদের তীব্র শটের বল ইন্দোনেশিয়ার গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে এল। এবার সামাদ রেফারিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন, ‘গোলপোস্টের উচ্চতা কম আছে। তা না-হলে, আমার দুট শটেই গোল হতো’  ফিতে দিয়ে মেপে দেখা গেল সত্যিই গোলপোস্টের উচ্চতা স্ট্যান্ডার্ড মাপের চেয়ে চার ইঞ্চি কম রয়েছে!

আরেকবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে বল নিয়ে সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিক্ষেপ করলেন গোলে, বল গোলে প্রবেশ না করে গোলপোস্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে বলকে আউট ঘোষণা করলে সঙ্গে সঙ্গে সামাদ তা গোল হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন। ‘আমার শটে নিশ্চিত গোল হয়েছে’। সামাদের শটের মেজারমেন্ট কোনোদিন ভুল হয়নি। গোলপোস্ট উচ্চতায় ছোট। মেপে দেখা গেল সত্যিই তাই।

ফুটবল নিয়ে সেই কিশোর বয়স থেকে অনুশীলন করতে করতে সামাদ পরিণত হয়েছিলেন ফুটবলের এক মহান শিল্পীতে। একবার খেলার আগ মুহূর্তে মাঠের চারদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ ক্রীড়া কমিটির কাছে অভিযোগ করলেন এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট বিধায় এ মাঠে আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের এমন বহু ঘটনা আজও দেশ-বিদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অগণিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়।

‘বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকের কথা, একদিন বিকেলে কলকাতার ইডেন গার্ডেনের বিপরীত দিকের ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রায় ছয় ফুট লম্বা একজন লোক। হঠাৎ তাঁর পাশে গাড়ি থামিয়ে নেমে এলেন স্বয়ং তৎকালীন বাংলার গভর্নর এবং তাঁর কন্যা। গভর্নর সোজা এগিয়ে গিয়ে আঁকড়ে ধরলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় গভর্নরের সঙ্গী-সাথীদের সবাই হতভম্ভ।  লম্বা লোকটির হাত ধরে কুশল বিনিময় করলেন। তারপর, নিজের মেয়েকে ডেকে বললেন, ‘এসো, ফুটবলের জাদুকরের সঙ্গে পরিচিত হও (Meet the wizard of football)।’ কথিত আছে, ফুটবল জাদুকর সামাদের সোনার মূর্তি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে।

দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিনা চিকিৎসায়  ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এই ফুটবলের জাদুকর মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে একবার তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তো নিঃশেষ হয়ে গেছি। আমার প্রাপ্য মর্যাদা আমি পেলাম না। আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাব সেটাই ভালো। কারো করুণা এবং অনুগ্রহের প্রত্যাশী আমি নই।’ জাদুকর সামাদের মৃত্যু আমাদের অপরাধী করে দেয়।

পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবরস্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত ও অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। তাঁর স্মরণে একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার । পার্বতীপুরে রেলওয়ে নির্মিত “সামাদ মিলনায়তন” নামের একটি মিলনায়তন আছে।

mahtab

মাহতাব সমুদ্র

সামাদকে বর্তমান প্রজন্ম চেনেনা, চিনবেই বা কি করে? সামাদকে চেনার জন্য যে উদ্যোগ দরকার তা বাফুফেরই নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকে জাদুকর সামাদের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

লেখক: সাংবাদিক,  ব্লগার ও কলাম লেখক

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful