Templates by BIGtheme NET
আজ- রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ :: ১০ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৫ : ৩১ পুর্বাহ্ন
Home / খোলা কলাম / মানুষ কি শুধু ঢাকায়-ই বসবাস করে?

মানুষ কি শুধু ঢাকায়-ই বসবাস করে?

chikরমজান সামনে রেখে রাজধানীর সর্বত্র ফরমালিনবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলেও দেশের বেশির ভাগ এলাকা থেকে যাচ্ছে নকল-ভেজাল আর ফরমালিনের দখলে। ছয় বিভাগীয় সদরসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোথাও ফরমালিনবিরোধী সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কোথাও জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইর উদ্যোগে বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ এলাকাতেই জনবল সংকট, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা, সর্বোপরি উদ্যোগের অভাবে দেশব্যাপী ফরমালিনবিরোধী অভিযান সফল না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বারবার ফরমালিন ব্যবহারবিরোধী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, দেশের সর্বত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ফরমালিনযুক্ত খাদ্যপণ্য ধ্বংস করা হবে। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরমালিন ব্যবহার রোধসহ খাদ্যপণ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বরাবরই বিএসটিআই এগিয়ে থাকে। কিন্তু সংস্থাটির যাবতীয় উদ্যোগ আয়োজন কেবল রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অন্যান্য বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএসটিআইর আদৌ কোনো কার্যক্রম চলে কি-না, তা জনসাধারণ বুঝতেও পারে না।

বিএসটিআইর ফরমালিনবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে জানা গেছে। ভেজালরোধী অভিযান বা ফরমালিনবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএসটিআইকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নিজেদের পদস্থ কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালি করতেই বেশ সময় ক্ষেপণ করতে হয়। জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেন তো যথাসময়ে পাওয়া যায় না পুলিশের সহায়তা। আবার পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট সব মিললেও গাড়ি সংকটে অভিযান আটকে পড়ার নানা নজির সৃষ্টি হয় অহরহ। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ফরমালিনবিরোধী অভিযানের বেশির ভাগই প্রচার ও হুঁশিয়ারির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ক্রেতাদের অভিমত, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরগুলো হঠাৎ কোথাও কিছু সময়ের জন্য অভিযান পরিচালনা করলেও তা বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় ফরমালিনবিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদের কঠোর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর ৪৯টি থানাসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সবগুলো ইউনিট একযোগে ফরমালিনবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। আসন্ন রমজান মাসে ফরমালিনমুক্ত ঢাকা উপহার দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার আপসহীন ভূমিকায় মাঠে নামায় এরই মধ্যে সুফল পাচ্ছেন ক্রেতাসাধারণ। এদিকে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করা হবে বলেও চরম ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ। রাজধানীর স্টামফোর্ড কলেজ আয়োজিত আন্তর্জাতিক রক্তদাতা দিবস ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় গতকাল তিনি এ মন্তব্য করেন। বেনজীর আহমেদ ফল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কেউ ফরমালিন ব্যবহার করবেন না। যদি ফরমালিন ব্যবহার করেন তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দিতে বাধ্য হব।’ এ সময় তিনি সীমান্তে ফরমালিন সরবরাহকারীদের উদ্দেশে বলেন, যারা দেশে অবৈধভাবে ফরমালিন সরবরাহ করছেন, তারা ওই পেশা থেকে সরে আসুন। নইলে আপনাদের বিরুদ্ধেও হত্যাচেষ্টা মামলা করা হবে।’ ঢাকায় পাঠানো ফলমূল, খাদ্যপণ্য ফরমালিযুক্ত কি না তা পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যে প্রবেশপথগুলোতে পুলিশের আটটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেসব চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা রাতভর ঢাকামুখী পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। অবশ্য একশ্রেণীর ব্যবসায়ী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে চেকপোস্টের অদূরে ফলমূল, সবজির বস্তা ট্রাক থেকে নামিয়ে তা যাত্রীবাহী বাসে তুলে ঢাকার বাজারে সরবরাহ দিতে শুরু করেছেন। এ অভিনব কৌশলে রাজধানীর বাজারে ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত খাদ্যপণ্য প্রবেশ করলেও তা পরিমাণে খুবই কম বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

উৎসমূলে আঘাতের পরামর্শ : বাজারে মৌসুমে ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ক্রেতাদের। তাদের অভিমত, শুধু বাজারে অভিযান চালালেই হবে না, কোথায় কীভাবে কারা ফরমালিন মেশায়, কারা জোগান দেয়, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ফরমালিন আমদানিকারকদের মজুদের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে। অনুমতির চেয়ে বেশি মজুদ থাকলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তা সংগঠন ভলান্টারি কনজুমারস ট্রেনিং আন্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক খলিলুর রহমান সজল বলেন, দেরিতে হলেও ফরমালিনবিরোধী এ অভিযান সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কোথায় ফরমালিন মেশানো হচ্ছে সেখানে যদি সরকারের বিভিন্ন সংস্থা হস্তক্ষেপ করে, তাহলে পরিস্থিতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বর্তমানে ফরমালিনবিরোধী যে অভিযান প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচালিত হচ্ছে তা শুধু ‘চমক’ দেখানোর জন্য হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, এ অভিযানে আংশিক সফলতা এলেও ফরমালিনবিরোধী ফলপ্রসূ অভিযানের জন্য এ ক্ষতিকর রাসায়নিকের উৎস চিহ্নিত করে, যেসব স্থানে এ ফল উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট সহযোগে অভিযান চালাতে হবে। কৃষকদের এর ব্যবহার সম্পর্কেও নিরুৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফরমালিনসহ অন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে সরকারের আইন প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধুমাত্র ঢাকাকেন্দ্রিক না করে একই সময়ে পুরো দেশে ফরমালিনবিরোধী অভিযান চালাতে হবে। তা না হলে যেসব স্থানে অভিযান হচ্ছে না সেখানকার ক্রেতাদের কাছে বিষাক্ত ফলগুলো পৌঁছে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার বাইরে যেসব প্রত্যন্ত এলাকা ও মফস্বলে ফরমালিনবিরোধী অভিযান হচ্ছে না, সেখানে ফরমালিনযুক্ত ফলমূল তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তাদের মতে, ফলমূলে ফরমালিন, কীটনাশক ও সার ব্যবহারে সরকারের কঠোর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কৃষকদের অর্গানিক সার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। বিদেশ থেকে ফরমালিনসহ অনান্য ক্ষতিকর কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া ফরমালিনের উৎস শনাক্ত করতে হবে। ফরমালিন ব্যবহারে যাদের বৈধতা আছে তাদের কাছ থেকে কীভাবে ফরমালিন অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায় তাও খুঁজে বের করতে হবে। ফরমালিন আমদানি ও এর ব্যবসায় সরকারদলীয় লোকজন যাতে জড়িত না থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে রাজধানীতে যে প্রক্রিয়ায় ফরমালিনযুক্ত ফল রাস্তার ওপর ফেলে ধ্বংস করা হচ্ছে, তা যথেষ্ট পরিবেশসম্মত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। তারা জানান, রাস্তায় না ফেলে এ ফলগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা উচিত।

সম্প্রতি প্রশাসন পরিচালিত ফরমালিনবিরোধী অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ_রাজউকের পরিচালক (আইন) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ্-দৌলা বলেন, ‘ডিএমপির ফরমালিনবিরোধী উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও এতে পুরোপুরি সফলতা আসবে বলে আমি মনে করি না। ফরমালিনের প্রসার রোধে মৌসুমি ফলের সময়কাল শুরুর আগে থেকেই কঠোরভাবে কীভাবে কোথায় ফরমালিন মেশানো হচ্ছে তা শনাক্ত করা উচিত। যদি এটি করা হয় তবে বিশাল পরিমাণ ফরমালিনযুক্ত ফল ধ্বংসের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের প্রতি সাধারণের যে আস্থার সংকট রয়েছে, তাও কেটে যাবে।’ এ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, রাজধানীর বাইরের জেলা-উপজেলাগুলোতে বিচ্ছিন্নভাবে ফরমালিনবিরোধী কিছু অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু অভিযানটি ফলপ্রসূ করতে হলে সারা দেশে একসঙ্গে ফরমালিনবিরোধী অভিযান শুরু করা উচিত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মহাসচিব ড. মো. আবদুল মতিন বলেন, বর্তমানে রাজধানীতে ফরমালিনবিরোধী যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তা ‘চমক’ দেখানোর জন্য করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আংশিক সফলতা এলে আসতেও পারে। কিন্তু সমস্যার সমাধানে ফরমালিনের উৎস সম্পর্কে জানতে হবে। বিশেষ করে যেসব স্থানে ফল বেশি উৎপাদিত হয়, সেখানে ফরমালিনের ব্যবহার আটকাতে হবে। কৃষকদের ফরমালিনের ব্যবহার রোধে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পারসিসট্যান্ট অর্গানিক পলিউট্যান্ট নামে এক ধরনের পদার্থ আছে, যা মানুষ ও উদ্ভিদে প্রবেশ করলে আর বের হয় না। আর এরই অন্তর্গত ডিডিটি, এলড্রিনসহ ১২টি পদার্থ, যা ‘ডার্টি ডজন’ নামে পরিচিত, তা ব্যবহারের জন্য সারা বিশ্বে নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে চোরাইপথে ভারত থেকে এ ক্ষতিকর পদার্থগুলো আমদানি করে সার হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ কথা জেনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ফরমালিনের অবাধ ব্যবহার রোধে খোলাবাজারে এর বিক্রি বন্ধে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া রাজধানীর মিটফোর্ডসহ রাসায়নিক পদার্থ বিক্রির দোকানে ফরমালিন বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এদিকে আবু সাঈদ নামে রংপুরের পৌর বাজারের এক ভোক্তার সাথে কথা বললে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ কি শুধু ঢাকায়ই বসবাস করে? সারাদেশের সবাই কি মানুষ না? শুধু মাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক অভিযান পরিচালনা করে কোন দীর্ঘমেয়াদী ফল আসবে না। বিডি-প্রতিদিন

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful