Templates by BIGtheme NET
আজ- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ :: ১৪ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ৭ : ২১ পুর্বাহ্ন
Home / নীলফামারী / অর্থ আত্নসাৎ: ফেঁসে গেলেন নীলফামারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলার

অর্থ আত্নসাৎ: ফেঁসে গেলেন নীলফামারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলার

coroptionইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী ১৯ জুন॥ নীলফামারী সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান প্রাথমিক দ্যিালয়ের নৈশ প্রহরী নিয়োগের ব্যাপারে মোবাইল ফোনে হুমকী দিয়ে এক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেন,‘হিটলারুজ্জামান সম্পর্কে আপনার জানা নেই, একটু জাইনা নেন, এর ব্যাকগ্রাউন্ড কিন্তু খুবই খারাপ। এ আওয়ামী লীগ করেছে, বিএনপি করেছে, জামায়াত জাতীয় পাটিও করেছে। উপর থেকে সব নেতাদের সাথে আমি আছি।’

মাত্র তিন মাস আগে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে অধনস্ত এক কর্মকর্তাকে এভাবে শাসিয়ে অবশেষে নিজেই ফেঁসে গেলেন সরকারী অর্থ তছরুপের দায়ে। এমন তছরুপের ঘটনা জানা জানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তছরুপকৃত অর্থ ফেরৎ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন অনিয়ম দূর্নীতির। এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগ মতে, নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান চলতি বছরের ১৮ মার্চ নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক বদলী, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভম্যান্ট প্রজেক্টের (শ্লিপ) অর্থ, উপবৃত্তি, অফিসের অনুসাঙ্গিক খরচ, কম্পিউটার মেরামত ও সরঞ্জাম ক্রয়সহ অন্যান্য খাতের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

ওই শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রের হিসেব মতে, ইফতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার শিক্ষক কর্মচারীদের সম্মানী ভাতার এক লাখ নয় হাজার ৮৩৬ টাকা শিক্ষকদের প্রদান না করে আত্মসাৎ করেছেন। উপজেলায় ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভম্যান্ট প্রজেক্টের (শ্লিপ) বরাদ্দ হওয়া প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার টাকা বিতরণের সময় ১৬৭টি বিদ্যালয়ের কাছে ভ্যাটের নামে চার লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করে বরাদ্দের সারে চার শতাংশ হিসেবে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৭০০ টাকা ভ্যাট জমা করে আত্মসাৎ করেনে এক লাখ ৭২ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি নিজ খেয়াল খুশিমত ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারী অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। কোন ধরণের দড়পত্র আহ্বান ছাড়াই প্রাথমি সমাপণী পরীক্ষার খাতাসহ অব্যবহৃত সরঞ্জাম বিক্রী করে অর্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এব্যাপারে ওই কর্মকর্তার অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিণ সুলতানা বলেন, ‘ব্যাংক হিসাবের চেকবই তাঁর নিজের কাছে রাখতেন। চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব অনিয়ম করলেও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা ছিলনা অধনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের। তিনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) কর্মস্থল থেকে বদলী হলে অধনস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব অনিয়মের অভিযোগ করলে বিষয়গুলো ধরা পড়ে।’

গত ১৮ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান সম্প্রতি বদলী হয়েছেন মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলায়। সেখানে যোগদানের জন্য যাওয়ার আগে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি পুরাতন কর্মস্থলের। ছাড়পত্র ছাড়া সেখানে কাজে যোগদান করতে নাপেরে গত বুধবার ফিরে আসেন নীলফামারীতে। অফিসে তাঁর অনুপস্থিতে কর্মটারীরা জানান, তিনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) রয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। সেখানে গিয়ে জানা যায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে আছেন। সেখানে তাঁকে পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অস্বীকৃতি জানিয়ে উজেল্ াচত্তর ত্যাগ করেন তিনি।
এব্যাপারে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেত আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে সত্যতা পাই। ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে গত সাত দিন ধরে না পেয়ে জানতে পারি তিনি বদলী হয়ে দায়িত্ব বুঝে না দিয়েই মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলায় যোগদানের জন্য গেছেন। সরকারী অর্থ তছরুপ ও অনিয়মের বিষয়টি সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে ওই কর্মস্থলে যোগদান করতে না পেরে তিনি ১৮ জুন ফিরে আসেন নীলফামারীতে। এসময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদুল ইসলাম নিক্সন ও আরিফা সুলতানা লাভলীর উপস্থিতিতে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান। পরে ওই দিন (বুধবার) বিকেলে সোনালী ব্যাংক হিসাবের দুইটি খাতে এক লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৬ টাকা জমা করেন। ভ্যাটের নামে আত্মসাৎ করা এক লাখ ৭২ হাজার ৩০০ টাকা সহ অন্যান্য খাত থেকে আত্মসাৎ করা প্রায় দুই লাখ টাকা ফেরতরে প্রতিশ্রুতি দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমাকে দায়িত্ব নিয়ে টাকা আদায় করতে হচ্ছে।’ তিনি টাকা ফেরৎ দিয়ে নিজেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা বলেন, ‘গত ১৬ জুন ইউএনও সাহেবের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ১৭ জুন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিস ষ্টাফদের আমার অফিসে ডাকি । তাদের সাথে কথা বলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিৎ হই। এর পর আমি উপ পরিচালককে মৌখিক ভাবে অবগত করি। ২/১ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

তিনি আরো বলেন, হিটলারুজ্জামানের বদলীর আদেশের বিষয়টি আমি অনেক পড়ে জেনেছি। ওই আদেশে বলা ছিল তাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ১৬ জুনের মধ্যে তার বদলী হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। কিন্তু আমার জানা মতে তিনি সেটি করেন নাই।

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful