Templates by BIGtheme NET
আজ- শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৫ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৪ : ২৫ পুর্বাহ্ন
Home / উত্তরবাংলা স্পেশাল / সীমান্তে নতুন আতংক বিষাক্ত সাপ; ২৫ দিনে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

সীমান্তে নতুন আতংক বিষাক্ত সাপ; ২৫ দিনে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু

snakরুহুল সরকার,  রাজীবপুর(কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষের মাঝে নতুন আতংক হয়ে দেখা দিয়েছে বিষাক্ত শাপের অবাধ আনাগোনা। ভারত থেকে নেমে আসা ওই সব বিষাক্ত সাপের ছোবলে গত ২৫ দিনে (২২মে থেকে ১৫জুন পর্যন্ত) শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে সীমান্তের মানুষের মাঝে সাপ আতংক বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে সীমান্তের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ওই সব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ খবর ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ জুন উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা খেওয়ার গ্রামে ফজলুল হকের স্ত্রী সাজেদা বেগম (৩৫) এবং ৯ জুন সন্ধ্যা রাতে উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা শিবেরডাঙ্গী গ্রামে স্কুল ছাত্র মিষ্টার আলী (১৭) বিষাক্ত সাপের কামড়ে মৃত্যু ঘটেছে। নিহত মিষ্টার আলী রাজীবপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামের আবুল কালামের পুত্র। এর আগে গত ২২ মে একই দিনে বিষাক্ত সাপের ছোবলে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলো রৌমারী উপজেলার রতনপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের পুত্র রাসেল মিয়া (১৬), কুটিরচর খানপাড়া সীমান্তের আজিম উদ্দিনের শিশু কন্যা আঞ্জুয়ারা খাতুন (৯) ও পাখীউড়া খাসপাড়া গ্রামের আবুল কালামের কন্যা গার্মেন্টস কর্মী কল্পনা খাতুন (২০)। এই ৩ জনই ক্ষেতে ধান কুড়াতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের মুখে পড়ে বলে জানা গেছে তাদের পারিবারিক সূত্রে।

বিভিন্ন সীমান্তে সাপের কামড়ে আহত কয়েকজনের নাম ও পিতার নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলো ডিগ্রিরচর সীমান্তের রহম আলীর পুত্র ফিরোজ হোসেন (১৩), ইটালুকান্দা সীমান্তের আব্দুল গনির পুত্র জাকির হোসেন (১৫), একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৮), গয়টাপাড়া সীমান্তের সওদাগার (৩৫) ও আবুল কালাম (৪৮)। উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, সীমান্তে সাপের কামড়ে আহত হয়েছে এমন ১০/১৫ জনের মতো হবে। যা আমার ইউপি মেম্বার ও সীমান্ত ঘেঁষা মানুষের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

রৌমারী চান্দারচর সীমান্তের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম জানান, ইদানীং প্রায়ই সাপের কামড়ে মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সীমান্তে এ ধরনের সাপের বিচরণ দেখা যায়নি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে আর বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভারতের গাড়ো পাহাড়ের বিষাক্ত সাপ নেমে আসছে বাংলাদেশে। কেননা সীমান্তের অসংখ্য স্থানে পাহাড় থেকে পানি নেমে আসার সেতু, কালভার্ড এবং জিঞ্জিরাম ও কালো নদী রয়েছে। পানি নেমে আসার সঙ্গে সাপও নেমে আসছে। কুটিরচর খানপাড়া গ্রামের কৃষক সাবের আলী বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চাকে নিয়ে মহা বিপদে আছি। কখন যেন সাপের মুখে পড়ে। সীমান্ত ক্ষেতে কাজ করতে যেতেও ভয়।’

সীমান্ত ঘেঁষা গয়টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড় জঙ্গল, ঝোপঝাড়ে সাপের বংশ বিস্তার হয়। আর পাহাড়ের বিষাক্ত সাপ পানির সঙ্গে বাংলাদেশে নেমে আসে। তিনি বলেন, ‘বেশকিছু দিন থেকে সীমান্ত ঘেঁষা ক্ষেতের ফসল তুলতে সাপের মৃুখে পড়ছে কৃষক। প্রায় প্রতিদিনই সাপের মুখ থেকে ফিরে এসে ওই কৃষক গ্রামে গল্প করছে।’ চরবন্দবেড় সীমান্তের আজিবর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টির হওয়ার কিছুক্ষণ পর পাহাড়ের ঘোলা পানি ও জঙ্গল ভেসে আসে বাংলাদেশে। এতে প্রায়ই বড় বড় সাপের দেখা মেলে। সীমান্ত বাংলাদেশ জমিতে ধান কাটাসহ অন্যান্য কাজে গেলে এখন সবার হাতে লাঠি নিয়া যেতে হচ্ছে যাতে সাপের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান কবির জানান, গত এক মাসে প্রায় ২০/২৫ জন সাপে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে এসেছিল। তাদের মধ্যে ৪জন মারাও গেছে। যারা সাপের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসছে তাদের সবার বাড়ি সীমান্ত ঘেঁষা। এ কারণে ধারনা করা হচ্ছে ভারতের গাড়ো পাহাড় থেকে নেমে আসা সাপের বিষাক্ত সাপও রয়েছে।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful