Templates by BIGtheme NET
আজ- মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০ :: ১২ কার্তিক ১৪২৭ :: সময়- ১২ : ২৫ অপরাহ্ন
Home / বিনোদন / দুই জগতের দুই মিশা

দুই জগতের দুই মিশা

অরূপ রতন চৌধুরী॥

mishaবাস্তব আর পর্দা। এ যেন বাইনারি জগত। দ্বিপক্ষীয় এ দুনিয়ার সন্ধিতেই যেন গড়ে ওঠে একজন সুদক্ষ শিল্পী। কারণ শিল্পী হতে হলে শুধু পর্দাতেই নয়বাইরেও হওয়া চাই প্রাণবন্তসামাজিক এবং বিশেষ একখানা চরিত্র। দেশের এমনই এক গুণী শিল্পী মিশা সওদাগর।

প্রথমেই বলে রাখিরুপালী পর্দায় ঝাঁকড়া চুলো এই লোকটাকে মদের বোতল হাতে এক পাল সাঙ্গপাঙ্গসহ ভিলেনগিরি করতে দেখা গেলেও বাস্তবে তিনি কিন্তু সিগারেট পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখেন না!

একদিন পড়ন্ত বিকালে নিজের ও স্ত্রীপুত্রদের বয়ানে অন্য এক মিশাকে খুঁজে বের করলো বাংলা ট্রিবিউন।

অাড্ডার শুরুতে মিশা বললেন, “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। মাঝে মাঝে শুটিংয়ের কারণে নামায কাযা হয়ে যায়কিন্তু পরে আদায় করে নেই। মনে প্রাণে বিশ্বাস করিআমি একজন মুসলমান।”

বলতে থাকেন, “আমার মধ্যে কোনও অহঙ্কার নেইকখনও মনে করি না যে আমার আরও অনেক নাম খ্যাতি টাকাপয়সা দরকার। সবসময় শুকরিয়া আদায় করিযা চেয়েছি এই জীবনে তার চেয়ে বেশিই পেয়েছি।”

ততক্ষণে অাড্ডায় যোগ দেয় মিশার দুই ছেলে এবং স্ত্রী মিতা। ছোট ছেলে ওয়াইস কার্নি হাসান জানায়যখন তার বাবাকে নায়কের হাতে মার খেতে দেখেভীষণ নাকি মায়া হয় তার!

অার মিশা জানানযখন কার্নি অারেকটু ছোট ছিলতখন নাকি এক রাতে খাবার টেবিলে বসে বাবাকে বলল– “বাবা তুমি আরও বেশি করে খাও,তাহলে তোমার শক্তি হবে। তখন তুমিও নায়ককে মারতে পারবে।”

ওয়াইস কার্নি হাসান একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে কেজি টুএ পড়ছে। অার বড় ছেলে ওয়ালিদ ও লেভেলএর পরীক্ষার্থী।

বড় ছেলে ওয়ালিদ ছোটবেলায় জানতে চাইতো, “বাবা তুমি নায়ক হও না কেন?” অার এই সময় এসে ওয়ালিদের ধারণা বদলে গেছে। তার চোখে তার বাবাই সিনেমার অাসল নায়ক।

ওয়ালিদ বলল, “বাবা অনেক নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেন। একসময় খারাপ লাগতো। অবশ্য এখন মনে হচ্ছে অামার বাবাই সত্যিকারের নায়ক।”

ওয়ালিদ জানায় তার বাবা যতই শুটিংয়ে থাকুক না কেনসময় করে ঠিকই পড়াশোনার খোঁজ নেন। রাতে বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। নামাজ পড়তেও উৎসাহিত করেন।

বাবার মতো সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছে হয় কিনা জানতে চাইলে ওয়ালিদ বলল, “অামার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।”

মিশা যোগ করলেন, “আমি চাই আমার ছেলেরা প্রথমে সৎ ও ধার্মিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। পড়াশোনা করে শিক্ষিত হোক। তারপর তারা যে কোনও সম্মানজনক পেশায় যাককিংবা অভিনয় করুকতাতে আমার আপত্তি নাই ।”

অার স্বামী হিসেবে মিশা কেমনজানতে চাইতেই মিশার স্ত্রী মিতা এক বাক্যে বললেন, “চমৎকার বন্ধু।”

মিতা জানানতারা সবাই পর্দার এই মন্দ মানুষটির কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মাঝে মাঝে মজার পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়।

একবার আমরা গাড়ি দিয়ে শাহজাহানপুর যাচ্ছি। এমন সময় একটি মেয়ে বলে উঠলো ওই দেখ গুণ্ডা মিশা যায়। শুনে মিশা খেপে গেল। কিন্তু পরেই আবার শান্ত হলযখন বুজতে পারলো আসলে মেয়েটি তাকে নয়গুণ্ডা বলেছে তার পর্দার চরিত্রকে” বলছিলেন মিতা।

আবার মিশা সওদাগরের সঙ্গে কোথাও গেলে যখন মানুষজন তাকে ঘিরে ছবি তুলতে চায়সেটাও তিনি উপভোগ করেন। পেশায় পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষিকা মিতা। কথায় কথায় জানালেন তারা একে অপরকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছেন।

অার মিশা বললেন, “আমার এই অর্জনের পেছনে স্ত্রীর অবদান সবচেয়ে বেশি। অভিনয় জীবন এবং পারিবারিক জীবনে সব জায়গায় তার উৎসাহ এবং সহযোগিতা থাকার কারণেই আজ আমি এত সফলতা পেয়েছি।”

পর্দার চরিত্র নিয়ে বললেন, “অামার অভিনীত চরিত্রগুলোর জন্য আমাকে অনেকে পেছন থেকে অনেক কিছু বলেন বা কটুক্তি করেন। সেই মানুষগুলোই আবার সামনে এসে আমার প্রসংশা করেন। প্রথমে এই জিনিসটা খুব গায়ে লাগত। কিন্তু এখন বুঝতে পারিএরা আসলে আমার অভিনীত ওই চরিত্রটিকে বলছেআমাকে নয়।”

মিশার আবির্ভাব হয় ১৯৮৬ সালের নতুন মুখ‘ নামের একটি অনুষ্ঠান দিয়ে। তবে শুরুর দিকে কিন্তু মিশা নায়কও ছিলেন১৯৯৩ সালে চেতনা‘ অমর সঙ্গী‘ নামে দুটি ছবিতে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। তারপর আমার ভালবাসা‘ দিয়ে চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম খলনায়ক হন। সেই থেকে তিনি অাজঅব্দি খলনায়কই রয়ে গেলেন।

 বাংলা ট্রিবিউন। ছবি তুলেছেনঅাসিফ রহমান খান

Social Media Sharing

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful