Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১১ : ১৪ অপরাহ্ন
Home / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / মোনাজাতউদ্দিন : গ্রামীণ সাংবাদিকতার হলধর

মোনাজাতউদ্দিন : গ্রামীণ সাংবাদিকতার হলধর

রিশিত খান কিন্তু কে যেন কাঠগড়ায় বন্দি আসামি সোমনাথকে পরামর্শ দিচ্ছে, স্বীকার করো, অপরাধ স্বীকার করো। যারা স্বীকার করে তাদের মৃত্যুদণ্ড হয় না।’শংকর ॥ মরুভূমি [পৃষ্ঠা-১৯২]

monajat uddinপ্রয়াত চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন তার বহুল আলোচিত গ্রন্থ ‘সংবাদ নেপথ্য’র ভূমিকার শুরুটা করেছেন এমন একটি উক্তি দিয়ে। হ্যা, তিনি মোনাজাতউদ্দিন বাংলাদেশের গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। পথ থেকে পথ, জনপদ থেকে জনপদ, গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, শীত, গ্রীষ্মকে উপেক্ষা করে দিনের পর দিন ঘুরে ঘুরে যে মানুষটি ওই সব এলাকার অভাবী, নিরন্ন মানুষের সুখ-দুঃখের কথামালায় দৈনিক পত্রিকায় পৃষ্ঠা সাজিয়েছেন তিনি মোনাজাতউদ্দিন।

যে প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র ভাঙনের অসংখ্য ভয়াবহ উপাখ্যান তিনি রচনা করেছিলেন সেই নদীই তাকে কেড়ে নিয়েছে ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সালে। তিস্তার কালাসোনার টার্নিং পয়েন্টে সলিল সমাধি ঘটে এই অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কথক সৈনিকের। তার তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনের পরিসমাপ্তি হয় কর্তব্যরত অবস্থায়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েই। এমন করুণ বেদনাদায়ক অবস্থার মধ্য দিয়েই।

মোনাজাতউদ্দিন প্রকৃতই একজন সাংবাদিক ছিলেন। তৃণমূলের খবরও যে জাতীয় সংবাদের গুরুত্ব পেয়ে উঠে আসতে পারে পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায়, গুরুত্বপূর্ণ বা দৃষ্টিনন্দন কোনো স্থানে, মোনাজাতউদ্দিনই সেটি প্রথম প্রমাণ করেছেন। এসব সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পথ থেকে পথে ঘুরেছেন সংবাদ নেপথ্যের খোঁজে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দারুণ অনুসন্ধিৎসু। অসুস্থ, ক্লান্ত, শ্রান্ত শরীর নিয়েও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন এক ‘সংশপ্তক’। একজন সমাজ বিজ্ঞানীর দৃষ্টি থাকে শুধু আপন অধীত বিষয় প্রয়োগ করে অবস্থার বিশ্লেষণ। সেখানে মোনাজাতউদ্দিন মানুষের জীবনের সমগ্রটা দেখেছেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, সমাজবিজ্ঞানী হিসেবেও নয়, অঙ্গ ব্যবচ্ছেদ করা জীবন নয়, সচল প্রবাহিত জীবন ধারাকে তুলে ধরেছেন নানা সংবাদ প্রতিবেদনে। তার আটটি সংবাদ বিষয়ক গ্রন্থে। মোনাজাতউদ্দিনের অনন্যতম এবং বিশিষ্টতা বোধ করি এখানেই।

মোনাজাতউদ্দিন একজন মফস্বল সাংবাদিক থেকে হয়ে ওঠেন চারণ সাংবাদিক। দৈনিক সংবাদের একজন মফস্বল সাংবাদিক হয়েও তিনি সাংবাদিকতায় নতুন যে ধারার প্রবর্তন করেন তা একদিনে হয়ে ওঠেনি। মোনাজাতউদ্দিন ১৯৪৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশক থেকে তার সাংবাদিক জীবনের শুরু। তখন কাজ করতেন সেকালের সান্ধ্য দৈনিক ‘আওয়াজ’-এ। ১৯৬৬ সালে যোগ দেন দৈনিক ‘আজাদ’ পত্রিকায়। সত্তরের দশকের গুরুতে তিনি দৈনিক ‘সংবাদ’-এ যোগ দেন উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি হিসেবে। এ সময় তার কর্মক্ষেত্র ছিল উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বিশাল জনপদ। তিনি গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে মানুষের সুখ-দুঃখের সচিত্র বর্ণনা তুলে ধরেন পত্রিকার পাতায়। মফস্বলের সংবাদ পত্রিকার ভেতরের পৃষ্ঠায় অযত্নে ছাপা হওয়াই যেখানে সাধারণ নিয়ম, সেখানে সব নিয়মকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তার পাঠানো সংবাদ ছাপা হতে থাকে প্রথম বা শেষ পৃষ্ঠার দর্শনীয় স্থানে।

এজন্য বাংলাদেশের অতিপ্রজ সংবাদপত্র জগতের প্রয়াত সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। আরাম-আয়েশ বাদ দিয়ে অমানুষিক শ্রম আর হৃদয় দিয়ে তিনি পল্লি মানুষের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একই সঙ্গে গ্রামের নিরীহ, অবহেলিত মানুষগুলোর সারল্য, তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার দৃঢ়তা লোক চক্ষুর অন্তরালে গ্রাম জীবন যে নতুন প্রকাশের আলোয় ব্যক্ত করেছেন। তার রচিত ‘আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘কানসোনার মুখ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ দলিল’, ‘পায়রাবন্দের শেকড় সংবাদ’ প্রভৃতি সংবাদ প্রতিবেদনের পাঠকপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য।

মোনাজাতউদ্দিন সম্পর্কে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ কামরুল হাসান মঞ্জু বলেছেন, ‘তিনি যেমন বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে, প্রথাগত সাংবাদিকতার গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিলেন, তেমনই পরিবেশনের ক্ষেত্রেও সাংবাদিকের নৈর্ব্যক্তিকতার বিষয়টি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বড় বেশি অনুভূতির জোয়ার এত প্রবলভাবে এসেছে যে কখনও কখনও তার মানবিক  আবেদনে ভরা প্রতিবেদনগুলোকে চিত্রময় পদ্য কাব্য বলে মনে হয়। মোনাজাতউদ্দিন মানুষটি ছিলেন বড় বেশি আবেগপ্রবণ। দুঃখী মানুষকে তিনি ভালবাসতেন। সমাজ যাদের বঞ্চনা করেছে, যাদের ছুড়ে ফেলে দুঃখ, দুর্দশা, আর্তি প্রকাশ করেছেন গভীর আন্তরিকতায়। [সত্য গল্পের সংবাদ লেখক : মোনাজাতউদ্দিন : কামরুল হাসান মঞ্জু ॥ মেঠোবার্তা-১৬.০১. ৯৮]।

দীর্ঘ তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সব সংবাদ হয়ত তিনি লিখতে পারেননি। লেখার পরেও অনেক সংবাদ ছাপা হয়নি। সেসব অভিজ্ঞতা, সংবাদের নেপথ্য কাহিনী এবং জননন্দিত সংবাদ প্রতিবেদনের সংগ্রহ স্থান পেয়েছে তার ‘পথ থেকে পথে’ (১৯৯১), ‘কানসোনার মুখ’ (১৯৯২), ‘সংবাদ নেপথ্য’ (১৯৯২), ‘নিজস্ব রিপোর্ট’ (১৯৯৩), ‘পায়রাবন্ধের শেকড় সংবাদ’ (১৯৯৩), ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গ্রামীণ পর্যায় থেকে’ (১৯৯৫), ‘চিলমারীর এক যুগ’ (১৯৯৫), ‘লক্ষ্মীটারী’ (১৯৯৬), ‘কাগজের মানুষ’ (১৯৯৭) প্রভৃতি গ্রন্থে।

monajatমোনাজাতউদ্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য তার দীর্ঘ তিন দশকের সাংবাদিকতায় অসংখ্য প্রতিবেদনের মধ্যে ‘কানসোনার মুখ’ শীর্ষক সিরিজ প্রতিবেদনটি যা পরবর্তীতে ‘কানসোনার মুখ’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে দেশের বরেণ্য সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত লিখেছিলেন, ‘গ্রাম আমাদের নিকট অচেনা। রোমান্টিক ধারা ও সমাজ সচেতনতার দাবিদারদের কথিত বাস্তব ধারা ও সমাজ কোথায় বাংলাদেশের গ্রামের প্রকৃত পরিচয় চোখে পড়ে না। রোমান্টিক ভাষায় বাংলাদেশের গ্রাম এখনও ‘শান্তি নীড়’ যেখানে নিঃশব্দে অরুণোদয়ে পাখিরা চঞ্চল হয়ে আপন কুলা ছেড়ে বেরিয়ে আসে। আর কথিত বাস্তববাদীরা দেখেন কালো কৃষকদের দল ছুটে আসছে নগরের দুর্ভেদ্য তোরণ লক্ষ্য করে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে। দুটোই মোহময় স্বপ্ন। তাদের জীবনের সুখ-দুঃখকে অন্তরঙ্গভাবে না চিনে আমরা তাদের একজন হতে চাই তখন তারা হয়ে ওঠে অচেনা।

পল্লী উন্নয়ন আর গ্রাম বাঁচানোর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের একটি প্রতীকী আলেখ্য, ‘কানসোনার মুখ’। শিশুর যেমন বর্ণ পরিচয় ঘটে, তেমনই মোনাজাতউদ্দিনের ‘কানসোনার মুখ’ আমাদের গ্রাম জীবনের বর্ণ পরিচয়ে হাতে খড়ি দিয়েছে।’ মোনাজাতউদ্দিন সম্পর্কে দেশের বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্তের মূল্যায়ন ছিল এমনই। শুধু ‘কানসোনার মুখে’ই নয় সত্য ঘটনা-নির্ভর তার প্রতিটি গ্রন্থে বার বার ভেসে ওঠে সমাজের নিম্নবর্গ, ক্ষমতাহীন মানুষের মুখ। উপর থেকে তিনি সাদামাঠাভাবে কোনো কিছুকে প্রতিফলিত করেননি তার সংবাদে। তিনি গেছেন ঘটনার ভেতরে। গেছেন গ্রামীণ জীবনের আনাচে-কানাচে একেবারে গভীরে। টেনে বের করেছেন সমাজের শেকড়-বিচ্ছিন্ন রাজনীতির গলিত নাড়িভুঁড়ি। আমাদের রাজনীতির অন্ধকার দিকগুলোকে ফোকাল পয়েন্ট ফেলে দুর্দান্ত সাহসের সঙ্গে তিনি মুখোশ উন্মোচন করেছেন ভণ্ড রাজনীতিকদের। সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন ভবঘুরের মতো। সময়মত নাওয়া-খাওয়া নেই, উস্কোখুস্কো চুল, ময়লা-খদ্দরের পাঞ্জাবী, জিন্স, কাঁধে ক্যামেরা এবং অতি সাধারণ চটি পরে চষে বেড়িয়েছেন গ্রাম বাংলার বিস্তীর্ণ জনপদের দুঃখী, অভাবী, না খাওয়া, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, ক্ষমতাহীন মানুষের দ্বারে দ্বারে। মোনাজাতউদ্দিনের এই নিরলস পরিশ্রমই তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বড়মাপের সাংবাদিকের। বড়মাপের মানুষের।

তিনি অশোকা ফেলোশিপ অর্জন করেছেন। পেয়েছেন ‘কানসোনার মুখের’ জন্য বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘ফিলিপস’ পুরস্কার (১৯৮৭)। এছাড়াও পেয়েছেন জহুর হোসেন চৌধুরী স্বর্ণ পদক (১৯৮১) এবং বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার। সুদীর্ঘ ৩৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে তার কাজের যথার্থ মূল্যায়ণও হয়েছে তার জীবদ্দশাতেই। তিনি পেয়েছিলেন অগণিত মানুষের ভালবাসা। মোনাজাতউদ্দিন শুধু সাংবাদিকতাই নয়, নাটক ও সাহিত্যচর্চার দিকেও তার ঝোঁক ছিল প্রবল। চিরায়ত লোককাহিনী ‘চন্দ্রবতী’র নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। ঢাকা পদাতিক নাট্যগোষ্ঠী ওই নাটকের ১৩টি প্রদর্শনীও করেছে।

এক সময় পাঠ্যপ্রিয় বেশ কিছু ছড়াও লিখেছেন তিনি, যা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার মৃত্যুর এক বছর পর প্রকাশিত ‘লক্ষ্মীটারী’ সংবাদ-গদ্যে রচিত একটি অনুপম সাহিত্যকর্ম। সাংবাদিকতার পরিভাষায় একে হয়তো রিপোর্টাজ বলা যেতে পারে। তিস্তাপারের এক সাধারণ জনপদের দুঃখ গাঁথা রচনা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ধিক্কার দিয়েছেন প্রশাসন ও নগর সভ্যতাকে। ‘পচা-গলা-রং লেপা’ সভ্যতার বিরুদ্ধে তিনি ক্রোধে-ক্ষোভে উচ্চারণ করেছেন, ‘আগামী প্রজন্মের কাছে তোমাকে নিশ্চয়ই জবাব দিতে হবে। বিপুল খাদ্য-খাবারের পাশে দাঁড়িয়ে থেকেও নমরুদ্দিনেরা কেন হয়েছে কংকাল? কেন সে আজও লেংটি পরে থাকে? জবাব দিতে হবে, কেন হাসিমুদ্দিন তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না? কেন প্যানকাটু বর্মনের কর্মের হাত পরিণত হয় ভিক্ষুকের হাতে? কেন চিকিৎসা পায় না খাউজানি-সবেরুদ্দিন-আনোয়ারা? কেন ভাগ্য-বিশ্বাসী হয়ে থাকে আজিবর? নিশ্চয়ই এর জবাবদিহি একদিন তোমাকেই করতেই হবে ওপর-সাদা ভেতর-কালো হে সভ্যতা।’[মোনাজাতউদ্দিন, লক্ষ্মীটারী, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা-১৯৯৬, প্রচ্ছদ বক্তব্য]।

সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তিনি যে প্রতিভা ও নতুন ধারার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তা স্মৃতিতেই শুধু নয়, পেশাগত সাংবাদিকদের জীবনে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। মা, মাটি ও মানুষের উপলব্ধিকে কাজে লাগাতে গিয়ে গ্রাম পর্যায় থেকে যার পেশা শুরু, উত্তর জনপদের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যার গড়ে উঠেছিল এক নিবিড় সম্পর্ক, পথ থেকে পথই ছিল যার একমাত্র ঠিকানা, নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যিনি ঝড়, বন্যা ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের দুর্দশার চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রমাণ করে গেছেন তিনি মানুষ, নদী ও গ্রামের এক চারণ সাংবাদিক ছিলেন। যার কোনো বিকল্প নেই। ডসটয়েসকি সম্পর্কে এক সমালোচক লিখেছিলেন,‘তার মত করে মানুষের বেদনা আর কে অনুভব করেছে।’

মোনাজাতউদ্দিনের মত করে বাংলার গ্রাম জীবনের বাঙময় রিপোর্ট আর কে করেছেন? এই সর্বজনমান্য সত্যের চেয়ে বড় মনে হয় সেই একই উক্তি, ‘তার মত এমন নিবিড়ভাবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর কে অনুভব করতে পেরেছেন ?’ সংবাদ নেপথ্যের সুবাদে তিনি পৌঁছে গেছেন আমাদের অসুস্থ সমাজ দেহের রোগের গভীরতায়। আলো ঝলমলে চৌকস জীবনের আড়ালে যে ফাঁকিবাজি কিছুই তার দৃষ্টি এড়ায়নি।

‘কানসোনা মুখ’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সন্তোষ গুপ্তের ভাষায় : ‘কানসোনার কাজল রেখা শিশু শিক্ষার পাতায় যে স্বপ্ন খুঁজেছিল সেই স্বপ্নের আলোছায়ার জগৎ স্পর্শ করেছি কখন তা জানি না। কানসোনার গ্রাম ১৯৮৭-এর প্রদীপের আঁধার থেকে এখন বিদ্যুৎ আলোয় ঝলমল, তার পেছনে প্রতিবেদনের ফসল আছে। মোনাজাতউদ্দিন সেখানে হলধর।’ লেখক : গণমাধ্যমকর্মী

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful